মানিকতলায় তৃণমূল কর্মীদের কিনতে চাইছে বিজেপি?

মানিকতলার বিজেপি প্রার্থী তৃণমূলের কর্মীদের কাছে সাহায্য চাইছেন। এবং মানবিক কারণে অনেক সময় তৃণমূল কর্মীরাই বিজেপি কর্মীদের হোর্ডিং লাগানো বা এনওসি পেতে সাহায্য করছে, ইনস্ক্রিপ্ট-কে বলেন শ্রেয়া পান্ডে।

inscript
৪ মিনিট
মানিকতলায় তৃণমূল কর্মীদের কিনতে চাইছে বিজেপি?

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে অন্যতম হট সিট মানিকতলা কেন্দ্র। ২০১১ সাল থেকে একটানা এখানে তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করেছে। কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শহরাঞ্চলে বিজেপির ভোট বেড়েছে। তার উপরে “পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার” স্লোগানে বাংলার ভোটে প্রচারে ঝড় তুলতে চাইছে গেরুয়া শিবির। ফলেই রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্য জুড়েই যখন পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে পদ্ম শিবির। ঘাসফুলের শক্তঘাঁটি মানিকতলাও কি হাতছাড়া হবে? এই প্রশ্নের আবহেই বিস্ফোরক দাবি মানিকতলা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পান্ডের। তৃণমূলের কর্মীদের কিনতে চাইছে বিজেপি; এমনই দাবি সাধন কন্যার।

মানিকতলায় এবার কাকা বনাম ভাইঝির লড়াই। তৃণমূল প্রার্থী করেছে সাধন পান্ডের মেয়ে শ্রেয়া পান্ডে-কে। অন্যদিকে উত্তর কলকাতার এই আসনে বিজেপি-র বাজি তৃণমূলের প্রাক্তনী তাপস রায়। বড়তলা বিধানসভা কেন্দ্র ছিল যখন, ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল টানা জাতীয় কংগ্রেসের প্রতীকে জয়লাভ করেছেন সাধন পান্ডে। ২০০১ এবং ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে জিতেছেন বাম আমলেও। এরপর মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হলে ২০১১ থেকে টানা ২০২১ সাল পর্যন্ত জয়লাভ করেছেন। ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যুর পর আসনটি বিধায়কশূন্য হয়ে যায়। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের সময়ই উপনির্বাচন হয় এই কেন্দ্রে। এবার তৃণমূল প্রার্থী করে সাধন-জায়া সুপ্তি পান্ডে-কে। এবং উল্লেখযোগ্যভাবে ২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের থেকে প্রায় ২০% বেশি ভোট পায় তৃণমূল। উপনির্বাচনে ৮৩,১১০ ভোট, বিজেপি ২০,৭৯৮ এবং সিপিএমের রাজীব মজুমদার পেয়েছিলেন ৯,৫০২ ভোট। তবে, সেবার বিজেপির প্রার্থী ছিলেন কল্যাণ চৌবে। ছাব্বিশের নির্বাচনে তাপস রায় তৃণমূলকে কঠিন লড়াই দেবেন বলেই মনে করেছ রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
স এ সজল না কি সায়ন্তিকা? কার দখলে বরানগর?

Baranagar assembly election 2026: ১৯৫২ থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় বরানগর ছিল জ্যোতি বসুর নির্বাচনী কেন্দ্র। ১৯৭৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত এই কেন্দ্র বামেদের হাতছাড়া করা ছিল অসম্ভব।

তাপস রায় এবং পান্ডে পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ছাত্রাবস্থা থেকেই একসঙ্গে রাজনীতি করেছেন সাধন পান্ডে এবং তাপস রায়। কংগ্রেস থেকে দুজনেই তৃণমূলে যোগ দেন পরবর্তীকালে। সুপ্তি পান্ডে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁদের পারিবারিক সম্পর্ক এতই গভীর যে তাঁকে বাপের বাড়ি থেকে নিয়ে আসার জন্য তাপস রায়কে পাঠাতেন সাধন পান্ডে। শ্রেয়া পান্ডেও ইনস্ক্রিপ্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “কাকা-ভাইজির সম্পর্ক ঠিক আছে। আমার কাকা আসলে ভালো মানুষ। খারাপ তো বিজেপি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি তৃণমূল কর্মীদের কেনার চেষ্টা করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “কৃষ্ণ” নামে এক কর্মীকে একটি ফ্ল্যাট এবং একটি দামি গাড়ি— যেমন সুইফট ডিজায়ার বা ইনোভা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছে। শুধু অভিযোগেই থেমে থাকেননি তিনি; তাঁর দাবি, এই প্রস্তাবের অডিও ও ভিডিও প্রমাণও তাঁর কাছে রয়েছে।

