দাউদের মৃত্যুর ভুয়ো খবর ছড়িয়েছিল কারা?
Fake News: দাউদের মৃত্যুর খবর ছড়াল কারা? এবারই প্রথম নয়, অতীতেও বারংবার দাউদের অসুস্থতার বা মৃত্যুর ছড়িয়ে ছিল। বারবার এই খবর কারা ছড়ায়?

সমাজমাধ্যমে তো বটেই, সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যমেও চাউর হয়ে হিয়েছিল আন্তর্জাতিক মাফিয়াচক্রের মাথা, আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিম আর নেই। তবে ৪৮ ঘণ্টা 'খবর'টি ভেসে থাকার পর, সেটি ভুল বলে প্রমাণিত হয়। ভুল প্রমাণ করে স্বয়ং ভারতীয় গোয়েন্দা দফতর। কিন্তু প্রশ্ন একটা রয়েই যায়, দাউদের মৃত্যুর খবর ছড়াল কারা? এবারই প্রথম নয়, অতীতেও বারংবার দাউদের অসুস্থতার বা মৃত্যুর ছড়িয়ে ছিল। বারবার এই খবর কারা ছড়ায়?
সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছিল, কুখ্যাত মাফিয়া দাউদ ইব্রাহিমের উপর বিষপ্রয়োগ হয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাকে। অবস্থা আশঙ্কাজনক। এরপরই ছড়ায় মৃত্যুর খবর। কেউ কেউ পাক প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার উল হক কাকরের একটি ট্যুইটের স্ক্রিনশট পোস্ট করেছিলেন। তাতে দাউদের মৃত্যুর খবর ছিল। কিন্তু পোস্টটি ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়। বহু তথ্যযাচাইকারী সংস্থাই জানিয়েছে, ঐ অ্যাকাউন্টটি কাকরের নয়। দাউদের ব্যাপারেও কোনও চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভাইরাল ট্যুইটটির বক্তব্য ছিল, "মানবিকতার মসিহা, পাকিস্তানের প্রত্যেক মানুষ যাঁকে শ্রদ্ধা করতেন, সেই দাউদ ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়েছে। কেউ বা কারা তাকে বিষ দিয়ে হত্যা করেছে। করাচির হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন দাউদ। খোদাতালা তাঁকে জান্নাতে সুখে রাখুন।"
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
underworld don Dawood Ibrahim : মায়ের বন্ধু জেনাবাইয়ের কাছে বসে দিনরাত গল্প শুনত দাউদ। সেই জেনা ছিল বম্বে পুলিশের খোচর। তার হাতেই শুরু হয় দাউদের মগজধোলাই।
Social media users are sharing a screenshot of a tweet of the Caretaker PM of Pakistan, where he’s writing about the death of Dawood Ibrahim.❌
1/3
— DFRAC (@DFRAC_org)
কিন্তু ডিএফআরসিনামে একটি স্বাধীন তথ্যযাচাইকারী সংস্থা ট্যুইটারে জানিয়েছে এই ভাইরাল স্ক্রিনশটটি প্রধানমন্ত্রী কাকরের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টের নয়। এই অ্যাকাউন্টের বানানে একটি অতিরিক্ত 'কে' (k) রয়েছে। যা মূল অ্যাকাউন্টে নেই। এবং কাকর ১৬ ডিসেম্বর তাঁর প্রোফাইল থেকে শেষ পোস্টটি করেছেন। এই অ্যাকাউন্ট এবং স্ক্রিনশট—দুটিই ভুয়ো। মনে করা হচ্ছে এই ভুয়ো খবর পাক সরকারই ছড়িয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। দাউদকে আশ্রয় দেওয়ার দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছে তারা। দাউদকে মৃত ঘোষণা করলে সুবিধা হয় তাদের। তবে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, পাকিস্তানের জনগণ দাউদের ভক্ত—ইত্যাদি প্রকাশ্যে ঘোষণা করে নিজের দিকেই কেন আঙুল তুলবেন তাঁরা?
করাচি থেকে এক আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দাউদ রীতিমতো সুস্থ। সন্দেহজনক কিছুই নজরে আসেনি কারও। নিউজ ১৮-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে দাউদের ডানহাত ছোটা সাকিল জানিয়েছে, দাউদ একেবারে সুস্থ। সে ইতিমধ্যেই দেখা করে এসেছে দাউদের সঙ্গে। ভুয়ো খবর তাকেও চমকে দিয়েছিল।
আরো পড়ুন: আঙুলে গ্যাংগ্রিন নিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে! মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের জীবনে এবার কোন নতুন মোড়?
১৯৯৩-এ পরপর কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে মুম্বইতে। মারা যান ২৫৭ জন। ৭০০ জনের বেশি আহত হন। এরপরই ভারত ছাড়ে দাউদ। জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা কাউন্সিল ২০০৩ সালে তার মাথার দাম ধার্য করেছিল আড়াই কোটি ডলার। আজও ধরা যায়নি দাউদকে। বরং বারবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেই থেকেছে সে।
















