বাড়িতেই ছিল ঘাতক গাড়ির 'চালক'! দিল্লির তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য যেন বেড়েই চলেছে
Delhi Hit and Run Case Anjali Singh : ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে নতুন নতুন তথ্য সামনে পাচ্ছে দিল্লি পুলিস। ফলে সমস্ত ব্যাপারটি নিয়ে জলঘোলা অব্যাহত।

ছিল পাঁচ, হল সাত। দিল্লির তরুণী অঞ্জলি সিংয়ের মৃত্যুর ঘটনায় যত তদন্ত এগোচ্ছে, রহস্য যেন আরও বেশি করে দানা বাঁধছে। ১ জানুয়ারির ভোর রাত পেরিয়ে গিয়েছে অনেকক্ষণ। কিন্তু দিল্লির কাঞ্ঝাওয়ালা এলাকার সেই ভয়াবহতার রেশ এখনও যেন কাটছে না। ২০ বছরের তরতাজা একটি প্রাণ বেঘোরে চলে গেল, মেনে নিতে পারছেন না কেউ। এদিকে ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে নতুন নতুন তথ্য সামনে পাচ্ছে দিল্লি পুলিস। ফলে সমস্ত ব্যাপারটি নিয়ে জলঘোলা অব্যাহত।
২০২৩-এর ১ জানুয়ারি ভোর রাতে কাজ সেরে এক বান্ধবীর সঙ্গে স্কুটার নিয়ে ফিরছিলেন অঞ্জলি সিং। হঠাৎই একটি চারচাকার গাড়ি এসে তাঁর স্কুটারে ধাক্কা মারে। অঞ্জলি ওই গাড়ির নিচে আটকে পড়েন। সেই অবস্থাতেই বেশ কয়েক কিলোমিটার প্রবল বেগে চলতে থাকে ওই গাড়িটি। ঘটনার সময় ওই জায়গা থেকে চলে যান অঞ্জলির বান্ধবী। এদিকে বারবার বলার পরও গাড়ির ভেতরে থাকা পাঁচজন সেটি থামায়নি। পরে এক জায়গায় থেমে ওই তরুণীর রক্তাক্ত দেহ রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায় তারা। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দীপক, অমিত, কৃষাণ, মিঠুন ও মনোজকে গ্রেফতার করে পুলিস।
এত অবধি গোটা ভারতই জেনে গিয়েছে। অঞ্জলির ময়না তদন্তের রিপোর্টও প্রকাশ্যে আসে। গাড়ির চাকার নিচে আটকে যাওয়ার ফলে আঘাত অনেক গুরুতর ছিল তাঁর। মোট ৪০ টি গভীর ক্ষত পাওয়া গিয়েছে তাঁর শরীরে। সেইসঙ্গে পাওয়া গিয়েছে পোড়া দাগ; যা চলন্ত গাড়ি আর রাস্তার ঘর্ষণের ফলে তৈরি হয়েছে। কিন্তু যৌন হেনস্থার কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
ধৃত পাঁচজনকে জেরা করার সময় বারবার বিভ্রান্ত হচ্ছিল পুলিস। প্রথম থেকেই নানারকম কথা বলছিল ধৃতরা। প্রথমে জানানো হয়েছিল, গাড়ির নিচে এক মহিলা আটকে রয়েছে, সেটা বুঝতেই পারেনি তারা। পরে বলা হয়, একটা সময় পর বুঝতে পেরেছিল। তারপরই কাঞ্ঝাওয়ালা এলাকায় হাইরোডের ওপরই রক্তাক্ত অঞ্জলিকে ফেলে ওই পাঁচজন পালিয়ে যায়। গোটা ঘটনায় খেয়াল করে দেখুন গাড়ির আরোহীর সংখ্যা। বারবার বলা হচ্ছে, পাঁচজনই ওইদিন গাড়িতে ছিল। ধৃতরা জানায়, গাড়ি চালাচ্ছিল দীপক।
কিন্তু তদন্ত একটু এগোতেই ধাঁধাঁয় পড়ে পুলিস। জানা যায়, ওইদিন পাঁচ নয়, চারজন ছিল ওই গাড়িতে। অনুপস্থিত ছিল খোদ দীপকই! যে গাড়ি চালাচ্ছিল, সে নিজেই গাড়িতে ছিল না! চেপে ধরতেই সমস্ত বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ধৃতরা বলে, ওইদিন অমিত চারচাকা গাড়িটি চালাচ্ছিল। আর দীপক? সে নাকি নিজের বাড়িতেই ছিল! ঘটনা ধামাচাপা দিতে দীপককে বারবার সামনে আনা হচ্ছিল। কিন্তু কেন এই বিভ্রান্তের চেষ্টা? কে নির্দেশ দিচ্ছে?
এই শেষ প্রশ্নের উত্তরে সামনে আসে আরও দুজনের নাম। আশুতোষ এবং অঙ্কুশ খান্না। অঙ্কুশ সম্পর্কে অমিতের ভাই; আর আশুতোষ ওই চারচাকার মালিক। তার থেকেই গাড়িটি নিয়ে বর্ষবরণের রাতে আনন্দ করতে বেরোয় ওই চারজন। তদন্তে আরও একটি সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করে পুলিস। দেখা যায়, মাঝরাস্তায় গাড়ি থেকে নেমে অটো ধরে পালায় অভিযুক্তরা। শুনশান রাস্তার ওই বিশেষ জায়গায় আগে থেকেই আরও কয়েকজন উপস্থিত।
অভিযুক্তরা জানায়, আশুতোষই বারবার বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে পুলিসকে। তার কথামতোই সমস্তটা হয়। শেষমেশ অবশ্য আশুতোষকে গ্রেফতার করে পুলিস। সেই খবর সামনে আসার পর থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে অঙ্কুশও। দিল্লির ঘটনায় কি আরও রহস্য লুকিয়ে আছে? একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিস।
















