মেয়ের সাফল্যই মৃত্যুর কারণ? যেভাবে মুখোশ খুলল পিতৃতন্ত্র

Radhika Yadav Murder : গতবছর রাধিকা যে মিউজিক অ্যালবামে অভিনয় করেছেন, যাতে তাঁর সহ-অভিনেতা ছিলেন এক মুসলিম যুবক, সেই অভিনয় করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পিতাপুত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিলই। এই খুন সম্ভবত তার জেরেই।

Praheli D Chowdhuri
৫ মিনিট
মেয়ের সাফল্যই মৃত্যুর কারণ? যেভাবে মুখোশ খুলল পিতৃতন্ত্র

রাধিকা যাদবের মৃত্যুর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেল। খুনি, রাধিকার বাবা দীনেশ যাদব, পুলিশের কাছে নিজেই ধরা দিয়েছে। জবানবন্দিতে বলেছে,

ওয়াজিরাবাদে দুধ আনতে গেলেও লোকে আমাকে কথা শোনাত। বলত, আমি নাকি আমার মেয়ের পয়সায় খাই। মেয়ের চরিত্র নিয়েও ওরা কেচ্ছা করত। রাধিকাকে তাই আমি ওর টেনিস একাডেমি বন্ধ করতে বলেছিলাম। কিন্তু ও আমার কথা শোনেনি। আমার মর্যাদা আর আত্মসম্মানে ও আঘাত করেছিল। আমি ওর ওপর খুবই বিরক্ত হয়ে ছিলাম। তাই আমি ওকে গুলি করেছি। পেছন থেকে। সেদিন যখন ও রান্না করছিল, তখন।

খুনি নিজেই আত্মসমর্পণ করে নিলে, তাকে ‘ওপেন অ্যান্ড সাট কেস’ ধরা হয়। কিন্তু খাতায় কলমে ‘সাট ডাউন’ হয়ে গেলেও এক্ষেত্রে যে-প্রশ্নটা অবিরাম মাথায় ঘুরপাক খেয়ে বেড়াচ্ছে, তা হল দীনেশ যাদব তার একমাত্র কন্যাকে খুনটা করল কেন? বিশেষত সেই কন্যা, যাকে সে প্রাণাধিক ভালবাসত। যাকে দীনেশ গুরগাঁও-এর সেরা এবং সবচেয়ে খরচবহুল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়িয়েছিলেন, যাকে নিয়ে কথায়-কথায় সে পাড়া-প্রতিবেশী আর আত্মীয়স্বজনের কাছে গর্ব করত, যাকে টেনিস খেলার অনুপ্রেরণা দিয়েছিল সে নিজেই, যাকে সেরা টেনিস কোচিং দেওয়ার জন্য খরচ করেছিলেন প্রায় আড়াই কোটি টাকা; সেই মেয়েকে, সেই খেলার কারণেই কেন খুন করল দীনেশ?

অনেকেই অবশ্য মনে করছেন টেনিস নয়। গতবছর রাধিকা যে মিউজিক অ্যালবামে অভিনয় করেছেন, যাতে তাঁর সহ-অভিনেতা ছিলেন এক মুসলিম যুবক, সেই অভিনয় করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পিতাপুত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিলই। এই খুন সম্ভবত তার জেরেই। কিন্তু খুন পরবর্তী জবানবন্দিতে দীনেশ যাদব যেহেতু সে-কথার উল্লেখমাত্র করেনি, তাই এই অ্যালিবাইতে বিশ্বাস করলে দীনেশ যাদবের জবানবন্দিকে মিথ্যে ধরতে হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মেয়ের স্বাবলম্বিতাই চক্ষুশূল।। রাধিকাহত্যা চিনিয়ে দিল পিতৃতন্ত্রের স্বরূপ

Patriarchal Fear in India: সন্তানের সম্পূর্ণ জীবন বাবা-মা চালনা করতে পারেন না। মুশকিল হল, অনেকেই ভেবে নেন যে তাঁরা পারেন। আসলে, সন্তানের জীবনের প্রতি অতিরিক্ত নজর, অতিভাবনা, সন্তানকে নিয়ে অতিউচ্চাশা এইসব অন্যায়ের মূল।

