নিজের দলের সাংসদকে অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ, তবু কেন চুপ মায়াবতী?

Ramesh Bidhuri vs Danish Ali : গোলওয়ালকর বলেন, "থ্রি বিগেস্ট ইন্টারনাল এনিমিস অফ হিন্দুস আর মুসলিমস, ক্রিশ্চানস অ্যান্ড কমিউনিস্টস"। এই ভদ্রলোক মোদিজির গুরু।

Paranjoy Guha Thakurta
৩ মিনিট
নিজের দলের সাংসদকে অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ, তবু কেন চুপ মায়াবতী?

একজন বিরোধী সাংসদকে 'ভড়ওয়া' বলছেন আরেক সাংসদ, বিজেপি সাংসদ। তা শুনে একগাল হাসছেন অন্য বিজেপি সাংসদরা। বিজেপির রমেশ বিধুরি তাঁরই সহনাগরিক বিএসপি সাংসদ, বলা ভালো মুসলিম সাংসদকে বলছেন, "ইস মুল্লে কো বাহার দেখ লুঙ্গা”! হাসছেন বিজেপির নেতারা। অমৃতকালের অমৃতভাষণ বর্ষণ করছেন বিজেপির হিন্দু সাংসদ! রমেশ বিধুরি সংসদে এমন ভাষা প্রয়োগ করার সাহস রাখেন। সাহস জোগায় দেশের ক্ষমতাসীন বিজেপি দল। আর দানিশ আলির পাশে রইলেন কে? দেশজুড়ে বিরোধীরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঠিকই কিন্তু মায়াবতী চুপ! নিজেরই দলের সাংসদের এমন অপমানে প্রতিবাদ, ক্ষোভ কোথায় তাঁর? বাংলা যা ভাবছে-র 'অমৃতকালের অমৃতভাষণ' পর্বে এই নিয়েই আলোচনা করলেন সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহ ঠাকুরতা।

X-এ হিন্দিতে একটি পোস্টে মায়াবতী লিখেছেন, "যদিও স্পিকার বিএসপি সাংসদ দানিশ আলির বিরুদ্ধে বিজেপি সাংসদের করা আপত্তিকর মন্তব্যটি সরিয়ে দিয়েছেন, তাঁকে সতর্ক করেছেন এবং একজন বর্ষীয়ান মন্ত্রী সংসদে ক্ষমা চেয়েছেন, তবে এটি দুঃখজনক যে দল এখনও তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি।” ব্যাস! লোকসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে দানিশ আলির বিরুদ্ধে অত্যন্ত নোংরা শব্দ ব্যবহার করেছিলেন রমেশ বিধুরি, ভড়ওয়া, মুল্লা জাতীয় শব্দ দেশের সংসদে দাঁড়িয়ে বলছেন তিনি! স্পিকার ওম বিড়লা পরে সেই শব্দগুলি বাদ দেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং রমেশ বিধুরির এই মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশও করেন। স্পিকার ওম বিড়লা রমেশ বিধুরিকে সতর্ক করে দেন, ফের এই ধরনের নোংরামি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন। সবই ঠিক আছে। কিন্তু মায়াবতী টুইট করেই দায় সারলেন?

মায়াবতী, যিনি বহুজন সমাজ পার্টির শীর্ষ নেত্রী তিনি একটি অতিরিক্ত কথাও বলেননি এই অশ্লীল ঘটনাটি নিয়ে। এর অর্থ কী? মায়াবতী কেন চুপ আছেন, এই ঘটনাটিই আমাকে আশ্চর্য করে দিচ্ছে। এই ঘটনা গোদি মিডিয়াও হালকা চালে দেখিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীও এর নিন্দে করেছেন। কিন্তু কেবল নিন্দেই কি যথেষ্ট? দল থেকে কেন বের করে দেওয়া হচ্ছে না রমেশ বিধুরিকে? বলা হচ্ছে, "কেউ ব্যথিত হলে আমি দুঃখিত"। মানে, কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে আমি দুঃখিত, কাউকে আহত করে থাকলে আমি দুঃখিত! তা না হয়ে থাকলে এমন ভাষা প্রয়োগে অসুবিধা নেই!

