ফাঁকা স্টেডিয়ামেই ওয়ার্ল্ড কাপের উদ্বোধনী ম্যাচ! এরই নামে 'আচ্ছে দিন'?
ICC World Cup 2023: একি! দর্শকাসনে লোক কোথায়? ১ লক্ষ ৩০ হাজার দর্শকের থাকার কথা যে ম্যাচে, সেখানে মাত্র কয়েক হাজার আসনও পূর্ণ হল না!

আটচল্লিশ পেরিয়ে উনপঞ্চাশ বছরে পা দিল আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের ইতিহাস। ১৩তম ক্রিকেট বিশ্বকাপের আসর এবার ভারতে। সেই নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। তবু উদ্বোধনী ম্যাচে ভরল না দর্শকাসন। প্রায় দশর্কশূন্য মাঠেই ব্যাটে ঝড় তুলল দুই দল। টিভির ওপারে দর্শক থাকলেও গুজরাটের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম যেন প্রথম দিনে ধূ ধূ মাঠ।
এক নয়, দুই নয়, চার বছর পর পর আসে ক্রিকেটের এই মহাযুদ্ধ। স্বাভাবিক ভাবেই তা নিয়ে উত্তেজনার শেষ নেই ক্রিকেট ভক্তদের। এ বার আইসিসি (মেনস) ক্রিকেট বিশ্বকাপের আসর আবার বসেছে ভারতে। ফলে তা যে কেকের উপর অতিরিক্ত চেরি বলাই বাহুল্য। বহু আগে থেকেই মারপিট পড়ে গিয়েছে টিকিটের জন্য। মানুষ এখনও একটা বিশ্বকাপ ম্যাচের টিকিটের জন্য কার্যত আত্মহারা। বৃহস্পতিবার সূচি মেনেই শুরু হয়ে গিয়েছে ২২ গজের যুদ্ধ। ১৩তম ওডিআই বিশ্বকাপ। পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম স্টেডিয়াম গুজরাতের মোতেরা তথা নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু একি! দর্শকাসনে লোক কোথায়? ১ লক্ষ ৩০ হাজার দর্শকের থাকার কথা যে ম্যাচে, সেখানে মাত্র কয়েক হাজার আসনও পূর্ণ হল না!
আগে স্টেডিয়ামটির নাম ছিল সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নামে। ২০২১ সালে স্টেডিয়ামের নাম থেকে সরে যায় বল্লবভাই প্যাটেলের নাম। তার জায়গায় এসে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর নামেই নামাঙ্কিত হয়, ভারতের তো বটেই, পৃথিবীর হবু বৃহত্তম স্টেডিয়াম। সেখানেই বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হয়েছিল একবার করে বিশ্বকাপজয়ী দুই দল। উদ্বোধনী ম্যাচ বলে কথা। তবে আসন ভরল না একেবারেই। বিশ্বের অন্য়তম বৃহত্তম স্টেডিয়ামে টিমটিম করে জ্বলল মাত্র চারটি হাজার আসন। বাকি রইল ধূধূ মাঠ।
স্বাভাবিক ভাবেই ব্যাপারটি চোখে লেগেছে অনেকেরই। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এক্স-এর মতো মাইক্রোব্লগিং সাইটে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন 'লোক কোথায়'? আরও এক ধাপ এগিয়ে অনেকে আবার সংশয়ও প্রকাশ করেছেন, বিশ্বকাপের আসরের জন্য ভারত আদৌ সঠিক জায়গা কিনা তা নিয়ে। তবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে যে জমকালো অনুষ্ঠানটি হয়ে থাকে, এবার সেটিও ছিল গড়হাজির। তবে বিশ্বকাপ ট্রফিটি সকলের সামনে প্রকাশ করতে এদিন স্টেডিয়ামে হাজির ছিলেন ক্রিকেটের ঈশ্বর সচিন তেন্ডুলকর স্বয়ং। তিনি এই টুর্নামেন্টের অ্যাম্বাসেডারও বটে। তবে সচিনের টানও মাঠমুখী করতে পারল না এদিন ক্রিকেটভক্তদের।

নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড হেভিওয়েট দল হলেও ভারতে এই দুটি দলের জনপ্রিয়তা তেমন নয় বলেই মনে করছেন কেউ কেউ। তার উপর গুজরাটের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম আকারে বেশ দানবীয়। প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার দর্শক বসানোর ক্ষমতা রয়েছে সেখানে। আর বৃহস্পতিবারের ম্যাচে আসন ভরেছে মাত্র ৪ হাজার। মোতেরা স্টেডিয়ামের আকারের কারণেই হয়তো ব্যাপারটি আরও চোখে লেগেছে।
Legit a bigger crowd for the first World Cup game (also between these two teams, also in Ahmedabad) in 1996
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ICC World Cup 2023: ২২ গজের এই মহাযুদ্ধ কিন্ত আজকের নয়। প্রায় ৪৮ বছর পেরিয়ে ৪৯-এ পা দিল আইসিসি মেনস ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ। সব মিলিয়ে মোট ১২টি টুর্নামেন্ট।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Sachin Tendulkar: সচিনও বহুদিন ৯৯-এর গেরোয় আটকে ছিলেন। তারপর ১০০তম সেঞ্চুরি। হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিল দেশ।
ইংল্যান্ডের মহিলা ক্রিকেটার ড্যানি ওয়াট তো প্রশ্নই করে বসেছেন সোশ্যাল ব্লগিং সাইট এক্স-এ। "ভিড় কোথায়?" সঙ্গে ফাঁকা দর্শকাসনের ছবিও ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডের ক্রীড়া সাংবাদিক ড্যানিয়েল ব্রেটিগ ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপের একটি ভিস্যুয়াল শেয়ার করেছেন এক্স-এ। সেবারও ভারতেই বসেছিল বিশ্বকাপের আসর, এবং আহমেদাবাদের ওই স্টেডিয়ামই ছিল কানায় কানায় দর্শক-পূর্ণ। তবে কি ভারতীয়দের ক্রিকেট খেলার প্রতি আগ্রহ কমেছে নাকি ভারতে আসতে চাইছেন না দেশ-বিদেশের ক্রিকেট অনুরাগীরা। না, সেসব নয়। বরং এর জন্য ভারতীয় ভিসা পেতে দেরি হওয়ার মতো একাধিক সমস্যাকে সামনে আনা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, সেসব জটিলতার কারণেই ক্রিকেটপ্রেমীরা যথাসময়ে খেলা দেখতে আসতে পারেননি এ দেশে। যে কারণে ফাঁকা বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামও। আর এর পরেই প্রশ্ন উঠেছে বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে ভারত কতটা পাকাপোক্ত তা নিয়েও।

ব্যাপারটি নিয়ে বিসিসিআই সভাপতি জয় শাহকেও দুষেছেন অনেকে। উদ্বোধনী ম্যাচে স্টেডিয়ামে দর্শকাসন ভরানোর ব্যাপারটি কেন নিশ্চিত করতে পারেননি বিসিসিআই সভাপতি, উঠেছে প্রশ্ন। আর সেই দায় খানিকটা বর্তায় ভারতের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থার কাঁধেও।
Maybe it wouldn't have been this embarassing if you hadn't started ticket sales at the last minute repulsing fans who wanted to travel from NZ/ENG, hoarding tickets and then giving them away for free as a way to save face at the last minute.
You can build the biggest stadium.…
— Manya (@CSKian716)
বৃহস্পতিবার ম্যাচ শুরু হওয়ার সময় হুড়মুড়িয়ে স্টেডিয়ামে লোক ঢুকতে শুরু করলেও, পরে দেখা যায় এতসব হুড়োহুড়ি সবটাই ফাঁকি। কারণ স্টেডিয়ামের দর্শকাসন ভরেইনি প্রায় বলতে গেলে। এমনকী প্রচুর বিনামূল্যের টিকিটও বিতড়ন করা হয়েছিল আহমেদাবাদে। বেশ কয়েকটি ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল খেলা দেখার জন্য। খেলা দেখতে টেনে আনা হল মহিলাদেরও। 'তা সত্ত্বেও দর্শকাসন ফাঁকাই রইল অর্ধেকেরও বেশি। এত বড় স্টেডিয়াম জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসার কারণে আরও যেন চোখে বিঁধল এই শূন্যতা।
ইংল্যান্ড- নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ভারতীয়দের আগ্রহ কম হলেও বিদেশি দর্শকদের বেশি থাকার কথা ছিল স্টেডিয়াম জুড়ে। আর সেটাই হয়নি। আর তার জন্য ভারত সরকারের ভিসাগত জটিলতাকেই দুষেছেন বড় অংশ। স্বাভাবিক ভাবেই বিজেপি সরকারের বিদেশনীতি নিয়েও উঠে গিয়েছে প্রশ্ন। তবে প্রথম ম্যাচে দর্শক কম থাকলেও সামনে রয়েছে সমস্ত হাইভোল্টেজ ম্যাচ। সেই ম্যাচগুলিতে দর্শকাসন ভরবে বলেই আশাবাদী আয়োজকেরা। আগামী ৮ তারিখ এই ১৩তম বিশ্বকাপে প্রথম বার ময়দানে নামবে ভারত। উল্টোদিকে থাকবে পাঁচ বারের জয়ী অস্ট্রেলিয়া। সেই ম্যাচে যে দর্শকদের বসতে দেওয়ার জায়গা কম পড়বে, তা নিয়ে প্রায় নিঃসংশয় আইসিসি ও আয়োজক দেশের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা বিসিসিআই। এখন দেখার যে আদৌ তা হয় কিনা!







