কম বয়সী কনে জোগাড় করলেই মিলবে দেদার টাকা! আজব নিয়ম চিনে
Cash Reward For Chinese Couples: গত ছয় দশকে এই প্রথমবার জনসংখ্যা হ্রাস সম্পর্কে চিন্তা করতে হচ্ছে চিনকে। তার উপর সমাজে ক্রমাগত বাড়ছে বার্ধক্যশ্রেণি। আর এই জনসংখ্যা হ্রাসের জন্য বিয়ের প্রতি তরুণ প্রজন্মের অনিহাকেই দায়ী করছে চিন কর্তৃপক্ষ।

এ দেশে যেখানে কম বয়সের বিয়ে রুখতে গিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে প্রশাসন। সেখানে কম বয়সের বিয়েকে উৎসাহিত করতে নাকি বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা করল চিন। হ্যাঁ, এমনই আশ্চর্য কাণ্ড ঘটেছে চিনের একটি প্রদেশে। দেশের সবচেয়ে জনবহুল দেশগুলির মধ্যে শীর্ষে ভারতের পড়শি দেশ চিন।
পূর্ব চিনের চাংশান প্রদেশের প্রশাসন নাকি সম্প্রতি এমনই ঘোষণা করেছে। জানানো হয়েছে, কনের বয়স ১৫ বছর বা তার কম হলেই ১ হাজার ইউয়ান পুরস্কার পাবেন সেই দম্পতি। চাংশান কাউন্টির তরফে তাদের অফিশিয়াল ওয়েচ্যাট অ্যাকাউন্টে এই মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। কেন এমন প্রচার?
যতদূর জানা গিয়েছে, চিনের ওই প্রদেশে নাকি উপযুক্ত সময়ে বিবাহ থেকে ক্রমশ দূরে সরে আসছে তরুণ প্রজন্ম। যার জেরে স্বাভাবিক ভাবেই কমছে সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতাও। বেশি বয়সে সন্তানজন্মের ফলে বাড়ছে নানাবিধ সমস্যা। এমনকী ব্যহত হচ্ছে শিশুর উর্বরতাও। আর এই সব সমস্যা কমাতেই পুরস্কারমূল্য ঘোষণা করে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে চাংশান।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Store In The Sky: সমতল থেকে প্রায় ৩৯৩ ফুট উপরে দোকানটির অবস্থান। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন পাহাড়টি আঁকড়ে কোনও মতে টিকে রয়েছে সেটি। একটু এদিক-ওদিক হলেই ঘটে যেতে পারে বিপদ।

গত ছয় দশকে এই প্রথমবার জনসংখ্যা হ্রাস সম্পর্কে চিন্তা করতে হচ্ছে চিনকে। তার উপর সমাজে ক্রমাগত বাড়ছে বার্ধক্যশ্রেণি। যা কপালে ভাঁজ ফেলেছে চিন কর্তৃপক্ষের। আর এই জনসংখ্যা হ্রাসের জন্য বিয়ে করার প্রতি তরুণ প্রজন্মের অনিহাকেই দায়ী করছে চিন কর্তৃপক্ষ। আর তার জন্যই এবার জন্মহার বাড়ানোর দিকে নজর দিতে চাইছে তারা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Climate change: এমনিতেই বিলুপ্তপ্রায় এই এম্পেরার পেঙ্গুইনরা। ইতিমধ্যেই ইন্টারন্যাশনান ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (IUCN)-র তরফে 'নিয়ার থ্রেটেন' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এদের।
চিনে বিবাহের বৈধ বয়স ছেলেদের ক্ষেত্রে ২২ এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ২০। কিন্তু ইদানীং চিনে ক্রমশ কমছে বিয়ের হার। যার ফলে কমছে শিশু জন্মের হারও। এদিকে অবিবাহিত মেয়েদের সন্তানধারণের অনুমতি দেয় না চিনের কর্পোরেটগুলি। ফলে সেটাও একটা বাধা। ২০২২ সালে মারাত্মক ভাবে কমেছে চিনের বিবাহের হার। সরকারি রেকর্ড বলছে, এই হার ১৯৮৬ সালের চেয়েও খারাপ। ২০২১ সালের চেয়ে কম তো বটেই।

তার সঙ্গেই কমেছে জন্মহার। আর তা রেকর্ড কমেছে ২০২২ সালে। তার অবশ্য আরও একটি কারণও রয়েছে। চিনে উচ্চশিক্ষার খরচ বেশ চড়া। ফলে দ্বিতীয় সন্তানের জন্য ভাবতে পারছেন না অনেক দম্পতিই। তার উপর লিঙ্গবৈষম্য চিনেও কোনও নতুন বিষয় নয়। ফলে কন্যাসন্তানের প্রতি অবহেলার হার সেখানেও কম নয়। পাশাপাশি চিনের অর্থনৈতিক অবস্থাও তরুণ প্রজন্মকে বিবাহ ও সন্তানধারণ থেকে দূরে রাখছে বলেও মত অভিজ্ঞদের।
সেই সব কথা ভেবেই নতুন নীতি বের করেছে চিনের চাংশান প্রদেশ। তরুণপ্রজন্মকে বিবাহমুখী করতে তারা বিশেষ পুরস্কারমূল্য ঘোষণা করেছে। কনের বয়স ২৫ বা তার কম হলেই ১ হাজার ইউয়ান করে পুরস্কারমূল্য পাবে সেই বিবাহিত দম্পতিটি। ১ হাজার ইউয়ান মানে ভারতীয় মূল্যে প্রায় ১২ হাজার টাকা পেতে চলেছেন নববিবাহিতরা। তবে এই সামান্য অর্থমূল্যে কি বাড়বে দেশের বিয়ের হার? বিবাহমুখী হবে চিনের তরুণ প্রজন্ম? সেটা একটা সওয়াল বটে।