সৌজন্যে- লোকসভা টিভি

আমরা ছবিতে দেখতে পাচ্ছি, বিধুরির পিছনে হর্ষবর্ধন রয়েছেন। তিনি একজন ডাক্তার, একটা সময় কেন্দ্র সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। রবিশঙ্কর প্রসাদ রয়েছেন, মোদি সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ছিলেন তিনি! আইনমন্ত্রী ছিলেন। এই ভাষা শুনে তাঁদের একগাল হাসি!

নরেন্দ্র মোদি, দেশের প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে একেবারেই চুপ। তবে মোদির নীরবতা বিষয়ে যাওয়ার আগে একটু পিছিয়ে যাওয়া যাক। মোদি প্রায়ই একটা কথা বলেন, তাঁর গুরু হচ্ছেন গোলওয়ালকার। গোলওয়ালকার বহু দশক আগে কী বলেছিলেন? তাঁর বই ‘বাঞ্চ অফ থটস'-এ গোলওয়ালকর লিখেছিলেন, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের থেকেও আরও একটা বড় লড়াই হলো ভারতবর্ষের ভেতরে হিন্দুদের সবচেয়ে বড় শত্রু কারা, তা জানতে হবে। বইটির নয়া সংস্করণে এই অংশটি মেলে না। পুরনো সংস্করণ পেতে গ্রন্থালয়ে যেতে হবে। কারা 'শত্রু' এই প্রসঙ্গে তিন জনের নাম বলেছিলেন গোলওয়ালকর। "থ্রি বিগেস্ট ইন্টারনাল এনিমিস অফ হিন্দুস আর মুসলিমস, ক্রিশ্চানস অ্যান্ড কমিউনিস্টস"। এই মাধব সদাশিবরাও গোলওয়ালকার মোদিজির গুরু।

এম এস গোলওয়ালকর

সারা বিশ্বেই আমরা দেখছি সংখ্যাগুরুর আধিপত্য। সংখ্যালঘুরা দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক। সিএএ, এনআরসি এই মেরুকরণের কাজই তো করে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দুই দেশ, ইন্দোনেশিয়া এবং পাকিস্তানে ভারতবর্ষের চেয়ে বেশি মুসলিম থাকেন। ভারতে ১৪০ কোটির ১৪ শতাংশ মানুষ মুসলিম। এখন নরেন্দ্র মোদি যে কথা বলছেন সংসদে, নতুন ভারতের কথা বলছেন, তাঁর দল বিজেপি কিন্তু যা আচরণ করছে, তা ঠিক উল্টো। রমেশ বিধুরি লোকসভায় এই ধরনের কথা বলেছেন, 'হেটস্পিচ' বেআইনি জেনেও আমরা কিছু করতে পারছি না।

হাথরাসের ঘটনায় একজন দলিত মহিলাকে ধর্ষণ করার পর দেহ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। কেরলের একজন মুসলিম সাংবাদিক সিদ্দিক কাপ্পান সেখানে গেলেন খবর করতে, তাঁকে জেলে পুরে রাখা হলো ২ বছর। মহম্মদ আখলাখকে যে খুন করা হলো, তখন তো যোগী ছিলেন না ক্ষমতায়, অখিলেশের সমাজবাদী পার্টি ছিল। কিন্তু মোদি তাতেও চুপ ছিলেন। অর্থটা কী?

