মানিকতলায় তৃণমূল কর্মীদের কিনতে চাইছে বিজেপি?
মানিকতলার বিজেপি প্রার্থী তৃণমূলের কর্মীদের কাছে সাহায্য চাইছেন। এবং মানবিক কারণে অনেক সময় তৃণমূল কর্মীরাই বিজেপি কর্মীদের হোর্ডিং লাগানো বা এনওসি পেতে সাহায্য করছে, ইনস্ক্রিপ্ট-কে বলেন শ্রেয়া পান্ডে।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে অন্যতম হট সিট মানিকতলা কেন্দ্র। ২০১১ সাল থেকে একটানা এখানে তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করেছে। কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শহরাঞ্চলে বিজেপির ভোট বেড়েছে। তার উপরে “পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার” স্লোগানে বাংলার ভোটে প্রচারে ঝড় তুলতে চাইছে গেরুয়া শিবির। ফলেই রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্য জুড়েই যখন পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে পদ্ম শিবির। ঘাসফুলের শক্তঘাঁটি মানিকতলাও কি হাতছাড়া হবে? এই প্রশ্নের আবহেই বিস্ফোরক দাবি মানিকতলা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পান্ডের। তৃণমূলের কর্মীদের কিনতে চাইছে বিজেপি; এমনই দাবি সাধন কন্যার।
মানিকতলায় এবার কাকা বনাম ভাইঝির লড়াই। তৃণমূল প্রার্থী করেছে সাধন পান্ডের মেয়ে শ্রেয়া পান্ডে-কে। অন্যদিকে উত্তর কলকাতার এই আসনে বিজেপি-র বাজি তৃণমূলের প্রাক্তনী তাপস রায়। বড়তলা বিধানসভা কেন্দ্র ছিল যখন, ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল টানা জাতীয় কংগ্রেসের প্রতীকে জয়লাভ করেছেন সাধন পান্ডে। ২০০১ এবং ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে জিতেছেন বাম আমলেও। এরপর মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হলে ২০১১ থেকে টানা ২০২১ সাল পর্যন্ত জয়লাভ করেছেন। ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যুর পর আসনটি বিধায়কশূন্য হয়ে যায়। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের সময়ই উপনির্বাচন হয় এই কেন্দ্রে। এবার তৃণমূল প্রার্থী করে সাধন-জায়া সুপ্তি পান্ডে-কে। এবং উল্লেখযোগ্যভাবে ২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের থেকে প্রায় ২০% বেশি ভোট পায় তৃণমূল। উপনির্বাচনে ৮৩,১১০ ভোট, বিজেপি ২০,৭৯৮ এবং সিপিএমের রাজীব মজুমদার পেয়েছিলেন ৯,৫০২ ভোট। তবে, সেবার বিজেপির প্রার্থী ছিলেন কল্যাণ চৌবে। ছাব্বিশের নির্বাচনে তাপস রায় তৃণমূলকে কঠিন লড়াই দেবেন বলেই মনে করেছ রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Baranagar assembly election 2026: ১৯৫২ থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় বরানগর ছিল জ্যোতি বসুর নির্বাচনী কেন্দ্র। ১৯৭৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত এই কেন্দ্র বামেদের হাতছাড়া করা ছিল অসম্ভব।
তাপস রায় এবং পান্ডে পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ছাত্রাবস্থা থেকেই একসঙ্গে রাজনীতি করেছেন সাধন পান্ডে এবং তাপস রায়। কংগ্রেস থেকে দুজনেই তৃণমূলে যোগ দেন পরবর্তীকালে। সুপ্তি পান্ডে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁদের পারিবারিক সম্পর্ক এতই গভীর যে তাঁকে বাপের বাড়ি থেকে নিয়ে আসার জন্য তাপস রায়কে পাঠাতেন সাধন পান্ডে। শ্রেয়া পান্ডেও ইনস্ক্রিপ্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “কাকা-ভাইজির সম্পর্ক ঠিক আছে। আমার কাকা আসলে ভালো মানুষ। খারাপ তো বিজেপি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি তৃণমূল কর্মীদের কেনার চেষ্টা করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “কৃষ্ণ” নামে এক কর্মীকে একটি ফ্ল্যাট এবং একটি দামি গাড়ি— যেমন সুইফট ডিজায়ার বা ইনোভা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছে। শুধু অভিযোগেই থেমে থাকেননি তিনি; তাঁর দাবি, এই প্রস্তাবের অডিও ও ভিডিও প্রমাণও তাঁর কাছে রয়েছে।
এছাড়া তিনি বলেন, মানিকতলার বিজেপি প্রার্থী তৃণমূলের কর্মীদের কাছে সাহায্য চাইছেন। এবং মানবিক কারণে অনেক সময় তৃণমূল কর্মীরাই বিজেপি কর্মীদের হোর্ডিং লাগানো বা এনওসি পেতে সাহায্য করছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
West Bengal Election 2026: ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কি ফের জিতবে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস, নাকি ঘুরে দাঁড়াবে ভারতীয় জনতা পার্টি? সমীক্ষা কি বলছে—তৃণমূল এগিয়ে, নাকি লড়াই টানটান? ভোটের আগে জনমত কতটা বদলাতে পারে?