এছাড়া তিনি বলেন, মানিকতলার বিজেপি প্রার্থী তৃণমূলের কর্মীদের কাছে সাহায্য চাইছেন। এবং মানবিক কারণে অনেক সময় তৃণমূল কর্মীরাই বিজেপি কর্মীদের হোর্ডিং লাগানো বা এনওসি পেতে সাহায্য করছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন কার দিকে ঝুঁকছে পাল্লা? কী বলছে সমীক্ষা?

West Bengal Election 2026: ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কি ফের জিতবে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস, নাকি ঘুরে দাঁড়াবে ভারতীয় জনতা পার্টি? সমীক্ষা কি বলছে—তৃণমূল এগিয়ে, নাকি লড়াই টানটান? ভোটের আগে জনমত কতটা বদলাতে পারে?

এই কেন্দ্রটিতে বামফ্রন্টের একসময়ের শক্ত অবস্থান থাকলেও গত দুই দশকে তৃণমূলের দাপটই বেশি চোখে পড়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি এখানে সংগঠন বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যা এই নির্বাচনে লড়াইকে আরও ত্রিমুখী ও তীব্র করে তুলেছে। তবে, শ্রেয়া পান্ডে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানাচ্ছেন, তিনিই জিতবেন। কারণ তাঁর বাবা এই কেন্দ্রে নয়বার জয়লাভ করেছেন। মানুষের জন্য কাজ করেছেন, যা তাঁকে নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে এগিয়ে রাখছে। অন্যদিকে আবার তাপস রায় দুঁদে রাজনীতিবিদ। মানিকতলা-কে হাতের তালুর মতো চেনেন। তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী ছিলেন, বরানগরের বিধায়ক ছিলেন। তাই, ভোটের লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই তিনিও। এখানে একপ্রকার প্রেস্টিজ ফাইট— নবীন বনাম প্রবীণের লড়াই।

গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের শহরাঞ্চলে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস-এর তুলনায় বেশ কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রাজ্যের ১২১টি পুরসভার মধ্যে ৬৯টিতেই বিজেপি লিড পেয়েছে, যেখানে ধুলিয়ান ও বহরমপুর পুরসভায় এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, এবং বাকি ৫১টি পুরসভা এলাকায় এগিয়ে তৃণমূল। গ্রামীণ অঞ্চলে তৃণমূলের প্রভাব বজায় থাকলেও উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—শহর ও পুর এলাকায় বিজেপির সমর্থন তুলনামূলকভাবে বেড়েছে বলেই এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত করছে। সামগ্রিকভাবে রাজ্যের ৫০ শতাংশেরও বেশি পুরসভা এলাকায় বিজেপির এই এগিয়ে থাকা রাজনৈতিক মহলকে ভাবাচ্ছে ২৬-এর বিধানসভার ফলাফল নিয়ে। এবং উল্লেখযোগ্যভাবে, কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪৫টিতে বিজেপি লিড পেয়েছে এবং ২টি ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে সিপিএম; এমনকি উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার একাধিক মেয়র পারিষদ সদস্য ও বরো চেয়ারম্যানদের ওয়ার্ডেও তৃণমূলের তুলনায় বিজেপির ভোট বেশি পাওয়া গেছে। যদিও SIR-এর কারণে বিজেপি অনেকটাই ব্যাকফুটে বলে মনে রাজনৈতিক করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। বিপুল সংখ্যক মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায়, নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কায় তাঁরা বিজেপির উপর ক্ষুব্ধ। বৈধ ভারতীয়রা নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে গিয়ে লম্বা লাইন দিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন, গণদেবতা তাই কী সিদ্ধান্ত নেবেন; সেদিকেই নজর ভোটের কারবারিদের।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।