গাজার ইন্টারনেট পরিষেবা ধ্বংস! বধ্যভূমিতে গণহত্যার পথে এগোচ্ছে ইজরায়েল?
Gaza Internet Destroyed : গাজায় বসবাসকারী মানুষ নিজেদের পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই পারেননি, প্রিয়জন বেঁচে আছেন কিনা জানেন না অনেকেই।

২০ দিন অতিক্রান্ত। ৭ অক্টোবর প্যালেস্তাইনের জঙ্গিগোষ্ঠী হামাস আক্রমণ চালিয়েছিল ইজরায়েলে। পাল্টা আক্রমণ ও প্রতিশোধ যে কোন পর্যায়ে যেতে পারে ইজরায়েল তা প্রতিক্ষণে প্রমাণ করছে। গাজাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার পথে এগোচ্ছে ইজরায়েল। ইজরায়েলি বাহিনী হামাস শাসিত গাজা স্ট্রিপে আরও ব্যাপক হারে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। বদলা নিতে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ছে না ইজরায়েল। গাজার ওই ছোট্ট অঞ্চলে বহুদিনই জল, খাবার, জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ইজরায়েল। ধারাবাহিকভাবে হাসপাতালে, শরণার্থী শিবিরে হামলা তো চলছেই। এরই মধ্যে গাজার ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দিয়েছে ইজরায়েল। গাজার মানুষের সঙ্গে সমস্ত পৃথিবীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে যেন বধ্যভূমিতে এক গণহত্যার দিকে এগোচ্ছে ইজরায়েল!
গাজায় টানা দুই রাত ট্যাঙ্ক হামলা চলেছে। ইজরায়েলের সামরিক মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি ঘোষণা করেছেন, ধারাবাহিক হামলার পর সেনাবাহিনী অভিযান বাড়ানোর আরও প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে। হামাসও পাল্টা জানিয়ে দিয়েছে পূর্ণ শক্তি দিয়ে ইজরায়েলের এই হামলার মোকাবিলা করবে তারা। "আল-কাসাম ব্রিগেড এবং সমস্ত ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ বাহিনী সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে ইজরায়েলের আগ্রাসনের মোকাবিলা করতে এবং ইজরায়েলি অনুপ্রবেশকে ঠেকাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত," ঘোষণা করেছে হামাস। আর প্যালেস্তাইনের সাধারণ মানুষ, সব হারানো, বাস্তুচ্যুত হওয়া, মৃতপ্রায় মানুষ কী দিয়ে মোকাবিলা করবে এই হামলার?

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Hamas Master Mind Mohammed Deif : ২০১৪ সালে ইজরায়েলি বিমান হামলায় তাঁর স্ত্রী, ৭ মাসের শিশুপুত্র এবং ৩ বছরের মেয়ে নিহত হয়।
ইজরায়েল গাজা জুড়ে ফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানাচ্ছে, গাজায় ভয়ঙ্কর বোমাবর্ষণ চলছেই, এরই মধ্যে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার অর্থ নৃশংসতা আকাশ ছোঁবে। হামাসও জানাচ্ছে, ইজরায়েল গাজা উপত্যকা জুড়ে যোগাযোগ এবং বেশিরভাগ ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়ে আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে থেকে রক্তক্ষয়ী প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে গণহত্যার বন্দোবস্ত করছে।
ইজরায়েল বলছে, হামাস জঙ্গিগোষ্ঠী গাজার বৃহত্তম হাসপাতালকেই নিজেদের সদর দফতর হিসাবে ব্যবহার করছে। সামরিক উদ্দেশ্যেই অন্যান্য হাসপাতালকে অপব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে হামাসের বিরুদ্ধে। তাই ইজরায়েল হামাসকে নিশ্চিহ্ন করতে হাসপাতালে হামলা চালাচ্ছে। গাজা শহরের প্রধান হাসপাতাল আল শিফা হাসপাতালের আশেপাশের এলাকাগুলি বিমান হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৭ অক্টোবরের পর থেকেই ইন্টারনেট পরিষেবা ছিল দুর্বল। গাজায় বসবাসকারী মানুষ নিজেদের পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই পারেননি, প্রিয়জন বেঁচে আছেন কিনা জানেন না অনেকেই। হামলার ঘটনা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য খবর খুঁজে পাওয়াও কঠিন হয়ে উঠেছে। উদ্ধারকর্মীরাও মোবাইল নেটওয়ার্ক না পাওয়াতে উদ্ধারের প্রচেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Israel-Gaza War: গাজায় সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার হয়ে কাজ করতেন ওয়ায়েল আল দাহদৌদ। বুধবার ইজরায়েলি বাহিনীর হানা রকেট হামলায় নিজের স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও নাতিকে হারিয়েছেন তিনি।

সারা বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট এবং টেলিকম নেটওয়ার্কগুলি, যেগুলির মাধ্যমে সাধারণত ওয়েব ব্যবহারকারীরা আন্তর্জাতিক ভিডিও কল, অনলাইন ব্যাঙ্কিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া চালাতে পারে সেগুলি আসলে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের এক জটিল মিশ্রণ৷ নেটওয়ার্ক, ডেটা সেন্টার, সার্ভার, সুইচ এবং তারের জটিল ও সূক্ষ্ম যোগাযোগই বিশ্বব্যাপী 'ডেটা' পাঠায়। গাজা ইন্টারনেট সংযোগ, বহির্বিশ্বের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য ইজরায়েলি পরিকাঠামোর উপর অনেক বেশি নির্ভরশীল ছিল। সেই সমস্ত পরিষেবা ধূলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছে। বিমান হামলায় বেশ কয়েকটি টেলিযোগাযোগ কাঠামো এবং গাজায় যাওয়া তিনটি প্রধান যোগাযোগের দু'টি লাইনই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
ইজরায়েলে ৭ অক্টোবরে হামাসের হামলায় ১,৪০০ জনের বেশি নাগরিক মারা যান। হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মতে, গাজা উপত্যকায়, ইজরায়েলের এই প্রতিশোধমূলক হামলায় অন্তত ৭,৩২৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রধানত নিরস্ত্র নাগরিকরাই রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে অনেকেই শিশু!
রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ গাজায় অবিলম্বে মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিল। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গাজায় সাহায্য পাঠানোর উদ্দেশ্যে যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। হামাস যুদ্ধবিরতির আহ্বানকে স্বাগত জানায়। রাষ্ট্রসংঘের সদস্যদের কাছ থেকে যুদ্ধবিরতির পক্ষে ১২০টি, ভোট এসেছে। বিপক্ষে ১৪টি ভোট পড়ে এবং ৪৫ সদস্য (ভারত সহ) ভোটই দেয়নি।















