ফিক্সড ডিপোজিটের থেকে বেশি লাভ, ট্যাক্স ছাড় পেতে বিনিয়োগ করুন এই মিউচুয়াল ফান্ডে

মোটা টাকা ট্যাক্স গুণতে হচ্ছে? ফিক্সড ম্যাচিওরিটি প্ল্যান থাকলে বাঁচত অনেক টাকা।

Sourish Das
৪ মিনিট
ফিক্সড ডিপোজিটের থেকে বেশি লাভ, ট্যাক্স ছাড় পেতে বিনিয়োগ করুন এই মিউচুয়াল ফান্ডে

যারা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগে আগ্রহী তাদের জন্য সব থেকে ভালো কিছু ফান্ডের মধ্যে একটি হলো ফিক্সড ম্যাচিউরিটি প্ল্যান মিউচুয়াল ফান্ড। এটি এক ধরনের ঋণ মিউচুয়াল ফান্ড বা ডেট ফান্ড, যেখানে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা আগের থেকে নির্ধারণ করা থাকে। বলতে গেলে এই ধরনের মিউচুয়াল ফান্ড অনেকটা ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্টের মতো। এফএমপি হলো একটি নির্দিষ্ট মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড স্কিম, যা স্কিমের মেয়াদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ম্যাচিওর করা ফান্ড বিভিন্ন ঋণের সিকিউরিটির ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করে থাকে। যদি কেউ এই ধরনের ফিক্সড ম্যাচিউরিটি প্ল্যানে বিনিয়োগ করতে চান তাহলে তাকে আগে থেকে সেই বিশেষ স্কিমের ঋণের সমস্ত সিকিউরিটি বিচার করে নিতে হয়। এরপর অন্তর্নিহিত ঋণের বিভিন্ন সূচকের গুণমান নির্ধারণ করে প্রকল্পের নথি পরীক্ষা করার পরেই সেই খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন আগ্রহীরা। এফএমপি-গুলির মূল লক্ষ্য হলো চক্রবৃদ্ধি সুদের হারের পূর্বাভাস দেওয়া এবং উপযুক্ত নির্বাচন করা, যা ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ রিটার্ন দিতে পারে।

এখানে কি সাধারণ স্থায়ী আমানতের মতো রিটার্ন গ্যারান্টি রয়েছে?

অন্যান্য মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ স্কিমের মতোই ফিক্সড ম্যাচিউরিটি প্ল্যানের ক্ষেত্রেও কোন রিটার্ন গ্যারান্টি থাকে না। ব্যাংকের স্থায়ী আমানতের ক্ষেত্রে আপনারা আগে থেকেই আপনার রিটার্নের পরিমাণ জানতে পেরে যান। তবে মিউচুয়াল ফান্ড বা এই ধরনের কোনো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনোরকম গ্যারান্টিড রিটার্নের ব্যাপার নেই। স্থায়ী আমানত সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে যেমন আগে থেকে সুদের হার এবং রিটার্নের পরিমাণ উল্লেখিত থাকে, ফিক্সড ম্যাচিউরিটি প্ল্যানের ক্ষেত্রে তার কোন বালাই নেই। এই ধরনের মিউচুয়াল ফান্ডের মুনাফার পরিমাণ পুরোপুরি নির্ভর করে মার্কেটের ওঠানামার উপর।

ফিক্সড ম্যাচিউরিটি প্ল্যানের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সময় আপনাকে সেই বিনিয়োগ থেকে আসা মুনাফার শুধুমাত্র সম্ভাবনা জানানো থাকে। সাধারণত এই পূর্বাভাস সঠিক থাকলেও, অনেক সময় কিন্তু এই পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হতে পারে। যদিও, সাধারণত ফিক্সড ম্যাচিউরিটি প্ল্যানের ক্ষেত্রে ম্যাচিউরিটির সময় লাভের অঙ্কের পরিমানে খুব একটা ফারাক হয় না। এই ধরনের প্ল্যানের ক্ষেত্রে যেহেতু একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে, তাই দীর্ঘমেয়াদি প্ল্যান গ্রহণ করলে ক্ষতির সম্ভাবনাটা একটু কম।

ব্যাংকের স্থায়ী আমানতের সঙ্গে তফাৎ কোথায়?