তবে আমি এত কিছুর পরেও আশাবাদী। কর্নাটকের কথা বলতে চাই। সেখানে হিজাব, বজরংবলি, টিপু সুলতান কত কিছুই তো করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি! কর্নাটকের উপকূলে বিজেপি শক্তিশালী। বেঙ্গালুরুতেও শক্তিশালী, তাহলে হেরে গেল কেন? বাংলাতে তো কম টাকা খরচা করেনি বিজেপি। তাও কেন হেরে গেল বিজেপি? আশা আছে। আশাই নতুন ভারতের পথ ঠিক করবে, সংখ্যাগুরুরা নয়।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

খ্রিস্টধর্ম পালন করায় পরিবারকে গ্রামছাড়া করার হুমকি, ভাটোরায় আক্রান্ত দম্পতি

Howrah Christian family: হাওড়ার ভাটোরায় প্রায় আট বছর ধরে খ্রিস্টধর্ম পালন করা এক পরিবারের উপর হামলা, মারধর ও গ্রাম ছাড়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। কেন ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিয়ে এমন প্রশ্ন উঠছে? স্থানীয়দের একাংশের আচরণের অভিযোগ কতটা সত্য?

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

কুমোরটুলিতে কেন এখনও হাতে গোনা মহিলা মৃৎশিল্পী?

Women in Kumartuli’s Idol-Making Tradition: কুমোরটুলিতে দুর্গার প্রতিমা গড়ার কাজে এখনও কেন হাতে গোনা মহিলা শিল্পী? ‘মেয়েদের কাজ নয়’—এই ধারণা, কাজের শারীরিক পরিশ্রম এবং পুরুষ-প্রধান পরিবেশ পেরিয়ে কীভাবে নিজেদের জায়গা তৈরি করছেন চায়না পাল, মালা পাল, কাকলি পালরা?

ঋষি অগস্ত্যের ব্যাটারি! সংঘ পরিবারের স্কুলগুলোর আজগুবি শিক্ষা ঢুকে পড়ছে সরকারি উচ্চশিক্ষায়

From Vidya Bharati Textbooks to Universities: রাজ্যে বিদ্যাভারতী পরিচালিত স্কুলের সংখ্যা বেড়ে হাজার হোক, চান মুখ্যমন্ত্রী। সংখ্যায় যতই বাড়ুক, তাদের পাঠ্যক্রম বহির্ভূত শিক্ষা ইতোমধ্যেই সরকারি পাঠক্রমে ঢুকে গিয়েছে। উচ্চশিক্ষাতেও।

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ব্রিকস: অর্থনীতির হিসেব-নিকেশ

BRICS Economic Power: মার্কিন শুল্কনীতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, ডলারের আধিপত্য ও পশ্চিমী নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে কি ব্রিকস সত্যিই বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে? গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ রক্ষায় ব্রিকসের ঘোষিত নীতিগুলি কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে? নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক, ডি-ডলারাইজেশন, বৈশ্বিক করব্যবস্থা এবং সদস্য দেশগুলির পারস্পরিক স্বার্থের সংঘাত কি ব্রিকসের সেই সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করছে? ভবিষ্যতে এর ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে?

১৯৬৯-এর কংগ্রেস থেকে ২০২৬-এর তৃণমূল: যেভাবে ভারতে দল ভেঙেছে বারবার

Politics of Party Splits in India: ১৯৬৯ সালে কংগ্রেস ভাঙার মধ্য দিয়ে যে প্রক্রিয়া শুরু, ২০২৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন তারই ধারাবাহিকতা। নেতৃত্বের লড়াই, মতাদর্শিক সংঘাত ও নির্বাচনী কৌশল—প্রতিটি ভাঙনের পিছনে একাধিক কারণ। দশম তফসিল ও নির্বাচন কমিশনের নিয়ম ভাঙনকে আইনি কাঠামোয় বাঁধতে চেয়েছে, তবুও 'প্রকৃত দল' বা আদি প্রতিষ্ঠাতা নির্ণয়ে বিভ্রান্তি রয়ে গিয়েছে বহুবার।

মমতা ফিরে পাবেন তাঁর আঁকা জোড়াফুল?

Mamata Banerjee TMC Symbol: তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী জোড়াফুল প্রতীক কি শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ফিরবে? জোড়াফুলের ভবিষ্যৎ কী? কী বলছে আইন?