শীতে কাবু শ্রদ্ধার খুনি, এখুনি চাই সোয়েটার মাফলার, জুড়ছে ক্রেডিট কার্ডের বায়না
Aaftab Poonawala : শ্রদ্ধা মৃত্যুর মূল অভিযুক্ত আফতাবের শীত পোশাকের দাবি

নয়া ঘটনার জেরে খানিকটা হলেও শিরোনাম থেকে মুখ লুকিয়েছিল গত বছরের মর্মান্তিক শ্রদ্ধা হত্যা রহস্য। তবে সেই ঘা এখনও দগদগে। এখনও চলছে তদন্ত প্রক্রিয়া। সম্প্রতি সামনে এসেছে ডি.এন.এ টেস্টের রিপোর্ট, যাতে মিলে গিয়েছে শ্রদ্ধার পরিচয়। এরই মধ্যে নতুন বছরের শুরুর দিন আরও এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে দিল্লির রাজপথ। দিল্লির কাঞ্ঝাওয়ালা রোডের লাডপুর গ্রামের কাছে মাঝরাস্তায় একটি স্কুটিতে করে যাচ্ছিলেন বছর কুড়ির এক তরুণী। হঠাৎই একটি চার চাকা এসে ধাক্কা মারে সেই স্কুটিতে। ছিটকে পড়ে যান তরুণী। তবে ঘটনার এখানেই শেষ নয়, বরং বলা ভালো, সবে শুরু। এরপরই সেই ভয়াবহ দৃশ্য। যে গাড়িটির ধাক্কায় মেয়েটি পড়ে যায় সেই গাড়িটি চোখের নিমেষে ইউ টার্ন নিয়ে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে থাকেন তরুণীকে। প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ ওভাবেই ঘষটাতে ঘষটাতে মেয়েটিকে নিয়ে যায় ঘাতক গাড়ি। এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। আর রিসিভার মধ্যেই পুরোনো শ্রদ্ধা হত্যার গল্প আবার শিরোনাম দখল করছে।
ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট এর দিনকয়েক মাথাতেই জানা গিয়েছে, আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ হেফাজতে থাকা শ্রদ্ধা হত্যার মূল অভিযুক্ত আফতাব পুনাওয়ালা গত কালই আড়াইটে কাছে দাবি করেছে পুলিশ হেফাজত থেকে তার ডেবিট এবং ক্রেডিট কার্ডগুলি মুক্তি দেওয়ার জন্য। তার দাবি, পরিবারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই তার তাই শীতের জন্য গরম কাপড় কিনতে প্রয়োজন ওই কার্ডগুলো।
প্রসঙ্গত, এটি ১২ নভেম্বরের ঘটনা, দিল্লির শ্রদ্ধা মার্ডার কেসের মূল অভিযুক্ত আফতাব পুনাওয়ালাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপর থেকে নিত্যদিন নয়া মোড় নিচ্ছে তদন্ত প্রক্রিয়া। আফতাবের পলিগ্রফি, নর্কো টেস্টেরও রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনেছে পুলিশ। তা থেকে উঠে এসেছে আরও নানা কিছু। কিন্তু তাতেও নিষ্পত্তি হয়নি মামলার। এখনও তিহার জেলে আটক আফতাব।
এদিকে দেশে পারদ নিম্নমুখী। জাঁকিয়ে শীত পড়েছে রাজধানী শহরে। তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি। এরই মধ্যে অভিযুক্ত আফতাব তিহার জেলে কঠোর শীতে ভুগছে। এই মুহূর্তে শীতের জন্য পর্যাপ্ত পোশাক তার কাছে নেই, তাই নিত্যদিনের জিনিসপত্রের পাশাপাশি গরম কাপড় কেনার জন্য প্রয়োজন জরুরি তহবিলের। তাই আফতাবের আইনজীবী, অ্যাডভোকেট এমএস খান আদালতের কাছের তার ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ফেরত চেয়েছেন বলেই সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, পুলিশ আধিকারিকদের কাছেই পড়ে রয়েছে সেই সমস্ত কার্ড। তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার জেরে তার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছে পরিবার, ফলে এই মুহূর্তে আয়ের দ্বিতীয় কোনও উৎস নেই তার।
কিন্তু আফতাব যে ধরনের খুনি তার জন্য এই দাবি কি সত্যিই যুক্তিযুক্ত? উঠছে প্রশ্ন। যে নিজের প্রেমিকাকে খুন করে,৩৫ টুকরো করে সেই দেহ দিনের পর দিন ফ্রিজে জমিয়ে রেখেছিল সেই মানুষের সার্বিক অনুভুতিই তো প্রশ্নের মুখে! এখনও জানা যায়নি কার্ড ফেরত দেওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত কী হল! কেবল জানা গিয়েছে, শুক্রবার আবিরাল শুক্লার মহানগর হাকিম আদালত আফতাবের বিচার বিভাগীয় হেফাজত আরও চার দিন বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার আবারও তাকে আদালতে পেশ করা হবে।আফতাবের মতো নৃশংস খুনীরও দাবি থাকতে পারে। কিন্তু অবাক করছে, তার নিস্পৃহতা।
