ব্যাংকের স্থায়ী আমানত এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ফিক্সড ম্যাচিউরিটি প্ল্যান, অনেকাংশে প্রায় একই রকম ভাবে কাজ করলেও কিছু তফাৎ রয়েছে এই দুটির মধ্যে। প্রথমত, ব্যাংকের স্থায়ী আমানত আপনাকে আগে থেকেই রিটার্নের পরিমাণ জানিয়ে দেয়। অন্যদিকে, মিউচুয়াল ফান্ডের ফিক্সড ম্যাচিউরিটি প্ল্যানের ক্ষেত্রে আপনারা আগে থেকে কখনোই রিটার্নের ব্যাপারে জানতে পারেন না। তবে এর থেকেও বড় তফাৎটা আছে ট্যাক্সের ক্ষেত্রে। যদি আপনারা ফিক্সড ম্যাচিউরিটি ফান্ডে বিনিয়োগ করেন, তাহলে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিনিয়োগ করলে ট্যাক্সে কিছুটা ছাড় পাওয়া যায়।

ফিক্সড ম্যাচিউরিটি প্ল্যানের ট্যাক্স বেনিফিট?

ডেট ফান্ড বা ঋণ তহবিলের ক্ষেত্রে যেভাবে ট্যাক্স হিসাব করা হয়, এক ধরনের ঋণ তহবিল হওয়ার কারণে সেই একইরকম ট্যাক্সের আওতায় পড়ে মিউচুয়াল ফান্ডের ফিক্সড ম্যাচিউরিটি প্ল্যান। আর এখানেই আসে অতিরিক্ত ট্যাক্স বেনিফিট। তবে এই ট্যাক্স বেনিফিট পেতে হলে আপনার ফিক্সড ম্যাচিউরিটি প্ল্যানের মেয়াদ হতে হবে নূন্যতম তিন বছর। যদি তিন বছর কিংবা তার বেশি মেয়াদের জন্য আপনি ফিক্সড ম্যাচিউরিটি ফান্ড খাতে বিনিয়োগ করেন, তাহলে আপনি পেয়ে যাবেন ইনডেক্সেশনের সুবিধা। এই ইনডেক্সেশন সুবিধা যদি আপনি গ্রহণ করতে পারেন তাহলে আপনার মুনাফার উপর ২০% ট্যাক্স গ্রহণ করবে ভারত সরকার। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের দ্বারা জারি করা রিপোর্ট অনুযায়ী এই মুহূর্তে ভারতের মূল্য বৃদ্ধির হার ৭%। সেই মূল্য বৃদ্ধির হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এই ইনডেক্সেশন সুবিধা প্রদান করা হয় বিনিয়োগকারীকে।

অন্যদিকে, ব্যাংকের সাধারণ স্থায়ী আমানতের ক্ষেত্রে কোনরকম অতিরিক্ত ট্যাক্স বেনিফিট নেই। সুদ বাবদ স্থায়ী আমানতের ক্ষেত্রে যত টাকা রেভিনিউ হিসেবে পাওয়া যায়, তার পুরোটাই করদাতার আয় হিসেবে গণনা করা হয়। যদি কোন করদাতার আয়করের স্ল্যাব অনেকটা উপরের দিকে থাকে, সেক্ষেত্রে স্থায়ী আমানতের থেকে প্রাপ্ত টাকার পরিমাণের উপরেও সেই একই হারে সুদ নেওয়া হয়, যেখানে ম্যাচিউরিটি ফান্ডের ক্ষেত্রে পাওয়া যায় প্রায় ১০% ট্যাক্স বেনিফিট। ফলে ট্যাক্স দেবার পরে আপনার মূল রিটার্ন অ্যামাউন্ট ফিক্সড ম্যাচিউরিটি প্ল্যানের ক্ষেত্রে অনেকটাই বেশি হয়।

তবে এই ট্যাক্স বেনিফিট কিন্তু শুধুমাত্র ফিক্সড ম্যাচিউরিটি প্ল্যানের ক্ষেত্রে পাওয়া যায় এরকমটা নয়। টার্গেট ম্যাচিউরিটি ফান্ডের ক্ষেত্রেও এরকমই ট্যাক্স বেনিফিট পাওয়া যায়। তবে, এই ধরনের ফান্ডের ওপেন এন্ডেড স্ট্রাকচার বিনিয়োগকারীদের জন্য অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে অনেকেই এই ধরনের ফান্ডে বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক থাকেন না।

ফিক্সড ম্যাচিউরিটি প্ল্যানের অসুবিধা কী কী?

