২৮ বছরের আকাশের হাতেই দলের ভার! মায়াবতীর আদরের এই ভাইপোর আসল পরিচয় জানেন?

Akash Anand: মায়াবতীর ছোটো ভাই আনন্দকুমারের ছেলে আকাশ। নিজের সন্তানের মতোই বরাবর তাঁকে স্নেহ করে এসেছেন বিএসপি নেত্রী।

Sohini Das
৪ মিনিট
২৮ বছরের আকাশের হাতেই দলের ভার! মায়াবতীর আদরের এই ভাইপোর আসল পরিচয় জানেন?

রাজনীতির ময়দানে ভাইপো-পিসি সমীকরণের মাহাত্ম্যই যে আলাদা, তা যেন এক পরীক্ষিত সত্য। তা বাংলা হোক বা উত্তরপ্রদেশ। সম্প্রতি পরবর্তী উত্তরাধিকারীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছেন বিএসপি নেত্রী মায়াবতী। আর উত্তরপ্রদেশের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই 'বুয়া'র সাম্রাজ্য পেতে চলেছেন মায়াবতীর ভাইপো আকাশ আনন্দ। যোগী-জমানা শুরুর আগে গো-বলয়ের এই রাজ্যটিতে চলত সমাজবাদী পার্টি রাজ। কম ছিল না বহুজন সমাজবাদী পার্টিও। তবে সেই ভাই বা ভতিজার সঙ্গে কোনওদিনই তেমন বনিবনা হয়নি মায়াবতীর। যদিও বিজেপিকে ঠেকাতে মধ্যিখানে একমঞ্চে দেখা গিয়েছিল মুলায়ম-অখিলেশকে। সে এক বিরল ঘটনা। বুয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করতে এক দু-পা পিছিয়ে আসতেও রাজি ছিলেন অখিলেশ। তবে সেই সমীকরণ যেন তেমন একটা জমেনি। এখন মুলায়েম নেই। যোগী-সাম্রাজ্যে ক্রমস্তিমিত সমাজবাদী-স্বর। শেষ পর্যন্ত ভাইপো আকাশ আনন্দের হাতেই সমস্ত উত্তরাধিকার তুলে দিলেন বিএসপি-নেত্রী মায়াবতী।

সম্প্রতি লখনউতে বিএসপির বৈঠক শেষে আকাশ আনন্দকে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিজের উত্তরাধিকারী ঘোষণা করেন মায়াবতী। তবে আপাতত উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের দায়িত্ব সামলাবেন মায়াবতী। বাকি অংশ সামলাবেন আকাশ। তেমনটাই শোনা যাচ্ছে দলের অন্দরসূত্রে। বিএসপি নেতা উদয়বীর সিংহ জানান, বিএসপি প্রধান মায়াবতী তাঁর উত্তরাধিকারী হিসাবে আকাশ আনন্দের নাম ঘোষণা করেছেন। ভাতুষ্পুত্র আকাশকেই যে উত্তরাধিকারী করতে চলেছেন মায়াবতী, সেই ইঙ্গিত মিলেছিল গত কয়েক বছর ধরেই। দলে গুরুত্বও বাড়ছিল ক্রমশ। নিজের ভার, দলের গুরুদায় একটু একটু করে আকাশের হাতেই তুলে দিচ্ছিলেন যে মায়াবতী, তা বুঝতে পারছিলেন দলের সকলেই।

অবশেষে সামনে এল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। মাত্র আঠাশ বছর বয়সে এত বড় সাম্রাজ্যের দায়ভার পেলেন আকাশ আনন্দ। মেরেকেটে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার ৬ বছরের। এত কম বয়সে আস্ত একটা দলের দায়িত্ব! সত্যিই তার জন্য যোগ্য তো 'বুয়া'-র আদরের 'ভতিজা'? তবে তা নিয়ে তেমন আশঙ্কিত নন দলের কেউই। যোগ্য হাতেই রাশ গিয়েছে বলে মনে করছেন দলের অন্য নেতাকর্মীরা। হবে না-ই বা কেন! এই ছ'বছরে বারবার নিজেকে প্রমাণ করেছেন আকাশ। যতদূর জানা যাচ্ছে, মায়াবতীর ছোটো ভাই আনন্দকুমারের ছেলে আকাশ। বরাবরই আনন্দ আর মায়াবতী অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সেই সূত্রেই আকাশকেও নিজের সন্তানের মতোই স্নেহ করে এসেছেন বিএসপি নেত্রী। ফলে দলের নেতৃত্ব যে এক না একদিন আকাশের হাতেই যেতে চলেছে, তা নিয়ে গুঞ্জন ছিলই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নিজের দলের সাংসদকে অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ, তবু কেন চুপ মায়াবতী?