তবে টেনিস বা মিউজিক এ্যালবাম-উপলক্ষ যেটাই হোক না কেন, হরিয়ানার বাসিন্দা দীনেশ যে আপন মর্যাদা আর আত্মসম্মানে আহত হয়েই মেয়েকে খুন করেছে এবং নিজেই সে-কথা স্বীকার করেছে, সে সত্য অটুট থাকে। তাই আক্ষরিক অর্থেই একে ‘অনার কিলিং’ বলা যায়। বাপের সম্মানে আঘাত করেছে যে মেয়ে, সে-তো গোটা পরিবারের মর্যাদাই ধুলোয় লুটিয়েছে। কারণ বাপ-ই তো পরিবার। পিতৃতান্ত্রিক সমাজ শিখিয়েছে; সংসারে বাকিরা নিমিত্ত মাত্র। তাই পিতার মর্যাদা রক্ষা করতে পারে না যে মেয়ে, তার রক্তে হরিয়ানার মাটি আগেও ভিজেছে, এবারও ভিজল। এ-বড়ো নতুন কথা নয়। চেয়ে দেখুন, এমন ভুরি-ভুরি ঘটনার পচা পাঁক হরিয়ানা, ঝাড়খন্ড, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, অন্ধ্রপ্রদেশ কিংবা গুজরাটের আনাচ-কানাচ আজও ভরিয়ে রেখেছে। দীনেশ যাদবরা এমন একেকটা ঘটনা ঘটিয়ে তাতে নতুন করে ঢিল ফেলে কেবল। পাঁকজল খানিক খলবলিয়ে ওঠে। দুর্গন্ধ ছড়ায় নাকে। তারপর জলও থিতিয়ে যায়, নাকও সয়ে যায়। আর দেশ জোড়া পচা পাঁক আরও, আরও বাড়তে থাকে। তাকে পরিষ্কারের দায় নেয় না কেউ।

রাধিকা যাদব

অথচ দীনেশ যাদবরা কিন্তু নিজে থেকে সেই পাঁকে নামতে চায়নি। সমাজ তাদের নামিয়েছে। সেই সমাজ, যা মনে করে পুত্র সন্তান আপন রোজগারের টাকায় বাপ-মার ভরণপোষণ না করলে তা অপরাধ। আর কন্যা সন্তান তার রোজগারের সিকিভাগও বাপ-মা কে দিলে অপরাধ। মনে করে, ওসব খেলাধুলা করা মেয়েদের চরিত্র নিয়ে তো দু-চার কথা চাইলেই বলে দেওয়া যায়। আর মেয়ে অভিনয় করলে তো কথাই নেই। সে নির্ঘাত শুয়ে বেড়ায় এদিক-সেদিক। মনে করে, এমন অবাধ্য মেয়েকে বাগে আনার দায়িত্ব তো পিতারই। তাই দিনের পর দিন রাধিকার মত গুণী মেয়েরও চারিত্রিক দোষ বার করে মেয়ের বাপের কান ঝালাপালা করে দেয়; ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না তিনি ঈশপের গল্পের মত অপরের মুখের কথাকে নিজের বোধবুদ্ধির থেকে বেশি সত্য বলে মনে করেন। যতক্ষণ না পর্যন্ত কাঁধের ছাগলটিকে তিনি সত্যি-সত্যিই গাধা ভেবে ফেলে দেন। যতক্ষণ না পর্যন্ত একজন পিতা তার পিতার ভূমিকা থেকে সরে গিয়ে নিজেই হয়ে ওঠেন শয়তান, পাঁক সমাজেরই প্রতিনিধি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মণিপুর থেকে মুর্শিদাবাদ: মেয়েদের লাঞ্ছনাতেই উগ্রবাদীদের জয়?

Murshidabad: ওয়াকফ কতটা ধর্মীয় মাথাব্যথা, আর কতটাই বা তা জমি অধিগ্রহণ জনিত চিন্তা থেকে প্রসূত? ওয়াকফের জমি কি সাধারণ মুসলমানের কাজে লাগে?

দীনেশ যাদব

আসলে রোজগেরে মেয়েদের বড়ো ভয় পায় এই সমাজ। তার ওপর রাধিকার মত সফল হলে তো কথাই নেই। আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশনের ৩৬ টি সিঙ্গল এবং ৭ টি ডাবলস খেলেও যে মেয়ে ক্ষান্ত হয় না, উলটে উইম্বলডনে খেলতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে; হরিয়ানায় মহিলাদের মধ্যে পঞ্চম আর আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশনের ১৯৯৯ র‍্যাঙ্কিং পেয়েও যে মেয়ের ডানা ক্লান্ত হয় না, বরং টেনিসের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে যেতে চায়, সে তো সাধারণ মেয়ে নেয়। সে আজ রোজগার করছে, কাল স্বাধীন হবে, পরশু নিজেই নিজের সিদ্ধান্ত নেবে, তরশু আপনার আমার ঘরের মেয়ের রোলমডেল হয়ে পথ দেখাবে… কী কেলেঙ্কারি কী কেলেঙ্কারি। পিতৃতান্ত্রিকতার একেবারে শিকড়ে আঘাত!। বিষবৃক্ষকে তাই মারতে হবে চারা অবস্থাতেই। নইলে সমাজে পিতৃতন্ত্র নামক 'জঙ্গল রাজ' কায়েম থাকবে কি করে?

