১৪৫০ কোটির বিমানবন্দর অযোধ্যাতে! রাম মন্দিরের আগেই যা যা ঘটাচ্ছে বিজেপি
Ayodhya Airport Narendra Modi: বিমানবন্দরটি নির্মাণের প্রথম পর্যায়েই এখনও অবধি প্রায় ১,৪৫০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

মূল ঘটনার আগে, অনেকক'টা ছোট ছোট ঘটনা দিয়ে একটা আবহ তৈরি হয়। আর যদি তা হয় রাজনৈতিক কোনও বিশেষ অধ্যায় তাতে আয়োজনের খামতি রাখে না সেই দল। রামমন্দিরের আগে শাসকদলের তোড়জোড় বলে দিচ্ছে নতুন বছরের শুরুতে অযোধ্যায় রামমন্দির উন্মোচন দেশ কাঁপিয়ে দেওয়া এক ঘটনা হতে চলেছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে রামমন্দিরের উদ্বোধনই বিজেপির মাস্টারস্ট্রোক। রামমন্দিরে রামের অভিষেক অনুষ্ঠানের আগে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৩০ ডিসেম্বর একটি বিমানবন্দর উদ্বোধন করতে চলেছেন। বিমানবন্দরের পাশাপাশি অযোধ্যায় পুনর্নির্মিত রেল স্টেশনেরও উদ্বোধন করবেন, একটি রোড শো এবং একটি জনসভায় ভাষণও দেবেন। এ এক মহা আয়োজন, নির্বাচনের ঘণ্টা বেজে গিয়েছে ইতিমধ্যেই।
মহাকাব্য রামায়ণের লেখক কিংবদন্তি কবি বাল্মীকির নামানুসারেই বিমানবন্দরটির নাম পরিবর্তন করে 'মহর্ষি বাল্মীকি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অযোধ্যাধাম' রাখা হয়েছে। অযোধ্যায় নবনির্মিত বিমানবন্দরটি এই মন্দির শহরের একটি প্রধান প্রবেশদ্বার হয়ে উঠতে চলেছে। বিমানবন্দরটি নির্মাণের প্রথম পর্যায়েই এখনও অবধি প্রায় ১,৪৫০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

৩০ ডিসেম্বর, ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস নতুন এই বিমানবন্দরে উদ্বোধনী বিমান অবতরণ করবে। এই দুই এয়ারলাইন্স ইতিমধ্যেই দিল্লি, মুম্বই এবং আহমেদাবাদ থেকে অযোধ্যার বিমান যাত্রা ঘোষণা করেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতেই শুরু হবে উড়ান। দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরুর মতো প্রধান শহরগুলি থেকে সরাসরি বিমান চালু হবে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আগে জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের জন্য ৮২১ একর জমি দিয়েছিল। ভারতের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করেছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Shaligram Stones Ayodhya Ram Mandir : পবিত্র এই শিলা খোদাই করেই নাকি মন্দিরের জন্য রাম-সীতার মূর্তি তৈরি করা হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে সেই কাজ শুরু হতে এখনও খানিক সময় লাগবে।

বিমানবন্দর সূত্রের খবর, অযোধ্যা শহরের এই নয়া মন্দিরের উন্মাদনাই বিমানবন্দরের নকশাতেও রয়েছে। নতুন বিমানবন্দরে রাম মন্দিরের গঠন, রামায়নের কাহিনিকেই গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরে অযোধ্যায় রামের প্রত্যাবর্তনের কাহিনির নির্যাসই মহর্ষি বাল্মীকি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অযোধ্যাধামের মূল ভিত্তি।
টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের ছাদটি বিভিন্ন উচ্চতার গম্বুজ দিয়ে সাজানো। পাশাপাশি, টার্মিনালটিতে রামায়ণ মহাকাব্যের মূল ঘটনাগুলির বিবরণের সজ্জাও রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কলোনেডের মধ্য দিয়ে হাঁটা ভ্রমণকারীদের এক ধর্মীয় অনুভূতির অভিজ্ঞতা দিতে রামের গল্প বর্ণনা করা হবে। টার্মিনালের কাচের সম্মুখভাগে অযোধ্যার প্রাসাদের পরিবেশকে পুননির্মিত করা হয়েছে।

৬,৫০০ বর্গ মিটার জুড়ে বিস্তৃত নতুন টার্মিনালে সবচেয়ে ব্যস্ত সময়ে ৬০০ যাত্রী থাকাতে পারবেন, বছরে ১০ লাখ যাত্রীকে পরিচালনা করতে প্রস্তুত এই নয়া বিমানবন্দর।
দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫০,০০০ বর্গ মিটার জুড়ে বিস্তৃত একটি নতুন টার্মিনাল বিল্ডিং নির্মাণ করা হবে, যাতে সবচেয়ে ব্যস্ত সময়ে ৩,০০০ যাত্রী এবং বার্ষিক ৬০ লাখ যাত্রীকে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এই ধাপে কোড E B-777 ধরনের বিমান অবতরণ ক্ষেত্রে, ট্যাক্সি যাতায়াতের পথ এবং অতিরিক্ত ১৮টি বিমান পার্কিং স্ট্যান্ড গড়া হবে। ৩,৭৫০ মিটার পর্যন্ত রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হবে।