Ramesh Bidhuri vs Danish Ali : গোলওয়ালকর বলেন, "থ্রি বিগেস্ট ইন্টারনাল এনিমিস অফ হিন্দুস আর মুসলিমস, ক্রিশ্চানস অ্যান্ড কমিউনিস্টস"। এই ভদ্রলোক মোদিজির গুরু।

আকাশকে নিয়ে বরাবরই মাপা পদক্ষেপ ফেলে এসেছেন মায়াবতী। তাছাড়া রাজনৈতিক ময়দানে মায়া যে পাকা খেলোয়ার, তা নিয়ে সন্দেহ নেই কারওরই। ফলে দলের রাশ আকাশের হাতে সঁপে দেওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চয়ই বিবেচনা করেইছেন তিনি। ২০১৯ সালের ভোটে তাঁকে প্রথম বার প্রচারের আলোয় নিয়ে আসেন আকাশ। 'বুয়া'-র মান রেখেছেন তিনিও। লোকসভা ভোটের তারকা প্রচারকের বিএসপির তালিকায় দু’নম্বরে ছিল তাঁর নাম। সদ্যসমাপ্ত চার রাজ্যের বিধানসভা ভোটেও বিএসপির দায়ভার বয়েছেন আকাশই। রাজস্থানে বিএসপি দু’টি আসন দখল করেছে। অন্য রাজ্যগুলিতে নিজের ভোট শতাংশও যত দূর সম্ভব অটুট রাখার কৃতিত্বও অনেকেই আকাশকে দেন। রাজস্থানে তাঁর ‘স্বাভিমান সঙ্কল্প যাত্রা’য় সাড়া মিলেছিল ভালই। সব মিলিয়ে তিনিই যে অদূর ভবিষ্যতে দলের ভার কাঁধে তুলে নেবেন তা একরকমের নিশ্চিতই ছিল।

প্রথম যখন দলের কর্মসূচীতে ভাইপো আকাশকে নিয়ে আসেন, তখন মাত্র ২২ বছরের তরুণ সে। সবে লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন। সে সময়েই দলের কাজে হাতেখড়ি হয় তাঁর। 'বুয়া'-র হাত ধরেই শুরু হয় প্রশিক্ষণ। ২০১৭ সাল হবে সেটা। সকলের সঙ্গে আকাশের পরিচয় করিয়ে দিয়ে মায়াবতী বলেছিলেন, "আমার ভাইপো আকাশ। লন্ডন থেকে এমবিএতে স্নাতক পাশ করে এসেছে। আর এখন থেকে দলের কাজও করবে।" তখন অবশ্য উত্তরপ্রদেশে বুয়া-বাবুয়া হাওয়া। বিজেপিকে আটকাতে সেই বার এক হয়েছিল বিএসপি আর সমাজবাদী পার্টি। অখিলেশক আর মায়াবতীকে দেখা যাচ্ছিল একই মঞ্চে।

বুয়া-বাবুয়া থেকে আজ বুয়া-আকাশ। উত্তরপ্রদেশে সেই ধারা আজও অব্যবহিত। ২০১৯ সাল নাগাদ উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় প্রথম জনসভা আকাশের। সে বছর ভোটপ্রচারের দায়িত্বও পান 'বুয়া'-র আদরের ভতিজা। সেই ভোটে মায়াবতী বাজি ধরেছিলেন ভাইপো আকাশের উপরেই। নিজেকে তাতে যোগ্যতম প্রমাণও করেন আকাশ। তাঁর রণকৌশলেই লোকসভায় শূন্য হয়ে যাওয়া বিএসপি ফিরেছিল ১২টি আসনে। শুধু তো আর উত্তরপ্রদেশ নয়, আরও একাধিক রাজ্যে ভোটে লড়ে মায়াবতীর দল। ২০২২ সালের ভোটের আগে আবার ফ্রন্টফুটে আসেন আকাশ। ওই বছর হিমাচল প্রদেশের বিধানসভা ভোটে তারকা প্রচারকারী হিসাবেও দ্বিতীয় স্থানে নাম উঠে আসে আকাশের। আস্তে আস্তে আকাশের হাতেই জাতীয় দলের দায়িত্ব ছেড়েছেন মায়া। বাকি সমস্ত রাজ্যে বিএসপিকে একজোট করার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল আকাশকেই।

ক্রমশ নিজেকে তৈরি করেছেন আকাশ। রাজনীতির ময়দানে হয়ে উঠেছেন পাকাপোক্ত। শোনা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই দলের বিভিন্ন রাজ্যের সংগঠনের রাশ নিজের হাতে নিয়েছেন আকাশ। ম্যানেজমেন্ট পড়ে আসা আকাশ শান্ত, ধীরস্থির। কথা কম বলেন। দলীয় কর্মীরা বলেন, আকাশ ভালো শ্রোতা। একজন ভালো নেতা হওয়ার সমস্ত গুণই তাঁর মধ্যে রয়েছেন বলে মনে করেন দলের প্রবীণেরা। গত বিধানসভা ভোটেও আকাশের দায়িত্বে থাকা রাজ্যগুলিতে ভালো ফল করেছে বিএসপি। রাজস্থানে পেয়েছে ২টি আসন। বাকি রাজ্যগুলিতে যতদূর সম্ভব ভোট শতাংশ অটূট রাখা গিয়েছে। আর সেই সমস্ত কৃতিত্বই একরকম ভাবে আকাশকেই দিচ্ছেন দলেন নেতানেত্রীরা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গোড়া থেকেই আকাশের হাতেই দলের ভার তুলে দিতে চেয়েছিলেন মায়াবতী। সেভাবেই ছোট থেকে গড়েপিটে নিয়েছিলেন আকাশকে। তবে এত বড় দায়ভার দাপুটে মায়াবতীর মতো করেই সামলাবেন আকাশ, না তরুণ নেতার হাতে এসে অনেকটাই পাল্টে যাবে দলের রীতি-নীতি-কৌশল? আপাতত উত্তরপ্রদেশ-সহ গোটা দেশের চোখ সেদিকেই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?