পরঞ্জয় বনাম আদানি! "সরকার আমাদের পকেটে"
Paranjoy Guha Thakurta: আদানি গোষ্ঠীর কৌশলী আদালতে আবেদন জানায় যাতে রায়দানের আগে পর্যন্ত সমস্ত প্রতিবেদনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বিচারপতি সঞ্জীব চৌধুরী বলেন, কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছে এমন নিদান দেওয়া অসম্ভব।

দিল্লির রোহিণী আদালত অদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড এর বিরুদ্ধে মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগে সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহ ঠাকুরতা এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে জারি করা একটি এক্স-পার্টে নিষেধাজ্ঞার আদেশের বিরুদ্ধে পাল্টা আবেদনের ভিত্তিতে রায় সংরক্ষিত রাখল।
৬ সেপ্টেম্বর জারি ওই আদেশে সাংবাদিক ও সামাজিক কর্মীদের আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট মুছে ফেলতে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি নতুন কোনো লেখা প্রকাশ না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
পরঞ্জয় গুহঠাকুরতার পক্ষে আইনজীবী ত্রিদীপ পাইস বৃহস্পতিবার আদালতে যুক্তি দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার এই মামলায় পক্ষই নয়। তাহলে মিডিয়া হাউস এবং ইউটিউব চ্যানেলগুলোর বিরুদ্ধে কী ভাবে ব্যবস্থা নিতে পারে তথ্যমন্ত্রক? এই ঘটনা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয় কি? মানহানির আইনি সীমারেখা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরঞ্জয়ের আইনজীবী।
পরঞ্জয়ের আইনজীবীর প্রশ্ন, আদানি গোষ্ঠী বলতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ফলে, এনার্জি সেক্টরে ভারতের সমূহ ক্ষতি হয়েছে। আদানি মানে কি ভারত? আদালত বুঝিয়ে বলেনি ঠিক কী কারণে এই প্রতিবেদনগুলি মানহানিকর। আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে আদানি গোষ্ঠী এ যাবৎ দোষী সাব্যস্ত হয়নি। কিন্তু এর মানে কি তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ মানহানিকর? এ ক্ষেত্রে বাদী পক্ষের পায়ে বিচারকের জুতো পরানো হয়েছে। তাকেই যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার দেওয়া হয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Adani: আদালতের একতরফা আদেশের ভিত্তিতে তথ্য ও সম্প্রচার দফতরের নোটিশ; নোটিশে নিউজলন্ড্রি, দ্য ওয়্যার, রবিশ কুমার, ধ্রুব রাঠীসহ অনেকের নাম।
আদানি গোষ্ঠীর কৌশলী আদালতে আবেদন জানায় যাতে রায়দানের আগে পর্যন্ত সমস্ত প্রতিবেদনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বিচারপতি সঞ্জীব চৌধুরী বলেন, কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছে এমন নিদান দেওয়া অসম্ভব।
আদানি গোষ্ঠীর পক্ষে এই মামলা লড়ছেন বরিষ্ঠ আইনজীবী অনুরাগ আলুয়ালিয়া। এদিন আদালত তাকে জিজ্ঞেস করে, পরঞ্জয়ের লেখার কোন অংশটি আপত্তিকর?
"সরকার আমাদের জন্যে আইন বদলেছে, এই অংশটা", আলুয়ালিয়া বলেন।
"তো আপকো ইসমে ধিক্কত কেয়া হো রহি হ্যায়?," প্রশ্ন করেন বিচারপতি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Goutam Adani সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরির জন্য সরকারি আধিকারিকদের ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্য বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিপথে চালনা করার অভিযোগ এবার আদানিদের বিরুদ্ধে।
আলুয়ালিয়া বলেন, "এই সব প্রতিবেদনে পক্ষান্তরে বলতে চাওয়া হচ্ছে, মোদি সরকার আদানি গোষ্ঠীকেই সুবিধে পাইয়ে দিতে আইন বদলে দিয়েছে"। তিনি আরও বলেন, "ওরা গতকাল আদালতে বলতেই শুরু করে, মোদি সরকার আমাদের পকেটে।"
"আপনিও কারও পকেটে থাকতে পারেন, কী এসে যায়?" জবাব আদালতের।
আরেকটি প্রতিবেদন দেখিয়ে আলুয়ালিয়া বলেন, "এখানে আমাদের কাজকে স্ক্যাম বলা হয়েছে, এখানেই থামেনি, বারবার এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে...। ওরা ঘরে বসে গল্প বানাচ্ছে। আমরা কী বসে বসে দেখব যে আমাদের শেয়ার তলানিতে গিয়ে ঠেকছে? আমরা জানতে চাইব না এর পেছনে চিনা স্বার্থ আছে কিনা?"
আদানি গোষ্ঠীর কৌসুলী বিজয় গারওয়াল মনে করিয়ে দেন, পরঞ্জয়কে এনআইএ (ন্যাশানাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি) ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
এই পরিস্থিতিতে পালটা বিবৃতি দেন পরঞ্জয়ের আইনজীবী। আদালত জানতে চায় পরঞ্জয়ের প্রতিবেদনের তথ্যের উৎস। আইনজীবী দেখিয়ে দেন প্রতিবেদনের তথ্য পাবলিক ডোমেন অর্থাৎ জনগণের জন্য সংরক্ষিত তথ্যভান্ডার থেকেই পাওয়া।
এরপর আদালত রায়দান সংরক্ষিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ৬ সেপ্টেম্বর রোহিনী আদালতের সিভিল জজ অনুজ সিং রায়দান করে বলে আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে লেখা প্রতিবেদন সরিয়ে ফেলতে হবে। নতুন করে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা যাবে না। পরঞ্জয়ের আবেদনে বলা হয়, কোন প্রতিবেদন কেন মানহানিকর তা বলা হয়নি। সাংবাদিকদের দায়ের করা আরেকটি আবেদনে বলা হয় প্রতিবেদনগুলিতে আদানি গোষ্ঠী বা গৌতমআদানির নাম বলা হলেও আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের নাম নেওয়া হয়নি।






