মদের চেয়েও ক্ষতিকর রিলস! নেশায় বুঁদ ‘জেন-জি’র কমছে ধৈর্য, বাড়ছে অবসাদ

Reels Addiction: অতিরিক্ত রিলস দেখার প্রবণতা মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিনের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটায়। ফল, অমনোযোগী, ঘুমে সমস্যা, মানসিক অবসাদ, শর্ট টার্ম মেমোরি লস বা স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিশক্তি হ্রাস।

inscript
৫ মিনিট
মদের চেয়েও ক্ষতিকর রিলস! নেশায় বুঁদ ‘জেন-জি’র কমছে ধৈর্য, বাড়ছে অবসাদ

‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন রিলস দেখে চলি’— ইদানিং এটাই যেন জেন-জি’র বেদবাক্য। রিলসে বিভোর একটা গোটা তরুণ প্রজন্মই এখন এই মায়াজালে আবদ্ধ— ‘রিলস’। উঠতে-বসতে, খেতে, শুতে এমনকি কাজের ফাঁকেও রিলস স্ক্রল এখন শ্বাস-প্রশ্বাসের আনুষঙ্গিক একটা বিষয়। ওটা ছাড়া বাঁচা যায় না। চিকিৎসকদের দাবি, আর পাঁচটা নেশার সঙ্গে এর তুলনা চলে অনায়াসেই।

আপাতদৃষ্টিতে রিলস বিনোদনের অঙ্গ, তবে রিলস-সাগরে সর্বক্ষণ ডুব দেওয়ার অভ্যেসকে অনেকেই শুধু ‘সময়ের অপচয়’ বলেই এড়িয়ে যায়। কিন্তু বিষয়টা কি আদতে এটুকুই! স্নায়ুবিজ্ঞানীদের বিভিন্ন সমীক্ষা কিন্তু অন্য কথা বলছে। তাঁদের বক্তব্য, মদ-জুয়া কিংবা ড্রাগস, ‘রিলসে আসক্তি’ এদের চাইতে কম ক্ষতিকর কিছু নয়। নিউরোইমেজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন ‘পির রিভিউড স্টাডি’(peer-reviewed study)-র, সমীক্ষা বলছে, যে কোনো ধরণের মাদকাসক্তি কিংবা জুয়া জাতীয় যেকোনো খেলাই আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিন নামক দুটি রাসায়নিক তরলের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, যা আমাদের তাৎক্ষণিক আনন্দের অনুভূতি প্রদান করে, মাথায় চলতে থাকা চাপা উদ্বেগগুলি কমিয়ে দেয়। ঠিক একই ঘটনা ঘটে রিলস দেখার সময়ও।

এ প্রসঙ্গে হয়ত অনেকেই হৈহৈ-রৈরৈ করে তেড়ে এসে বলতে পারেন, ‘যে রিলস তো আর মাদক নয় কিংবা রিলসে যদি ক্লান্তি ঘোচে তাতে ক্ষতি কী! সময় বাদে শরীরের ক্ষতি তো নেই।’— ক্ষতি আছে। অতিরিক্ত রিলস দেখার প্রবণতা মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিনের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটায়। ফল, অমনোযোগী, ঘুমে সমস্যা, মানসিক অবসাদ, শর্ট টার্ম মেমোরি লস বা স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিশক্তি হ্রাস।

কী ঘটে আসলে?

ধরুন, আপনি এমন কোনো কাজ করলেন যেটা করে আপনার ভালো লাগছে। যেকোনো কাজ- কারোর একটা সিনেমা দেখে মন ভালো হয়, কেউ আবার তাঁর পছন্দের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। কেউ গেম খেলেন আবার কেউ কেউ সিগারেটে সুখটান দিয়ে কিংবা অ্যালকোহলেই জীবনের উদ্বেগ ভোলাতে ব্যস্ত। এই সমস্ত ক্ষেত্রেই আপনার ভালো অনুভূতি হয় কারণ, সেসময় আপনার মস্তিষ্ক ডোপামিন ও সেরোটোনিন নিঃসরণ করে। এর মধ্যে ডোপামিন মুখ্য, যা আপনার আনন্দ অনুভূত হওয়ার অন্যতম কারণ। এখানে ডোপামিনের ভূমিকা একটি নিউরো ট্রান্সমিটারের মতো, যা আপনাকে বোঝায় ‘আপনার ভালো লাগছে’।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রিলস দেখছেন সারাক্ষণ! ইনস্টাগ্রাম রিলসের ভয়াবহ দিক জেনে আঁতকে উঠছে বিশ্ব

