Israel-Gaza War: যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাশ রাষ্ট্রপুঞ্জে, কেন ভোট দিল না ভারত?
Israel-Hamas Conflict: রাষ্ট্রপুঞ্জে উত্থিত প্রস্তাবে নাকি ইজরায়েলের উপর সশস্ত্র প্যালেস্তিনীয় গোষ্ঠী হামাসের হামলার কথা উল্লেখ ছিল না। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, সে কারণেই ভোটদান থেকে বিরত থাকে ভারত।

যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে ফের নিরপেক্ষ রইল ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ভোটাভুটিতে আবারও অংশ নিল না তারা। ইউক্রেন-রাশিয়ার সময়েও একই ভূমিকা নিতে দেখা গিয়েছিল মোদির ভারতকে। এবারেও সেই ছবিটা বদলালো না। তা সত্ত্বেও শুক্রবার রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পাশ হয়ে গেল গাজা ভূখণ্ডে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব। প্রায় এক মাস হতে যায়, গাজায় একের পর এক হামলা চালিয়েই যাচ্ছে ইজরায়েল। ইতিমধ্যেই সাড়ে ৬ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে গাজা সীমান্তে।
গোড়া থেকেই ইজরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরব হয়ে এসেছে আরব দেশগুলি। তাদের তরফেইন রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল জর্ডান। প্রস্তাবের পত্রে ভোট দেয় ১২০টি সদস্য দেশ। বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ১৪টি দেশের প্রতিনিধিরা। ভারত-সহ ৪৫টি সদস্যরাষ্ট্র ভোটদানে বিরত ছিল।
ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের সময়েও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উঠেছিল রাষ্ট্রপুঞ্জে। সে সময় ভোটদানে বিরত ছিল ভারত। এবারও সেই একই রকম অবস্থান বজায় রাখল তারা। বিপক্ষ দেশগুলির মধ্যে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের মতো দেশগুলি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Gaza Internet Destroyed : গাজায় বসবাসকারী মানুষ নিজেদের পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই পারেননি, প্রিয়জন বেঁচে আছেন কিনা জানেন না অনেকেই।
রাষ্ট্রপুঞ্জে উত্থিত প্রস্তাবে নাকি ইজরায়েলের উপর সশস্ত্র প্যালেস্তিনীয় গোষ্ঠী হামাসের হামলার কথা উল্লেখ ছিল না। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, সে কারণেই ভোটদান থেকে বিরত থাকে ভারত। জর্ডনের ওই প্রস্তাবের সঙ্গে ‘হামাসের আক্রমণের’ প্রসঙ্গ সংযোজনের জন্য একটি সংশোধনী প্রস্তাব এনেছিল কানাডা। ভারতের তরফে সমর্থন করা হলেও সংশোধনী প্রস্তাবটি ভোটাভুটিতে খারিজ হয়ে যায়।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Israel Hamas Sponge Bomb : টানেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ইজরায়েল এই স্পঞ্জ বোমা তৈরি করছে বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সমস্ত দেশ একমত না হলেও, প্রায় সব কটি দেশই গাজার সাধারণ মানুষের উপর ভয়াবহ সন্ত্রাস ও নির্বিচার হামলার নিন্দা করেছে। যে ভাবে গাজা জুড়ে ভয়াবহ হিংসার ঘটনা ঘটে চলেছে লাগাতার, তা ঠিক নয় বলেই দাবি করেছে সবকটি দেশ। সবদিক থেকেই কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছে গাজাকে। প্রাথমিক ভাবে গাজায় খাদ্য, পানীয় জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল ইজরায়েল। আপাতত সেখানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবাও। যাতে গাজায় কী ঘটছে, সেই খবর বাইরে না বেরোতে পারে। রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রস্তাবে গাজার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ পাঠাতে বাধা না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রপুঞ্জে উঠেছে পণবন্দিদের অবিলম্বে ও নিঃশর্তে মুক্তির কথাও। আন্তর্জাতিক আইন মেনে পণবন্দিদের নিরাপত্তা, শারীরিক সুস্থতার দিকে নজর দেওয়া এবং তাঁদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে দু-পক্ষের কাছেই।
তবে রাষ্ট্রপুঞ্জে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাশ হলেও শান্তি কি ফিরবে দুদেশের মধ্যে। থামবে কি ভয়াবহ এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ? কিন্তু ইতিহাস বলছে অন্য কথা। অতীতে গাজা ও ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে সেনা অভিযানের সময়ে অনেক বারই রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের গৃহীত প্রস্তাব উপেক্ষা করেছে ইজরায়েল। আসলে, সাধারণ পরিষদে গৃহীত কোনও প্রস্তাব মেনে চলার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই রাষ্ট্রপুঞ্জের সদস্য দেশগুলির। তবে বিশ্বের অধিকাংশ দেশই সাধারণ পরিষদের সদস্য হওয়ায় কূটনৈতিক স্তরে গৃহীত প্রস্তাবগুলির যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। তবে ইজরায়েলের চূড়ান্ত আগ্রাসনের সামনে আদৌ সেই কূটনৈতিক প্রস্তাব গুরুত্ব পাবে কি না সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই গাজায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। ফলে গাজার কোনও খবরাখবরই বাইরে পৌঁছতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে গাজা ধ্বংস করার কোন পরিকল্পনা আঁটছে, তা ঠাহর করা কঠিন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।






