বিদ্যুৎহীন কিউবা! কেন ফের আগ্রাসী সুর ট্রাম্পের?

Cuba Blackout Crisis: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু নিজেরাই তেল সরবরাহ বন্ধ করেনি, অন্য দেশগুলিকেও কিউবাকে তেল বিক্রি করলে শাস্তির হুমকি দেয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কিউবা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে কিউবার বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়।

inscript
৩ মিনিট
বিদ্যুৎহীন কিউবা! কেন ফের আগ্রাসী সুর ট্রাম্পের?

বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার সম্পর্ক। এখন এই দ্বন্দ্ব নতুন মোড় নিয়েছে। সম্পর্কের টানাপোড়েনে সরাসরি ক্ষমতা দখলের ইঙ্গিত পর্যন্ত উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্টের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। তিনি বলেছেন,

আমি বিশ্বাস করি কিউবা দখলের কৃতিত্ব পাব। আমি এ-ও মনে করি এটা বড় সম্মান।

এই কথাতেই বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত মূলত তীব্র জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘদিন ধরেই কিউবা বাইরের দেশ থেকে তেল আমদানির উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা ছিল তাদের প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী। কিন্তু ২০২৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যায় এবং সেই সঙ্গে কিউবায় তেলের সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এখানেই শেষ নয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু নিজেরাই তেল সরবরাহ বন্ধ করেনি, অন্য দেশগুলিকেও কিউবাকে তেল বিক্রি করলে শাস্তির হুমকি দেয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকেও কিউবা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিশ্বজুড়ে 'ভাইরাল' চে গেভারার এই ছবিটিই! কীভাবে তোলা হয়েছিল এই ছবি?

Che Guevara Famous Photograph: চে গেভারার এই বিখ্যাত ছবিটি তোলা হয়েছিল ১৯৬০ সালের ৫ মার্চ। উপলক্ষ্য ছিল অন্ত্যেষ্টি।

এর সরাসরি প্রভাব পড়ে কিউবার বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়। দেশজুড়ে পুরনো এবং জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলি একে একে বন্ধ হয়ে যেতে শুরু করে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে ওঠে যে পুরো দেশ অন্ধকার (ন্যাশনওয়াইড ব্ল্যাকআউট) হয়ে যায়। এতে কোটি কোটি মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাতে বাধ্য হয়েছে।

এই অবস্থাতেই ট্রাম্পের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তিনি বলেন, কিউবা এখন 'খুব দুর্বল দেশ' এবং তিনি চাইলে 'যা খুশি করতে পারেন', চাইলে মুক্ত করতে পারেন, আবার চাইলে দখলও করতে পারেন।

এই মন্তব্য নিছক রাজনৈতিক নয়, এর পেছনে একটি বৃহত্তর কৌশল কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই কিউবার কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থার বিরোধী। ১৯৬০-এর দশক থেকে চলা নিষেধাজ্ঞা এই নতুন পদক্ষেপে আরও কঠোর হয়েছে। এখন লক্ষ্য শুধু চাপ সৃষ্টি নয়, সরাসরি রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানো।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে উঠে আসছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেলকে সরানোর প্রস্তাবও দিয়েছে। অর্থাৎ শুধু অর্থনৈতিক চাপ নয়, নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবিও সরাসরি তুলে ধরা হয়েছে। কিউবা এই পরিস্থিতিকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হিসেবে দেখছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো চুক্তি হলে তা তাদের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে সম্মান করেই হতে হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
"যে পেনাল্টিটা আটকালাম, ইতিহাসে খোদাই করা থাকবে", চিঠিতে লিখেছিলেন কোচ চে গেভারা

Che Guevara and Football: গেভারা তার দোস্তকে ডাকত ‘পেদেরনেরিতা’ বলে, এর চেয়ে আদরের ডাক আর কীই বা হতে পারে!

এই সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ। বিদ্যুৎ না থাকায় খাদ্য সংরক্ষণ, হাসপাতালের পরিষেবা, পানীয় জল কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। হাজার হাজার অস্ত্রোপচার করা যায়নি, শহরগুলিতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, মানুষ রাস্তায় নেমে ক্ষোভ দেখাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে কিউবা কিছুটা নরম হতে শুরু করেছে। তারা এখন প্রবাসী কিউবানদের দেশে টাকা বিনিয়োগ করার সুযোগ দিচ্ছে, যা আগে এত সহজ ছিল না। অনেকেই মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত মূলত বর্তমান সংকট সামলানোর জন্যই নেওয়া হয়েছে।

তবে এই পুরো ঘটনাপ্রবাহকে শুধু কিউবার অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি আসলে বৃহত্তর ভূরাজনীতির অংশ। ভেনেজুয়েলা, ইরান এবং লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আগ্রাসী অবস্থানের সঙ্গে এই ঘটনাগুলি সরাসরি যুক্ত। কিউবা সেই বৃহত্তর শক্তির লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলকে চাপ তৈরি করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। জ্বালানি বন্ধ করে দিলে একটি দেশের অর্থনীতি ও মানুষের দৈনন্দিন জীবন খুব সহজেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এমন কৌশল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন নয়, তবে কিউবার ক্ষেত্রে এটি অনেক বেশি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একদিকে একটি দেশ জ্বালানি সংকটে দিশেহারা, অন্যদিকে একটি সুপারপাওয়ার প্রকাশ্যে সেই দেশের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা বলছে। এই অবস্থায় কূটনৈতিক সমাধান না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।

কিউবার মানুষ এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। তারা বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে যেমন দিন কাটাচ্ছে, তেমনই আন্তর্জাতিক রাজনীতির খেলায়ও আটকে পড়েছে। আর সেই খেলায় শেষ পর্যন্ত কী হবে, কিউবা কি নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারবে, নাকি চাপে পড়ে ক্ষমতার পরিবর্তন হবে, তা সময়ই বলবে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?