জিএসটির পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার ঘোষণা নির্মলার, কেন্দ্রের 'বঞ্চনা' থেকে অবশেষে মুক্তি বাংলার?

GST Compensation clearance Nirmala Sitaraman : রাজ্যগুলির দাবি মেনে নেওয়ার পথে পা বাড়ালেন নির্মলা সীতারামন। শীঘ্রই টাকা মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেন তিনি।

inscript
২ মিনিট
জিএসটির পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার ঘোষণা নির্মলার, কেন্দ্রের 'বঞ্চনা' থেকে অবশেষে মুক্তি বাংলার?

প্রশাসনিক মিটিং কিংবা রাজনৈতিক মিছিল – সব জায়গায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল একটাই। রাজ্যের বকেয়া টাকা কেন্দ্রীয় সরকার মেটাচ্ছে না। কেবল মমতা নয়, বিরোধীরাও একজোট হয়ে এই মর্মে বারবার বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। অন্যতম দাবি ছিল জিএসটি নিয়ে। জিএসটির ক্ষতিপূরণের বকেয়া টাকা শীঘ্রই মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরে। শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ছিল কেন্দ্রের জিএসটি কাউন্সিলের মিটিং। আর তারপরই রাজ্যগুলির সেই দাবি মেনে নেওয়ার পথে পা বাড়ালেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। রাজ্যগুলির জিএসটি বাবদ টাকা শীঘ্রই মিটিয়ে দেওয়া হবে, এমনটাই আশ্বাস দিলেন তিনি।

২০১৭ সালে জিএসটি আইন লাগু হয় ভারতে। তখনই বেশকিছু নির্দেশিকা সামনে আনে কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন এই ব্যবস্থায় রাজ্য সরকারের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ কমে যায়। সেই শুল্কের একটা অংশ পায় কেন্দ্র। তবে এর ফলে যে ক্ষতি হবে, তা পূরণ করে দেবে কেন্দ্রীয় প্রশাসন। বলা হয়েছিল, আইন লাগু হওয়ার প্রথম পাঁচ বছর এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ২০১৭ সালে যেহেতু জিএসটি আইন আসে, তাই ২০২২-২৩ অর্থবর্ষ অবধিই এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এমনটাই ছিল নিয়ম।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সেই ক্ষতিপূরণ নাকি এখনও পায়নি। এনিয়ে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস বারবার প্রতিবাদ জানিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ এনেছেন। কেবল বাংলা নয়, তামিলনাড়ু সহ বেশ কয়েকটি রাজ্য এই পাওয়া টাকা পায়নি। মমতার বক্তব্য, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটা রাজ্যের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা। তাহলে কেন কয়েকটি রাজ্যে এখনও বকেয়া রয়েছে এই টাকা। এর ফলে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ থমকে আছে বলেও দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার সুরে সুর মিলিয়ে অন্যান্য বিরোধী দলগুলিও সরব হয়েছে। সংসদ, লোকসভায় বহুবার বিতর্কও তৈরি হয়েছে এই বিষয় নিয়ে।

১৮ ফেব্রুয়ারির জিএসটি কাউন্সিলের মিটিংয়ের পর এবার সেই বকেয়া টাকাই মিটিয়ে দেওয়ার ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকার নিজের কোষাগার থেকে এই টাকা মিটিয়ে দিচ্ছে। মোট ১৬,৯৮২ কোটি টাকা দেওয়া হবে রাজ্যগুলিকে। বিরোধীদের দীর্ঘদিনের দাবি মিটিয়ে দেওয়া একাধারে রাজনৈতিক চাল বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন? কারণ ২০২৩ আর ২০২৪ সাল বিজেপির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবছর একাধিক রাজ্যে ভোট রয়েছে। আর ২০২৪-এ লোকসভা নির্বাচন। তার আগে জনমানসে ভাবমূর্তি বজায় রাখার চেষ্টা করবে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলই। বিজেপিও ইতিমধ্যেই সেই খেলায় নেমে পড়েছে। সেই ভোটের অঙ্ক মাথায় রেখেই কেন্দ্রীয় বাজেট তৈরি করা হয়েছে। বাংলা সহ বিরোধী রাজ্যগুলির দাবি মেনে নেওয়াও সেই কৌশলেরই অঙ্গ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আর বাংলা? পশ্চিমবঙ্গ তার বকেয়া টাকা পাচ্ছে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি কি এখনই মেনে নেওয়া হচ্ছে? উত্তর হচ্ছে, না। কেন? অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই টাকা ফেরতের ব্যাপারে একটি শর্ত সামনে রেখেছেন। যে রাজ্যগুলি এজি রিপোর্ট জমা দিয়েছে, তাদের বকেয়া টাকা শীঘ্রই মিটিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ এখনও সেই এজি রিপোর্ট জমা দেয়নি। প্রথম দু’বছরের রিপোর্ট জমা পড়লেও, পরবরতি তিন বছরেরটা এখনও সামনে আসেনি কেন্দ্রের। রাজ্যের বক্তব্য এই তিন বছরে ২৪০৯ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। নির্মলা জানিয়েছেন, এজি রিপোর্ট জমা দিলেই সেই টাকা দ্রুত বাংলাকে দিয়ে দেওয়া হবে। আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।