এই ধরনের মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে প্রথম অসুবিধা হলো, যেহেতু এগুলি ক্লোজ-এন্ডেড ফান্ড, তাই এক্ষেত্রে আপনাদের লাভের অঙ্কটা ওপেন-এন্ডেড ফান্ডের থেকে কম। যারা নিজেদের বিনিয়োগ নিয়ে বেশ সুরক্ষিত থাকতে চান এবং খুব একটা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক নন; সঙ্গেই ট্যাক্স বেনিফিটও গ্রহণ করতে চান তাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্ল্যান কার্যকরী প্রমাণিত হতে পারে। তবে, প্রত্যেকটি মিউচুয়াল ফান্ডের মতো এখানেও কিছু পরিমাণ ঝুঁকি থেকেই যায়। যদি বাজার মন্দা চলে তাহলে আপনার রিটার্নের পরিমাণ ভাল হবে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আপনার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যাবে।

দ্বিতীয় সমস্যা হল, ব্যাংকের স্থায়ী আমানতের মত নির্দিষ্ট সুদের হার মিলবে না ফিক্সড ম্যাচিউরিটি প্ল্যানের ক্ষেত্রে। তাই মার্কেট কী ভাবে ওঠানামা করে সেদিকে আপনাকে নজর রাখতে হবে।

তৃতীয়ত, স্থায়ী আমানতে যদি আপনি বিনিয়োগ করেন তাহলে প্রয়োজন পড়লে খুব সহজেই মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগে সেই স্থায়ী আমানত ভেঙে দেওয়া সম্ভব। তবে, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগে ফিক্সড ম্যাচিউরিটি ফান্ড ভাঙা খুব একটা সহজ কাজ নয়। তাই খুব প্রয়োজন থাকলেও আপনি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগে এই টাকা বা প্রাপ্ত রিটার্ন যে কোন মুহূর্তে তুলতে পারবেন না।

আপনার কি বিনিয়োগ করা উচিত?

ফিক্সড ম্যাচিউরিটি প্ল্যান শুধুমাত্র তাদের জন্যই লাভজনক হতে পারে যারা ঝুঁকিবিহীন বিনিয়োগের মাধ্যমে ট্যাক্স বেনিফিট গ্রহণ করতে চান। যে সমস্ত করদাতা মূলত আয়কর আইনের উপরের দিকের স্ল্যাব অনুযায়ী কর প্রদান করেন তাদের জন্যই এই এফএমপি বা ফিক্সড ম্যাচিউরিটি প্ল্যান লাভজনক হতে পারে। নিচের দিকের স্ল্যাব অনুযায়ী যে সমস্ত করদাতা কর প্রদান করেন তাদের ক্ষেত্রে এই মিউচুয়াল প্ল্যান খুব একটা লাভজনক নয়। তাদের জন্য রয়েছে অন্যান্য ওপেন এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ড। সেখানে ঝুঁকি বেশি থাকলেও লাভের পরিমাণ ফিক্সড ম্যাচিউরিটি ফান্ডের থেকে অনেকটাই বেশি। অর্থাৎ, মূল বিষয়টা হলো, যদি আপনার ট্যাক্স বেনিফিট প্রয়োজন হয় তাহলে আপনি ফিক্সড ম্যাচিউরিটি প্ল্যানে বিনিয়োগ করুন; আর যদি আয় বাড়াতে হয়, তাহলে বিনিয়োগ করুন অন্যান্য ওপেন এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ডে।

লিখেছেন
Sourish Das
Sourish Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।