হামাসকে সুড়ঙ্গে শেষ করতে তৈরি ইজরায়েলের স্পঞ্জ বোমা! কী এই অভাবনীয় অস্ত্র?

Israel Hamas Sponge Bomb : টানেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ইজরায়েল এই স্পঞ্জ বোমা তৈরি করছে বলে জানা গেছে।

inscript
২ মিনিট
হামাসকে সুড়ঙ্গে শেষ করতে তৈরি ইজরায়েলের স্পঞ্জ বোমা! কী এই অভাবনীয় অস্ত্র?

ফিলিস্তিনি জঙ্গিগোষ্ঠী হামাস ইজরায়েলে হামলা চালিয়েছিল ৭ অক্টোবর। ১,৪০০ নিরস্ত্র মানুষের প্রাণ নিয়েছিল হামাস। তারপর এই হামলার প্রতিশোধ নিতে গাজায় যুদ্ধ শুরু করেছে ইজরায়েল। ২১ তম দিন যুদ্ধের, ইজরায়েল প্যালেস্তাইনের প্রায় ৭,০০০ মানুষকে খুন করেছে। ১,৪০০-র বদলে ৭,০০০। হিসেবের খতিয়ানই বলে দিচ্ছে ইজরায়েল ঠিক কতটা আগ্রাসী প্যালেস্তাইনে। হামাসকে খতম করার লক্ষ্য সামনে রেখে ইজরায়েল ফিলিস্তিনি শিশুদের শেষ করে দিচ্ছে, হাসপাতালে বোমা ফেলছে, শরণার্থী শিবির নিকেশ করে দিচ্ছে। ৭ অক্টোবর থেকে টানা গাজায় ইজরায়েলি বোমাবর্ষণ চলছে, ব্যবহৃত হয়েছে সাদা ফসফরাসও। তবে এখানেই থেমে নেই ইজরায়েল। গাজায় স্পঞ্জ বোমা ব্যবহার করতে চলেছে ইজরায়েল।

হামাসের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাতে ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজায় আরও গভীরে ঢুকে পড়েছে। তবে ইজরায়েলি সৈন্যদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে একটি হচ্ছে হামাসের বিস্তৃত টানেল নেটওয়ার্ক। এই টানেলেই হামাস জঙ্গিগোষ্ঠী বেশ কয়েকজনকে অপহরণ করে রেখেছে বলে জানা গেছে। হামাসের বিভিন্ন ধরনের সুড়ঙ্গ রয়েছে প্যালেস্তাইন জুড়ে। প্রতিটি সুড়ঙ্গই কয়েকশো কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৮০ মিটার পর্যন্ত গভীর। ৩৬০ বর্গ কিলোমিটার উপকূলীয় গাজা এবং এর সীমানার নিচ দিয়ে চলে গেছে সুড়ঙ্গগুলি। এই সুড়ঙ্গের মধ্যে হামাসকে শেষ করতে স্পঞ্জ বোমা ব্যবহার করতে চলেছে ইজরায়েল। স্পঞ্জ বোমা আসলে কী?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গাজায় সাদা ফসফরাস ছড়াচ্ছে ইজরায়েল! কতটা মারাত্মক এই 'নিষিদ্ধ অস্ত্র'?

Israel White Phosphorus Attack : সাদা ফসফরাস মানুষকে সম্পূর্ণ জ্বালিয়ে দিতে পারে, এমনকী হাড় পর্যন্ত পুড়িয়ে ফেলতে পারে কারণ এটি অত্যন্ত দ্রবণীয়।

টানেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ইজরায়েল এই স্পঞ্জ বোমা তৈরি করছে বলে জানা গেছে। স্পঞ্জ বোমা ফেনার একটি আকস্মিক বিস্ফোরণ তৈরি করে। এই ফেনা অতি দ্রুত প্রসারিত হয় এবং তারপর শক্ত হয়ে যায়। দ্য টেলিগ্রাফের একটি প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ইজরায়েল রাসায়নিক গ্রেনেড পরীক্ষা করছে। এই গ্রেনেডে কোনও বিস্ফোরক নেই। কিন্তু সেগুলো যদি সুড়ঙ্গের ফাঁকা মুখে অর্থাৎ টানেলের প্রবেশপথ দিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় তাহলে সুড়ঙ্গের মুখ বন্ধ হয়ে যাবে। সেখান দিয়ে হামাসের জঙ্গিরা আর বের হতে পারবে না।

এই স্পঞ্জ বোমাগুলিকে প্রতিরক্ষামূলক প্লাস্টিকের পাত্র রাখা হয়। এই পাত্রে একটি ধাতব বাধা থাকে যা দু'টি স্বতন্ত্র তরলকে পৃথক করে রাখে। বোমা সক্রিয় হলে, এই তরলগুলি একসঙ্গে মিলে যায় এবং বিস্ফোরণ ঘটায়। ২০২১ সালে গাজা সীমান্তের কাছে একটি মক টানেল সিস্টেমে অনুশীলনের সময় ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে এই বোমাগুলি ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

মাটির নীচে যাওয়ার দায়িত্বে আছে ইয়াহলোম, ইজরায়েলের কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পসের বিশেষজ্ঞ কমান্ডোরা। এদের বলা হয় 'ওয়েসেলস’। এই সুড়ঙ্গগুলি খুঁজে বের করা, সাফ করা এবং ধ্বংস করতে দক্ষ ওয়েসেলসরা।

গাজায় ১৯৮৭ সালে তৈরি হয় হামাস। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে সুড়ঙ্গ খোঁড়া শুরু করে হামাস। ইজরায়েল-অধিকৃত ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের তুলনায় গাজায় হামাস বেশি শক্তিশালী হওয়ার অন্যতম মূল কারণ হচ্ছে এই সুড়ঙ্গের জাল। ২০০৫ সালে যখন ইজরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করে এবং ২০০৬ সালের নির্বাচনে হামাস ক্ষমতায় আসে তখন এই সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ আরও সহজ হয়ে যায়।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।