লেজার স্ক্যানার নিয়ে আরজি করে সিবিআই, কী এই থ্রিডি স্ক্যানিং?
R G Kar Medical College And Hospital Incident: বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও আরজি কর হাসপাতালে পৌঁছয় সিবিআই। এবার তদন্তকাজের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির লেজার স্ক্যানার মেশিন ব্যবহার করছেন তদন্তকারীরা।

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিট্যালের বক্ষ বিভাগের সেমিনার রুম থেকে এক সপ্তাহ আগে উদ্ধার হয়েছিল এক চিকিৎসকের দেহ। ধর্ষণের পর খুন করা হয় ওই চিকিৎসককে। সেই ঘটনায় সিবিআইয়ের হাতে তদন্তভার দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। গত বুধবার রাজ্যের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেয় সিবিআই। এর মধ্যেই ১৪ অগস্ট রাতে হাসপাতাল চত্বরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এক দল দুষ্কৃতী। জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালানো হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেট ভেঙে, পুলিশের ব্যারিকেড উপড়ে ভিতরে ঢুকে চলে তাণ্ডব। আরজি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টার, এইচসিসিইউ, সিসিইউ, ওষুধের দোকান ভেঙে ফেলা হয়। হাসপাতালের ভিতরে আন্দোলনকারীদের যে ধরনা মঞ্চ ছিল তাতেও হামলা চালানো হয়!কলকাতা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর হয়, আহত হন বহু পুলিশকর্মী।
এর পরেই প্রশ্ন ওঠে, তবে কি সেমিনার রুমে গিয়ে প্রমাণ লোপাটের পরিকল্পনায় ছিল দুষ্কৃতীরা। যদিও পুলিশের দাবি, সে কাজে অসফল হয়েছে তারা। গত সোমবারই জানা যায়, যে সেমিনার রুম থেকে ওই চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল, তার পাশের একটি ঘরেই শুরু হয় ভাঙাভাঙির কাজ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, সেখানে একটি শৌচালয় তৈরি করার কথা। সেখান থেকেও চড়া হয় প্রমাণ লোপাটের সন্দেহ। যদিও রাতারাতি সেই কাজ থামিয়ে দেওয়া হয়। সেমিনার রুমটি অটুট রয়েছে বলেও দাবি করা হয় পুলিশের তরফে। শুক্রবার আরজি কর সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে দুটি ভাঙচুরের ঘটনা নিয়েই রাজ্যকে প্রশ্ন করে হাইকোর্ট। সেখানে নিরাপত্তা চেয়ে ভর্ৎসনার শিকার হন আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষও। তাকে সিবিআইয়ের দফতরে হাজিরা দেওয়ারও নির্দেশ দেয় আদালত।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Kolkata Doctor's Rape and Murder: এদিন পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ‘‘পুলিশ নিজেকে রক্ষা করতে পারছে না। জনতাকে ঠেকাতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলা কী ভাবে রক্ষা করবে?’’
সূত্রের খবর, আগেই সন্দীপবাবুকে তলব করেছিল সিবিআই। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বারবার হাজিরা এড়িয়েছেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ। তার পরেই শুক্রবার সল্টেলেকের কাছেই একটি রাস্তা থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যান সিবিআই কর্তারা। যতদূর জানা গিয়েছে, তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সিজিও কমপ্লেক্সে। বুধবার মধ্যরাতে আরজি কর হাসপাতালে যে দুষ্কৃতী-তাণ্ডব ঘটেছে, তার তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে সিবিআই। বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও আরজি কর হাসপাতালে পৌঁছন সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
RG Kar Kolkata Police: সেদিনের ভাংচুরের ঘটনার ৫০টিরও বেশি ছবি প্রকাশ করে কলকাতা পুলিশ।
সূত্রের খবর, এবার তদন্তকাজের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির লেজার স্ক্যানার মেশিন ব্যবহার করছেন তদন্তকারীরা। কোনও প্রমাণ যাতে চোখ না এড়ায়, তার জন্যই এই ব্যবস্থা। সেমিনার রুমেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে এই যন্ত্র। এর আগেও একাধিক অপরাধ স্থলে ব্যবহার করা হয়েছে এই যন্ত্র। এই লেজার স্ক্যানার ব্যবহার করেই থ্রিডি স্ক্যানিং করছেন গোয়েন্দারা। কোনও ঘটনাস্থলের ৩৬০ ডিগ্রির ছবি ধরা পড়ে এই মেশিনে। যে প্রমাণ সাধারণত চোখ এড়িয়ে যায়, সে সবও এই মেশিনে ধরা পড়ে।
এর আগে বগটুই-কাণ্ডের তদন্তেও ব্যবহার করা হয়েছিল এই মেশিন। বড় অপরাধের ঘটনায় ব্যবহার করা হয় এটি। এদিন হাসপাতালে উপস্থিত হন সিবিআই-এর ৬ অফিসার। সঙ্গে রয়েছে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি টিম। আধিকারিকরা এদিন সোজা চলে যান সেমিনার রুমে। যত দূর জানা গিয়েছে এদিনই ঘটনাস্থলের ডিজিটাল ম্যাপিং করতে চাইছে সিবিআই।
এদিকে, সন্দীপ দত্তকে মাঝরাস্তা থেকে আটক করার পাশাপাশি আরজি করের ঘটনার তদন্তে শুক্রবার সেখানকার বেশ কয়েক জন পড়ুয়া চিকিৎসককে ফের তলব করেছে সিবিআই। সিবিআইয়ের ডাক পেয়েই সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন ওই পড়ুয়া চিকিৎসকেরা। বৃহস্পতিবার তদন্তের খাতিরে কয়েক জনকে পড়ুয়াকে তলব করেছিল সিবিআই। সেই দিন রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে যে পড়ুয়া চিকিৎসকেরা হাসপাতালের ডিউটিতে ছিলেন, তাঁদের সঙ্গেও ইতিমধ্যেই কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। মনে করা হচ্ছে, ধর্ষণ এবং হত্যাকাণ্ডের দিন কী হয়েছিল, তা জানতেই ফের কয়েক জনকে তলব করা হয়েছে। গত বুধবার তদন্তভার বুঝে নেওয়ার পরেই ধৃত অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল সিবিআই। সেদিনই ঘটনাস্থল তদারকি করেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকের। এর পর শুক্রবার আধুনিক প্রযুক্তির সব যন্ত্রপাতি নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলেন সিবিআই গোয়েন্দারা। এর থেকে নতুন কোনও সূত্র মিলতে পারে বলেই আশাবাদী কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।






