প্রেমের দিনে চুটিয়ে বিক্রি হল মোমবাতি, কন্ডোম, 'খেলা'-র যে ইঙ্গিত দিল ডেলিভারি সংস্থা
Strong Condom Sales on Valentines Day : ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের সঙ্গে সুরক্ষিত, অবাধ যৌনতাকেই রাস্তা হিসেবে বেছে নিয়েছেন অধিকাংশ মানুষ!

বেশ কয়েকটা দিন হয়ে গেল, ভালোবাসার মুহূর্ত পেরিয়েছে। কিন্তু প্রেমের মরসুম কি এত সহজে ফুরিয়ে যায়? বাঙালির সরস্বতী পুজো এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি, এই দুটো দিন এলেই জেগে ওঠেন প্রেমিক-প্রেমিকারা। রিংটোনে রিংটোনে বেজে ওঠে ‘বসন্ত এসে গেছে’। কয়েকদিন আগেই পেরিয়ে যাওয়া ভ্যালেন্টাইনস ডে, অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারিতেও তার অন্যথা হয়নি। গোলাপ, টেডি বিয়ার, চকোলেটের সারি পেরিয়ে ভালোবাসায় মেতে ওঠে গোটা ভারত। প্রেমের দিনে ঠিক কতটা ‘ভয়ংকর খেলা’ হল দেশজুড়ে? সম্প্রতি সেই সমীক্ষাই উঠে এল নেট মাধ্যমে। আর তা দেখে কার্যত হতবাক সবাই।
গোলাপ হোক বা চকোলেট, ভ্যালেন্টাইনস ডে-র সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিভিন্ন বস্তু। ১৪ ফেব্রুয়ারির দিন কেবল দোকান বাজার নয়, অনলাইনেও অজস্র মানুষ প্রিয়জনের জন্য বিশেষ উপহার অর্ডার করেন। সেই পরিসংখ্যানই প্রত্যেকবার উঠে আসে। প্রসিদ্ধ ডেলিভারি অ্যাপ সংস্থা ‘ব্লিঙ্কিট’-এও (Blinkit) প্রতিবছরই প্রচুর অর্ডার আসে। ভ্যালেন্টাইনস ডে, অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারির দিনও তাদের অ্যাপে অজস্র অর্ডার আসে। ঠিক কী কী জিনিস অর্ডার হয়েছে? সেই পরিসংখ্যান দিতে গিয়েই অন্য একটি ছবি সামনে আনলেন ‘ব্লিঙ্কিট’-এর কর্ণধার আলবিন্দর ধিন্দসা। তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, ভ্যালেন্টাইনস ডে-র দিন গোটা ভারতে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে কন্ডোম আর মোমবাতি! ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের সঙ্গে সুরক্ষিত, অবাধ যৌনতাকেই রাস্তা হিসেবে বেছে নিয়েছেন অধিকাংশ মানুষ! তেমনটাই বলছেন আলবিন্দর।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পরিসংখ্যান রাখেন ব্লিঙ্কিটের কর্ণধার। প্রমাণ হিসেবে রাখেন বেশকিছু গ্রাফ। সেখানে দেখা যাচ্ছে, অন্যান্য দিন কন্ডোম ও মোমবাতি বিক্রির হার যা থাকে, ভ্যালেন্টাইনস ডে-র দিন সেই গ্রাফ এক ঝটকায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। আলবিন্দরের বক্তব্য, বিশেষ করে দুপুরের পর থেকেই কন্ডোম বিক্রির গ্রাফটি বেড়ে যায় আরও। সেইসঙ্গে বিশেষ ওই দিনটিতে বাড়তে থাকে মোমবাতির বিক্রিও। এসবের পাশাপাশি তালিকায় জায়গা করে নেয় আরও একটি জিনিস। পারফিউম বা সুগন্ধি। অন্যান্য সময়ের থেকে পারফিউম বিক্রির পরিমাণও বেশ খানিকটা বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে পুরুষদের ডিওডরেন্ট বিক্রির সংখ্যা বেশ বেশি।
আলবিন্দর ধিন্দসা আরও জানিয়েছেন, ভ্যালেন্টাইনস ডে-র দুপুরে আরও একটি প্রবণতা দেখা গিয়েছে। সাধারণত যখন প্রয়োজনীয় জিনিস অর্ডার করার থাকে, মানুষ নিজের মোবাইল বা কম্পিউটার থেকেই অনলাইনে সেটি করে দেয়। নিজের কাজটি নিজেই সম্পূর্ণ করে। কিন্তু ভ্যালেন্টাইনস ডে-র দুপুরের পর একটু অন্য ছবিই দেখা গেল। অন্তত ৩০ শতাংশ অর্ডার অন্য কারোর জন্য করা হয়েছে।
যাবতীয় পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়ে আরও একটি জিনিস বলাই যায়। যৌনতা অত্যন্ত সাধারণ, প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। সমস্ত ট্যাবু কাটিয়ে ভারতীয়রা যে সুরক্ষিত যৌন সম্পর্কের কথা ভাবছেন, সেদিকে যাচ্ছেন, কন্ডোম বিক্রির এমন হিড়িক সেই কথাই বলছে। যৌনসুখ অনুভব করো, কিন্তু সুরক্ষিত উপায়ে করো – নানা জায়গায় নানা সময় এই কথাটাই বলা হয়েছে। প্রেমের দিনে কন্ডোম বিক্রির এমন বহর সেই সুরক্ষিত যৌনতার দিকেই ইঙ্গিত করে। যৌনতা নিয়ে চলতি ট্যাবুও যে কাটাচ্ছে নতুন প্রজন্ম, সেটাও বলাই যায়।