এই কেন্দ্রটিতে বামফ্রন্টের একসময়ের শক্ত অবস্থান থাকলেও গত দুই দশকে তৃণমূলের দাপটই বেশি চোখে পড়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি এখানে সংগঠন বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যা এই নির্বাচনে লড়াইকে আরও ত্রিমুখী ও তীব্র করে তুলেছে। তবে, শ্রেয়া পান্ডে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানাচ্ছেন, তিনিই জিতবেন। কারণ তাঁর বাবা এই কেন্দ্রে নয়বার জয়লাভ করেছেন। মানুষের জন্য কাজ করেছেন, যা তাঁকে নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে এগিয়ে রাখছে। অন্যদিকে আবার তাপস রায় দুঁদে রাজনীতিবিদ। মানিকতলা-কে হাতের তালুর মতো চেনেন। তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী ছিলেন, বরানগরের বিধায়ক ছিলেন। তাই, ভোটের লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই তিনিও। এখানে একপ্রকার প্রেস্টিজ ফাইট— নবীন বনাম প্রবীণের লড়াই।
গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের শহরাঞ্চলে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস-এর তুলনায় বেশ কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রাজ্যের ১২১টি পুরসভার মধ্যে ৬৯টিতেই বিজেপি লিড পেয়েছে, যেখানে ধুলিয়ান ও বহরমপুর পুরসভায় এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, এবং বাকি ৫১টি পুরসভা এলাকায় এগিয়ে তৃণমূল। গ্রামীণ অঞ্চলে তৃণমূলের প্রভাব বজায় থাকলেও উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—শহর ও পুর এলাকায় বিজেপির সমর্থন তুলনামূলকভাবে বেড়েছে বলেই এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত করছে। সামগ্রিকভাবে রাজ্যের ৫০ শতাংশেরও বেশি পুরসভা এলাকায় বিজেপির এই এগিয়ে থাকা রাজনৈতিক মহলকে ভাবাচ্ছে ২৬-এর বিধানসভার ফলাফল নিয়ে। এবং উল্লেখযোগ্যভাবে, কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪৫টিতে বিজেপি লিড পেয়েছে এবং ২টি ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে সিপিএম; এমনকি উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার একাধিক মেয়র পারিষদ সদস্য ও বরো চেয়ারম্যানদের ওয়ার্ডেও তৃণমূলের তুলনায় বিজেপির ভোট বেশি পাওয়া গেছে। যদিও SIR-এর কারণে বিজেপি অনেকটাই ব্যাকফুটে বলে মনে রাজনৈতিক করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। বিপুল সংখ্যক মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায়, নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কায় তাঁরা বিজেপির উপর ক্ষুব্ধ। বৈধ ভারতীয়রা নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে গিয়ে লম্বা লাইন দিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন, গণদেবতা তাই কী সিদ্ধান্ত নেবেন; সেদিকেই নজর ভোটের কারবারিদের।





