স্নায়ুজনিত সমস্যায় ওষুধের দোসর ‘পেসমেকার’?
Brain Pacemaker: মস্তিষ্কের কোনো অংশ যদি ঠিক ভাবে কাজ না করে তখন এই যন্ত্রটি কৃত্রিমভাবে সেই কাজ সম্পন্ন করে।
পেসমেকারের সঙ্গে হার্ট শব্দটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। অন্তত, আমজনতা পেসমেকার বললে হার্টের রুগ্নদশার কথাই আগে ভেবে বসেন। স্বাভাবিক অভ্যেস। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসা শাস্ত্রের অমোঘ এক আবিষ্কার ‘ব্রেন পেসমেকার’। সহজ করে বললে, কাজ একই স্রেফ অবস্থানের বদল।
সাধারণত, মানুষের হার্টের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি যখন কোনো কারণে কমে আসে তখন যান্ত্রিকভাবে হার্টের সচলতা বজায় রাখতে পেসমেকার ব্যবহার করা হয়। ব্রেন পেসমেকারও তাই, মস্তিষ্কের কোনো অংশ যদি ঠিক ভাবে কাজ না করে তখন এই যন্ত্রটি কৃত্রিমভাবে সেই কাজ সম্পন্ন করে।
মূলত পারকিনসন্স, ডিসটোনিয়া, ট্রেমর বা এপিলেপ্সির মতো স্নায়ুজনিত রোগে মস্তিষ্কের সংশ্লিষ্ট অংশে ইলেকট্রিক্যাল ডিসচার্জ অপরিমিত হওয়ায় এই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। ব্রেন পেসমেকারের কৃত্রিম ইলেকট্রক্যাল তরঙ্গ মূলত মস্তিষ্কের সেই নির্দিষ্ট অংশটিকে উদ্দীপিত করে এসমূহ সমস্যাকে নিয়েন্ত্রিত করে। যা অবশ্যই ওষুধের তুলনায় কার্যকরী। একটা সময় পর ওষুধ জবাব দিলে কিংবা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে তার কোনো পার্শপ্রতিক্রিয়া হলে, এই ব্রেন পেসমেকারই তখন একমাত্র ভরসা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Social Jet Lag: চিকিৎসকদের মতে, বায়োলজিক্যাল ক্লকের এই ছন্দপতন দীর্ঘমেয়াদী হলেই আপনি সোশ্যাল জেট ল্যাগ দ্বারা আক্রান্ত হবেন। বিঘ্নিত হবে আপনার স্নান-খাওয়া-ঘুম, কাজকর্ম, বিশ্রাম এমনকি ব্যক্তিগত সময়ের স্বাভাবিক প্রবাহ।
‘ব্রেন পেসমেকার’ শব্দবন্ধটি আমাদের প্রাত্যহিক লব্জে খুব একটা পরিচিত না হলেও, এর প্রাদুর্ভাব ১৯৮৭ সালে, ফরাসি নিউরোসার্জেন আলিম লুই বেনাবিড ( Alim-Louis benabid )-এর হাত ধরে। পারকিনসন্সের চিকিৎসা করতে গিয়ে আলিম লুই বেনাবিড প্রথম ডিপ ব্রেন স্টিমুলেশন পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি দেখেন, মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে বৈদ্যুতিক তরঙ্গের প্রয়োগ (100Hz) শরীরের কম্পন বা কাঁপুনি কমাতে সক্ষম।
পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে, এসেনশিয়াল ট্রেমর (হাত বা শরীরের যেকোনো অংশের অনিয়ন্ত্রিত কাঁপুনি), ২০০২ পার্কিনসন্স ডিজিজ, ২০০৩ ডাইস্টোনিয়া (পেশিতে অস্বাভাবিক খিঁচুনি), ২০০৯ ওসিডি অর্থাৎ অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার (মানসিক ব্যাধি) এবং
২০১৮ এপিলেপ্সি বা মৃগী রোগের চিকিৎসায় ‘ব্রেন পেসমেকারে'র ব্যবহার পাকাপাকি স্বীকৃতি পায়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Reels Addiction: অতিরিক্ত রিলস দেখার প্রবণতা মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিনের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটায়। ফল, অমনোযোগী, ঘুমে সমস্যা, মানসিক অবসাদ, শর্ট টার্ম মেমোরি লস বা স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিশক্তি হ্রাস।
কীভাবে কাজ করে 'ব্রেন পেসমেকার'?
হার্ট পেসমেকারের মতো ব্রেন পেসমেকারও চেস্ট ওয়ালের ভিতর বসানো হয়। সেখান থেকে সূক্ষ্ম ইলেকট্রোড বা ইলেকট্রিকের তার গিয়ে পৌঁছয় মস্তিষ্কের সেই সমস্ত অংশে যেখানে ইলেকট্রক্যাল ডিসচার্জ কম। এই পর্যন্ত সুসম্পন্ন হলে, পেসমেকার কর্তৃক ইলেকট্রক্যাল ইমপাল্স মস্তিষ্কের বিঘ্নিত অংশকে উদ্দীপিত করে। ফল, অনিয়ন্ত্রত ব্রেন নার্ভের ‘নিয়ন্ত্রণ’। এই পদ্ধতি ‘ডিপ ব্রেন স্টিমুলেশন’ (ডিবিএস) নামেও পরিচিত। প্রসঙ্গত, ৭০ বছর বয়সি কোনো রোগীর ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির প্রয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ, দাবি চিকিৎসকদের।
কেন চর্চায়?
ব্রেন পেসমেকারের ধারনা নতুন নয়। দশকের পর দশক ধরে এই বিষয়ে নিরন্তর গবেষণা চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে, স্নায়ুজনিত রোগের সংখ্যা বিশ্বজুড়ে বেড়েই চলেছে। শুধু ভারতেই প্রতি বছর প্রায় ৫০ লক্ষের বেশি মানুষ পারকিনসন্স, এপিলেপ্সি, ট্রেমরের মতো নার্ভের সমস্যায় ভোগেন। প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ ভারতে প্রতি বছর পারকিনসন্সে আক্রান্ত হন (এস এন্ড এস ইনসাইডার স্ট্রাটেজি এন্ড স্টেটস রিপোর্ট, ইন্ডিয়া ব্রেন ইমপ্ল্যন্ট মার্কেট, হরাইজন রিসার্চ রিপোর্ট)। ২০২৫ সালে সমগ্র বিশ্বে প্রায় ৮৫ হাজার রোগীর শরীরে ব্রন পেসমেকার বসানো হয়। ভারতের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ৮ থেকে ১০ হাজার, বছরে। ভারতে বর্তমানে একটি ব্রেন পেসমেকার সার্জারির খরচ ১৫ থেকে ১৮ লক্ষ।
উল্লেখ্য, আলঝাইমার্স, অটিজম/ADHD এবং ক্রনিক নিউরোপ্যাথিক পেইনের ক্ষেত্রেও এই ব্রেন পেসমেকার ব্যবহারের একটা চেষ্টা শুরু হয়েছে, যদিও বিষয়টি এখনও গবেষণাধীন।