তাছাড়া সন্তানকে আপন আমানত ভাবার এক দূরারোগ্য ব্যাধি তো এদেশে আছেই। বিশেষ করে কন্যা সন্তানকে। কারণ পুরুষ মানুষ রাতবিরেতে বাইরে কাজ করতে যায়, আড্ডা মারতে যায়, তারা রাগ কন্ট্রোল করতে পারে না, উপরন্তু জন্মায়ই (নাকি) খানিক মেজাজি আর দুরন্ত হয়ে! তাই তাদের ভুল্ভ্রান্তির তো আর হিসেবনিকেশ চলে না। পরিবার বা সমাজের মর্যাদা রক্ষার সমস্ত দায়টাই মেয়েদের নিতে হয়। যুগে-যুগে। এই সনাতনী চিন্তাকাঠামো এতটাই প্রবল বিশ্বাসের, এতটাই জোরালো এবং মজ্জাগত যে, কন্যাকে যতই ভালবাসি না কেন, সম্মানের জায়গায় আঁচড় লাগলে কিংবা বিরক্তির কারণ হয়ে উঠলে, আপন সম্পত্তির মতোই তাকে আঘাত করা যায়, মেরে ফেলা যায়। যেমনটা করেছিল গফুর মিয়া। শরৎচন্দ্রের 'মহেশ' গল্পে।রাধিকারা তাই এই সমাজের শিকার। এই পিতৃতান্ত্রিকতার শিকার। ওরা মরেও মরে না। ওরা প্রতিবাদ নাম নিয়ে, বুকের মধ্যে অনির্বাণ আগুন হয়ে জ্বলতে থাকে ধিকি ধিকি। লোসানা ম্যাকওয়ান, আতিফি সাহালে, আহু দরাই, আঞ্জিজা শিনওয়াড়ি কিংবা মাসা আমিনির মত।

রাধিকার বাড়িতে পুলিশের তদন্ত

আর, দীনেশ যাদবরা তো বেঁচে থাকলেও, আসলে সেই কবেই মরে গেছে। মেয়েকে খুন করার অনেক আগে, মেয়েকে ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থেকে তার অভিনীত মিউজিক অ্যালবামটি মুছে ফেলতে বলার আগে, এমনকি মেয়েকে টেনিস একাডেমী বন্ধ করতে বলারও অনেক…অনেক আগেই মরে গেছে তারা। ফ্ল্যাশব্যাকে খুঁজে নিন সেই দিনটি; একেবারে শুরুর সেদিন, যেদিন পাড়ার কোন এক প্রতিবেশী কিংবা আত্মীয়র মুখে মেয়ের সম্পর্কে কটু কথা শুনে প্রতিবাদ না-করে ফিরে এসেছিলেন তিনি; পাল্টা জবাব দেওয়ার বদলে দুঃখ পেয়েছিলেন আপন মনে, আর বিশ্বাস করেছিলেন যে লড়াই নয়, মেয়ের পাশে দাঁড়ানো নয়। বরং 'ওদের' কথামতো খেলা ছেড়ে দিয়ে, অভিনয় ছেড়ে দিয়ে, অ্যাকাডেমি বন্ধ করে দিয়ে তার মেয়ের উচিত সমাজের বাঁধা গত মেনে নিয়ে বাড়ির পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করে সংসার পাতা। সেইদিন, ঠিক সেই মুহূর্তেই মরে যায় দীনেশ যাদবরা। খুনটা, তাই দীনেশ যাদব করেনি। একটা অলরেডি মরে যাওয়া মানুষ অন্যকে আর মারবে কি করে? রাধিকা যাদবকে হত্যা করেছি আমি, আপনি, এই সমাজ। এই পিতৃতান্ত্রিক, অবদমনকারী সমাজ। যার ঘরে-ঘরে নিত্য জমা হয় নারী নির্যাতনের পাঁক।

আর আমরা নাক সিঁটকে থাকি। পরিষ্কার করতে এগোই না।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।