দিল্লির ইজরায়েলি দূতাবাসে 'হামলা' ঘিরে আতঙ্ক! কোন রহস্য পতাকা মোড়া ওই চিঠিতে?
Explosion near Israel embassy in New Delhi: ইজরায়েলের রাজধানী তেল আভিভের তরফে ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে একটি নির্দেশিকা। সতর্ক করা হয়েছে ভারতে বসবাসকারী ইজরায়েলিদের।

ইজরায়েল ও হামাসের যুদ্ধ দেখতে দেখতে পেরিয়ে গিয়েছে আশি দিন। প্যালেস্টাইনে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই পেরিয়ে গিয়েছে অন্তত ২১ হাজার। তার পরেও আগ্রাসন কমাতে নারাজ ইজরায়েল। ইজরায়েল-গাজা উত্তেজনার মধ্যেই আবার দিল্লিতে ভারতের ইজরায়েল দূতাবাসের কাছে মঙ্গলবার ঘটল বিস্ফোরণ। আর সেই বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করেই রহস্য ক্রমশ বাড়ছে। এরই মধ্যে হাতে এসেছে একটি বেনামী চিঠি। শুধুই বিস্ফোরণ না এর নেপথ্যে রয়েছে বড় কোনও হামলা, উঠেছে প্রশ্ন।
মঙ্গলবার দিল্লির চাণক্যপুরী এলাকায় ইজরায়েলের দূতাবাসের সামনেই একটি ফাঁকা এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। তবে কোনও হতাহতের খবর নেই। সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে দুই সন্দেহভাজনের ছবি। যাদের বিস্ফোরণস্থলের সামনে দেখা গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দূতাবাসের কাছাকাছি গোটা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যে ফাঁকা জমিতে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, সেই জমি থেকে একটি হুমকি চিঠি উদ্ধার হয়েছে। ইংরেজিতে লেখা ওই চিঠিতে গাজায় ইজরায়েলের হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ওই চিঠির সঙ্গে 'স্যার আল্লা রেজিস্টান্স' নামে কোনও সংগঠনের যোগ আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চিঠিটি আবার পতাকায় মোড়া ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। 'জায়োনিস্ট', 'প্যালেস্টাইন', 'গাজা'- এই সমস্ত শব্দের উল্লেখ ছিল চিঠিতে। ইতিমধ্যেই চিঠি ও পতাকাটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ইজরায়েলের দূতাবাসের কাছে বিস্ফোরণ ঘটেছে, এই মর্মে দিল্লি পুলিশের কাছে একটি ফোন আসে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ডগ স্কোয়াড, বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড, পাঠানো হয় ফরেন্সির টিমও। ইজরায়েল দূতাবাসের থেকের কয়েক মিটার দূরেই একটি ফাঁকা জমি। সেখান থেকেই ইজরায়েলি দূতাবাসকে উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠিটি উদ্ধার করে পুলিশ।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Hamas-Israel Conflict: অক্টোবর যে ধ্বংসলীলা ইজরায়েলে চালিয়েছিল হামাসরা, তাতে অসংখ্য মহিলার মৃতদেহ মিলেছিল, যাঁদের শরীরে ভয়ঙ্কর যৌন লালসা পূরণের চিহ্ন দেখা গিয়েছে।

ইজরায়েলর ডেপুটি এনভয় ওহাদ নাকাশ কায়নার একটি ভিডিও বিবৃতিতে জানান, বিকেল পাঁচটা নাগাদ দূতাবাসের খুব কাছেই একটি বিস্ফোরণ ঘটে। তবে দূতাবাসের কোনও কর্মীর কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। দূতাবাসের সমস্ত কূটনীতিকই সুস্থ রয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনার পরে বাড়ানো হয়েছে দিল্লির ওই এলাকার নিরাপত্তা। মধ্য দিল্লির পহরগঞ্জ এলাকার চাবাদ হাউসের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ওখানকার ইহুদি কমিউনিটি সেন্টার এলাকা ঘিরে রেখেছে নিরাপত্তা কর্মীরা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Palestinian Prisoners in Israel Jail : ১৯৬৭ সাল থেকে ইজরায়েলের দখলে এই এলাকা। ৭ অক্টোবর থেকে ইজরায়েল এই এলাকায় ৩,২৯০ জনকে গ্রেফতার করেছে।
গত বারো বছরে এ নিয়ে তৃতীয় বার হামলার ঘটনা ঘটল দিল্লির ইজরায়েল দূতাবাসে। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি বাইকারোহী দুষ্কৃতী ইজারায়েলি প্রতিরক্ষা অ্যাটেচির স্ক্রীর গাড়িতে স্টিকিবোমা লাগিয়ে চলে যায়। বিস্ফোরণে ওই মহিলা ছাড়াও আরও বেশ কয়েক জন দূতাবাস কর্মী ও পথচারী আহত হন। ২০২১ সালে দিল্লির ইজরায়েলি দূতাবাসের সামনে ছোট একটি বোমা বিস্ফোরণ হয়। তাতে বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে কারওর চোট লাগেনি। তার পর এ বছর ২৬ ডিসেম্বর নাগাদ ফের এমন হামলার মুখে পড়ল দিল্লির ইজরায়েলি দূতাবাস।

ইজরায়েলের তরফে এই ঘটনাকে হামলা বলেই চিহ্নিত করা হয়েছে। ইজরায়েলের রাজধানী তেল আভিভের তরফে ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে একটি নির্দেশিকা। সতর্ক করা হয়েছে ভারতে বসবাসকারী ইজরায়েলিদের। শপিং মল, বাজারের মতো ভিড়ভাট্টা এলাকা এড়িয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের। বিশেষত যেসব এলাকায় তাদের সম্প্রদায়ের মানুষের বেশি যাতায়াত, সেই সব এলাকা থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে তাদের। এমনকী এমন কোনও অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে তাঁদের, যেখানে বহু মানুষের ভিড়। এখানেই শেষ নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও রকম ভ্রমণ বা অন্যান্য কাজকর্মের ছবিও পোস্ট করতে বারণ করা হয়েছে তাঁদের। সব মিলিয়ে সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বুঝে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কি ভারতে বসবাসকারী ইজরায়েলিদের উপর বড় কোনও হামলার আশঙ্কা করছে ইজরায়েল কর্তৃপক্ষ।
গোটা বিশ্বের অধিকাংশ দেশের শান্তির পক্ষে সওয়ালকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে গাজার উপর আগ্রাসন বজায় রেখেছে নেতানিয়াহু সেনা। হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুমিছিল, বিধ্বস্ত দেশ, কোনও কিছুই সেই অবস্থান থেকে টলাতে পারেনি তাঁদের। গত ৭ সেপ্টেম্বর প্যালেস্টাইনের সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন হামাস অতর্কিতে হামলা চালায় ইজরায়েলে। তার পরেই গাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করে দেয় ইজরায়েল। একের পর এক হাসপাতাল, শরণার্থী শিবিরে হামলা চালিয়েছে তারা। হামাসদের খোঁজে সুড়ঙ্গে জল ঢেলেছে। যুদ্ধের আশি দিন পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধবিরতির পক্ষে নেই ইজরায়েল। এরই মধ্যে ভারতে ইজরায়েলি দূতাবাসে বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে কি সত্যিই যোগ রয়েছে ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধের। হুমকি-চিঠি অন্তত তেমনটাই আঁচ দিয়েছে। আরও কোনও বড় হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে কি তলে তলে। ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র হাতে।







