সাত দিন ধরে টানা যোগাযোগহীন গাজা, ব্ল্যাকআউটই কি গণহত্যার নয়া 'অস্ত্র' ইজরায়েলের?

Israel War on Gaza: আপাতত গাজা স্ট্রিপ সম্পূর্ণ ভাবে অন্ধকার। এই নিয়ে প্রায় সাত দিন হতে চলল গাজায় টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভাবে বিপর্যস্ত।

Sohini Das
৩ মিনিট
সাত দিন ধরে টানা যোগাযোগহীন গাজা, ব্ল্যাকআউটই কি গণহত্যার নয়া 'অস্ত্র' ইজরায়েলের?

ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধে একশো দিন পেরিয়ে গিয়েছে এর মধ্যেই। তবে যুদ্ধে কোনও বিরতির সম্ভাবনা নেই এখনও। আপাতত গাজা স্ট্রিপ সম্পূর্ণ ভাবে অন্ধকার। এই নিয়ে প্রায় সাত দিন হতে চলল গাজায় টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভাবে বিপর্যস্ত। ফলে এই মুহূর্তে গাজা স্ট্রিপে ঠিক কী ঘটছে, তার হদিস পাচ্ছে না কেউ। কারণ ইচ্ছাকৃত ভাবে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে গাজাকে। এরই মধ্যে মুহুর্মুহু ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলা যেন লেগেই রয়েছে।

গাজা জুড়ে শুধু যুদ্ধের চিহ্ন। চারদিক জুড়ে শুধু গণকবর আর ধ্বংসস্তূপ। এর মধ্যে হামলার তীব্রতা দফায় দফায় আরও বাড়াচ্ছে ইজরায়েল। খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের পরিস্থিতি ভাবনার বাইরে। সেই হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই অন্ধকার অবস্থার সুযোগ নিয়ে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েল। হাসপাতালকে নিশানা করে নেমেছে একের পর এক আঘাত। ফলে হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে কার্যত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
খিদের মার, শীতের ছোবল! যুদ্ধের একশো দিন পেরিয়ে যেমন আছে গাজা...

Gaza-Israel War: যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার জনসংখ্যার অন্তত ৯৩ শতাংশই খাদ্যসংকটের মুখোমুখি। হু জানিয়েছে, চারটি পরিবারের মধ্যে অন্তত একজন করে খাদ্যের চরম অভাব ও অনাহারে ভুগছে।

এদিকে গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতে ইজরায়েলকে কাঠগড়ায় তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে তার পরেও আগ্রাসন কমানো যায়নি বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকারের। এমনিতেই সব দিক থেকে খারাপ পরিস্থিতিতে রয়েছে গাজা। যুদ্ধের সঙ্গে অবশ্যম্ভাবি ভাবে এসে জুটেছে খাদ্যসংকট। ওষুধ নেই, চিকিৎসা পরিষেবা নেই। তার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ এখন। বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, এই পরিস্থিতিতির সুযোগ আরও ধ্বংসের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে ইজরায়েল। ডিজিটাল নাগরিক অধিকার গ্রুপ অ্যাকসেস নাও ইন্তত তেমনটাই আশঙ্কা করেছে। ওই সংস্থার পলিসি ও অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর মারয়া ফাতাফতা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, ইন্টারনেট বন্ধকে কখনও যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। গাজা উপত্যকায় যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা যায়, তার জন্য আবেদন করেছেন একাধিক মানবাধিকার সংগঠন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গাজায় গণহত্যার দলিল হাতে আন্তর্জাতিক আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকার সওয়াল, ন্যায়বিচার পাবে প্যালেস্টাইন?

Israel's Genocidal Intent: দক্ষিণ আফ্রিকার বক্তব্য, “ইজরায়েল যেভাবে ক্রমাগত সেনা হামলা করে চলেছে, তা ইজরায়েলের গণহত্যার অভিপ্রায়টিকেই স্পষ্টতর করে তোলে।"

প্যালেস্টাইনের একটি অন্যতম ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা প্যালটেল জানিয়েছে, ইজরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় সমস্ত টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ রূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্লাউডফ্লেয়ারের ব়্যাডারে ধরা পড়েছে সেখানকার টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিসের এই ভয়াবহ ছবি। ওয়াচডগ নেটব্লকসের তরফে জানানো হয়েছে, গত বৃহস্পতিবারই ১৪৪ ঘণ্টার কোটা পার করে গিয়েছে এই যোগাযোহীনতা। ইজরায়েল-হামাস দ্বন্দ্বে একাধিক বার গাজাকে যোগাযোগহীন করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে ইজরায়েল। উদ্দেশ্য একটাই, যাতে গাজার খবর বাইরে না পৌঁছয়।

তবে কি আন্তর্জাতিক আদালতে ওঠা গণহত্যার অভিযোগ নিয়ে চাপে পড়েছে ইজরায়েল। এর আগে একাধিক বার রাষ্ট্রপুঞ্জে অন্যান্য দেশের আনা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে ইজরায়েল। আমেরিকা, ব্রিটেনের মতো হাতে গোনা কয়েকটি রাষ্ট্র ছাড়া আর কোনও দেশই সমর্থন করেনি ইজরায়েলের এই যুদ্ধনীতিতে। তবে কি আন্তর্জাতিক আদালতে ওঠা অভিযোগকে ভিতরে ভিতরে আমল দিচ্ছে ইজরায়েল? সে কারণেই গাজার পরিস্থিতি বাইরের দুনিয়ার সামনে আসতে দিচ্ছে না নেতানিয়াহু সরকার। গোড়া থেকেই বারবার টেলিকমিউনিকেশন ভবনগুলিকে নিশানা করে হামলা চালিয়ে গিয়েছে ইজরায়েল। বারবার ব্ল্যাক আউটের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে গাজাকে। আর তার উদ্দেশ্য বুঝতে বোধহয় বিশেষ অসুবিধা হয় না।

এই সমস্ত আশঙ্কার মধ্যে ক্রমশ হয়রানি বাড়ছে গাজাবাসীর। একে তো মাথার উপর বোমারু বিমানের চক্কর, প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই দেশে শুরু হয়ে গিয়েছে খাদ্যসংকট। ওষুধপত্র থেকে শুরু করে ন্যূনতম চিকিৎসার সরঞ্জামটুকুও নেই গাজায়। মহিলা ও শিশুদের অবস্থা সবচেয়ে কঠিন। ইতিমধ্যেই গাজায় মৃতের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। তার মধ্যে একটা বড় অংশ জুড়ে শিশু। কবে থামবে এই যুদ্ধ? আদৌ থামবে কি! সেই আশাটুকুও বোধহয় আর করতে পারছে না গাজাবাসী।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।