লেজার স্ক্যানার নিয়ে আরজি করে সিবিআই, কী এই থ্রিডি স্ক্যানিং?

R G Kar Medical College And Hospital Incident: বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও আরজি কর হাসপাতালে পৌঁছয় সিবিআই। এবার তদন্তকাজের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির লেজার স্ক্যানার মেশিন ব্যবহার করছেন তদন্তকারীরা।

inscript
৩ মিনিট
লেজার স্ক্যানার নিয়ে আরজি করে সিবিআই, কী এই থ্রিডি স্ক্যানিং?

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিট্যালের বক্ষ বিভাগের সেমিনার রুম থেকে এক সপ্তাহ আগে উদ্ধার হয়েছিল এক চিকিৎসকের দেহ। ধর্ষণের পর খুন করা হয় ওই চিকিৎসককে। সেই ঘটনায় সিবিআইয়ের হাতে তদন্তভার দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। গত বুধবার রাজ্যের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেয় সিবিআই। এর মধ্যেই ১৪ অগস্ট রাতে হাসপাতাল চত্বরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এক দল দুষ্কৃতী। জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালানো হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেট ভেঙে, পুলিশের ব্যারিকেড উপড়ে ভিতরে ঢুকে চলে তাণ্ডব। আরজি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টার, এইচসিসিইউ, সিসিইউ, ওষুধের দোকান ভেঙে ফেলা হয়। হাসপাতালের ভিতরে আন্দোলনকারীদের যে ধরনা মঞ্চ ছিল তাতেও হামলা চালানো হয়!কলকাতা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর হয়, আহত হন বহু পুলিশকর্মী।

এর পরেই প্রশ্ন ওঠে, তবে কি সেমিনার রুমে গিয়ে প্রমাণ লোপাটের পরিকল্পনায় ছিল দুষ্কৃতীরা। যদিও পুলিশের দাবি, সে কাজে অসফল হয়েছে তারা। গত সোমবারই জানা যায়, যে সেমিনার রুম থেকে ওই চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল, তার পাশের একটি ঘরেই শুরু হয় ভাঙাভাঙির কাজ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, সেখানে একটি শৌচালয় তৈরি করার কথা। সেখান থেকেও চড়া হয় প্রমাণ লোপাটের সন্দেহ। যদিও রাতারাতি সেই কাজ থামিয়ে দেওয়া হয়। সেমিনার রুমটি অটুট রয়েছে বলেও দাবি করা হয় পুলিশের তরফে। শুক্রবার আরজি কর সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে দুটি ভাঙচুরের ঘটনা নিয়েই রাজ্যকে প্রশ্ন করে হাইকোর্ট। সেখানে নিরাপত্তা চেয়ে ভর্ৎসনার শিকার হন আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষও। তাকে সিবিআইয়ের দফতরে হাজিরা দেওয়ারও নির্দেশ দেয় আদালত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
‘কী করছে পুলিশ?’ আরজি করে ভাঙচুর নিয়ে হাইকোর্টের প্রবল ভর্ৎসনার মুখে রাজ্য

Kolkata Doctor's Rape and Murder: এদিন পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ‘‘পুলিশ নিজেকে রক্ষা করতে পারছে না। জনতাকে ঠেকাতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলা কী ভাবে রক্ষা করবে?’’

সূত্রের খবর, আগেই সন্দীপবাবুকে তলব করেছিল সিবিআই। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বারবার হাজিরা এড়িয়েছেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ। তার পরেই শুক্রবার সল্টেলেকের কাছেই একটি রাস্তা থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যান সিবিআই কর্তারা। যতদূর জানা গিয়েছে, তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সিজিও কমপ্লেক্সে। বুধবার মধ্যরাতে আরজি কর হাসপাতালে যে দুষ্কৃতী-তাণ্ডব ঘটেছে, তার তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে সিবিআই। বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও আরজি কর হাসপাতালে পৌঁছন সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আরজি করে ভাংচুর করল কারা? সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে গ্রেফতার বহু

RG Kar Kolkata Police: সেদিনের ভাংচুরের ঘটনার ৫০টিরও বেশি ছবি প্রকাশ করে কলকাতা পুলিশ।

সূত্রের খবর, এবার তদন্তকাজের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির লেজার স্ক্যানার মেশিন ব্যবহার করছেন তদন্তকারীরা। কোনও প্রমাণ যাতে চোখ না এড়ায়, তার জন্যই এই ব্যবস্থা। সেমিনার রুমেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে এই যন্ত্র। এর আগেও একাধিক অপরাধ স্থলে ব্যবহার করা হয়েছে এই যন্ত্র। এই লেজার স্ক্যানার ব্যবহার করেই থ্রিডি স্ক্যানিং করছেন গোয়েন্দারা। কোনও ঘটনাস্থলের ৩৬০ ডিগ্রির ছবি ধরা পড়ে এই মেশিনে। যে প্রমাণ সাধারণত চোখ এড়িয়ে যায়, সে সবও এই মেশিনে ধরা পড়ে।

এর আগে বগটুই-কাণ্ডের তদন্তেও ব্যবহার করা হয়েছিল এই মেশিন। বড় অপরাধের ঘটনায় ব্যবহার করা হয় এটি। এদিন হাসপাতালে উপস্থিত হন সিবিআই-এর ৬ অফিসার। সঙ্গে রয়েছে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি টিম। আধিকারিকরা এদিন সোজা চলে যান সেমিনার রুমে। যত দূর জানা গিয়েছে এদিনই ঘটনাস্থলের ডিজিটাল ম্যাপিং করতে চাইছে সিবিআই।

এদিকে, সন্দীপ দত্তকে মাঝরাস্তা থেকে আটক করার পাশাপাশি আরজি করের ঘটনার তদন্তে শুক্রবার সেখানকার বেশ কয়েক জন পড়ুয়া চিকিৎসককে ফের তলব করেছে সিবিআই। সিবিআইয়ের ডাক পেয়েই সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন ওই পড়ুয়া চিকিৎসকেরা। বৃহস্পতিবার তদন্তের খাতিরে কয়েক জনকে পড়ুয়াকে তলব করেছিল সিবিআই। সেই দিন রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে যে পড়ুয়া চিকিৎসকেরা হাসপাতালের ডিউটিতে ছিলেন, তাঁদের সঙ্গেও ইতিমধ্যেই কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। মনে করা হচ্ছে, ধর্ষণ এবং হত্যাকাণ্ডের দিন কী হয়েছিল, তা জানতেই ফের কয়েক জনকে তলব করা হয়েছে। গত বুধবার তদন্তভার বুঝে নেওয়ার পরেই ধৃত অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল সিবিআই। সেদিনই ঘটনাস্থল তদারকি করেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকের। এর পর শুক্রবার আধুনিক প্রযুক্তির সব যন্ত্রপাতি নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলেন সিবিআই গোয়েন্দারা। এর থেকে নতুন কোনও সূত্র মিলতে পারে বলেই আশাবাদী কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।