Instagram Reels Addiction : ২০২৩ সালের জানুয়ারি নাগাদ, ভারতে ২৪ কোটি (২৪,৩৬,৭২,০০০) ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী ছিল, যা আমাদের দেশের জনসংখ্যার ১৬.৯ শতাংশ।

আর একটু সহজ করে বলি, ধরুন, আপনি একটা গেম খেলছেন এবং সেই গেমটায় আপনি জিতলেন। এতে আপনার মস্তিষ্ক একটা রিওয়ার্ড পেল। ডোপামিন নিঃসরণ হলো, আপনি খুশি হলেন। এক্ষেত্রে আপনি যদি হেরে যেতেন তাহলে ডোপামিন নিঃসরণ হতো না কিংবা, কম হতো অর্থাৎ এই ডোপামিনই যদি মাত্রাতিরিক্ত কিংবা কম নিঃসরণ হয় তাহলে তা আপনাকে হতাশা দেবে। মোদ্দাকথা, মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ না খুব বেশি ভালো না খুব কম। একটা ভারসাম্য জরুরি।

রিলসে বুঁদ জেন-জি

কখন সেটা আসক্তিতে পরিণত হয় ?

একই কথা, আপনি কোনো কাজ করলেন এবং দেখলেন সেই নির্দিষ্ট কাজটা করে আপনার ভালো লাগছে। ধরুন, আপনি গেমটা খেললেন এবং তাতে বহুবার জিতলেন। আপনার ভালো লাগছে। এবার আপনার অবচেতন মন আপনাকে বোঝালো এই কাজটাতে আপনি ‘খুশি’। অপনার মস্তিষ্ক বারবার রিওয়ার্ড পাচ্ছে , সঙ্গে ডোপামিন নিঃসরণও বাড়ছে। এই প্রক্রিয়াটিকে বলে 'ইউফোরিয়া'। এবার, ঠিক যে মুহূর্তে আপনার মস্তিষ্ক রিওয়ার্ডে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে, সেই মুহূর্তে ক্রমাগত ডোপামিন নিঃসরণে মস্তিষ্ককে কাজে লাগাচ্ছে। যত বেশি ডোপামিন তত বেশি নিউরো সংযুক্তি, ফল আপনার মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ ‘হাইজ্যাক’। এখানে হাইজ্যাক অর্থ, ওই একই আনন্দ উপলব্ধির জন্য আপনার মধ্যে তৈরি হওয়া তীব্র লালসা। কেউ গেম খেললে বারবার গেম খেলবেন, কেউ রিলস দেখলে বারবার রিলস দেখবেন আবার কারোর মদে স্ট্রেস কমলে, উদ্বেগ কমাতে তিনি বারবার মদেই ঝুঁকবেন। অর্থাৎ, আসক্তি বাড়বে।

কেন রিলসে ঝোঁক বেশি?

রিলস ছোট, ৩০-৬০ সেকেন্ড। চিত্তবিনোদক ,মনোগ্রাহী, আকর্ষক। ‘ইনফোটেইনমেন্টের’ ডিপো। রোজনামচা জীবনে মানুষের ব্যস্ততা প্রচুর, ধৈর্য কম। তাই বড় কিছুর চেয়ে ছোট ক্লিপিং বেশি গ্রহণীয়। কম সময়ে বেশি বিনোদন। আলাদা-আলাদা, ফলে একঘেঁয়েমিতাও কম— প্রভূত কারণে সব সামাজিক মাধ্যমেই রিলসের দৌরাত্ম্য এখন বড় ভিডিওকে ছাপিয়েছে। আসক্ত হচ্ছে আট থেকে আশি সকলেই। তবে, জেন-জির জন্য বিষয়টা বেশি চিন্তার। কারণ- এই প্রজন্মের রিলসে বিচরণ বেশি। মোবাইল তাঁদের শরীরের প্রায় একটা অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। দিবারাত্র তাদের এই আসক্তিই চিন্তার ভাঁজ ফেলছে স্নায়ুবিজ্ঞানীদের কপালে। তাঁদের বক্তব্য স্পষ্ট, অতিরিক্ত রিলস স্ক্রলিং আমাদের মস্তিষ্ককের দুটি পর্যায়ে ক্ষতি করে।

এক, প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স। এটি মস্তিষ্কের সামনের অংশ, যা আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা, স্ব-নিয়ন্ত্রণ এবং মনোযোগ তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। ২৫-২৭ বছরের মধ্যে একজন মানুষের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স সম্পূর্ণ পরিণত হয়। স্নায়ুবিজ্ঞানীদের মতে, এই বয়সে অতিরিক্ত রিলস স্ক্রলিং প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের সার্বিক উন্নতিতে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক বিষয়, একটার সঙ্গে আরেকটার যোগ আছে আবার নেইও— সমস্ত বার্তা বুঝে একটা সিদ্ধান্তে আসতে মস্তিষ্ককে বাড়তি চাপ দিতে হচ্ছে। সংকুচিত হচ্ছে প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স। ফলে, খিটখিটে মেজাজ, ধৈর্যহীনতা, অমনোযোগী এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বাড়তি সময়, একের পর এক লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে ব্যবহারে।

দুই, হিপ্পোক্যাম্পাস, মস্তিষ্কের অন্যতম গুরুপূর্ণ একটি অংশ। যা সরাসরি আমাদের স্মৃতিশক্তির সঙ্গে জড়িত। অর্থাৎ, আমরা যা কিছু মনে রাখি , যা কিছু আমাদের স্মৃতিতে বর্তমান, তা সচল রাখে মস্তিষ্কের এই অংশটি। এমনকি, ‘ফাস্ট লার্নিং’-এর বিষয়টিও দেখে এই হিপ্পোক্যাম্পাস। স্নায়ুবিজ্ঞানীরা বলছেন, অতিরিক্ত রিলস দেখা বিশেষত রাতে ঘুমোনোর আগে, মস্তিষ্কের হিপ্পোক্যাম্পাসের কার্যক্ষমতাকে কম করে। যার ফলে, স্মৃতিশক্তি হ্রাস— স্বল্প কিংবা দীর্ঘমেয়াদী উভয়ই হতে পারে। অমনোযোগী, চঞ্চলতা বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে। তাহলে, কতটা সময় নিরাপদ? চিকিৎসক এবং স্নায়ুবিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ‘কতটা সময় নিরাপদ তার সুনির্দিষ্ট কোনো মানদণ্ড এখনও নেই।’ তবে আপাতত সংঘটিত প্রায় সবকটা গবেষণারই সারমর্ম, দিনে ২-৩ ঘণ্টার বেশি মোবাইল আসক্তিই মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকারক।

তবে, যাঁরা ইতিমধ্যেই এই আসক্তির শিকার তাঁরা কী করবেন? আদতে আর পাঁচটা আসক্তির ক্ষেত্রে যে যে উপদেশ খাটে, এর ক্ষেত্রেও তা-ই প্রযোজ্য। যেমন, একদিনে হবে না, ধীরে ধীরে স্ক্রিন টাইম কমিয়ে আনা ইত্যাদি। তবে যে বিষয়টিতে বিজ্ঞানীরা বেশি জোর দিয়েছেন তা হলো, যখন বুঝতে পারবেন যে আসক্তি তৈরি হচ্ছে তখন তার সঙ্গে আপনার ব্রেইনের যে সূক্ষ্ম ‘কানেকশন ব্রিজ’ বা সংযোগ তৈরি হবে সেটাকে ব্রেক করা বা ভেঙে দেওয়াটা আবশ্যক। সেটা ভাঙতে কী করবেন? একটা কাজে আবদ্ধ না থেকে আলদা আলাদা কাজ করুন। একটা প্রচলিত কথা আছে "যে কোনো কিছুই ‘অতিরিক্ত’ ভালো না।" ধরুন, আপনি সারাদিন খুব রিলস দেখেন, একবার ইনস্টাগ্রাম, একবার ফেসবুক, একবার ইউটিউবে। আপনি যখন বুঝতে পারবেন, এটার প্রতি আপনার আসক্তি বাড়ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে আপনাকে আপনার ব্রেইনের সঙ্গে এই আসক্তির যে সংযোগ তৈরি হচ্ছে সেটা ভাঙতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি বই পড়তে পারেন, অবশ্যই যেটা আপনার পছন্দের। ছবি আঁকতে পারেন, সিনেমা দেখতে পারেন অথবা অন্য যা কিছু করতে পারেন। অর্থাৎ ওই একই কাজ করা থেকে সেই মুহূর্তে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।