জেলে অবর্ণনীয় অত্যাচারের শিকার প্যালেস্টাইনের ম্যান্ডেলা মারওয়ান বারঘুতি
Marwan Barghouti: প্যালেস্টাইনের বন্দিদের অধিকার বিষয়ক সংস্থা আসরা মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, আক্রমণের ফলে বারঘুতির চারটি পাঁজর ভেঙে গিয়েছে।

ইজরায়েলের কারাগারে বন্দি প্যালেস্টাইনের নেতা মারওয়ান বারঘুতিকে কারারক্ষীরা মারধর করেছে বলে তাঁর পরিবার অভিযোগ করেছে। বারঘুতির ছেলে আরব বারঘুতি জানিয়েছেন, ১৪ সেপ্টেম্বর যখন তাঁর বাবাকে গানোত কারাগার থেকে মেগিদ্দো কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখনই ঘটনাটি ঘটে।
আরবের দাবি, কারাগার বদলের সময় আটজন ইজরায়েলি রক্ষী তাঁর বাবাকে ঘুষি, লাথি মারে। এমনকি তাঁকে মাটিতে ফেলে তাঁর মাথা, বুক ও পায়ে গুরুতর আঘাত করা হয়। এতে বারঘুতি কিছুক্ষণের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে নতুন কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে কয়েকদিন তিনি হাঁটতেও পারছিলেন না। প্যালেস্টাইনের বন্দিদের অধিকার বিষয়ক সংস্থা আসরা মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, আক্রমণের ফলে বারঘুতির চারটি পাঁজর ভেঙে গিয়েছে। তাঁদের মতে, এই ঘটনায় ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ আবারও দেখাল, বন্দিদের সঙ্গে কেমন অমানবিক আচরণ করা হয়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Gaza Ceasefire: যুদ্ধবিরতির পরও গাজার ৫৩ শতাংশ এলাকা ইজরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই সব অঞ্চলগুলিতে মানুষ ফিরেও যেতে পারছে না।
বারঘুতির পরিবার বলছে, এটি গত দুই বছরের মধ্যে তাঁর উপর চতুর্থ হামলা। তাঁকে প্রায়ই একা সেলে রাখা হয়। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাঁকে অন্য বন্দিদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি অবধি দেওয়া হয় না। অন্যদিকে ইজরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, “বারঘুতির সঙ্গে যা করা হয়েছে, তা নিয়ম মেনে করা হয়েছে। তিনি একজন খুনি, তাই তার সঙ্গে কঠোর আচরণ করা হবে।” তাঁর দাবি, নির্যাতনের খবরগুলো মিথ্যা এবং রাজনৈতিকভাবে প্রচারিত।
উল্লেখ্য, ৬৬ বছর বয়সি মারওয়ান বারঘুতি বহু বছর ধরে ইজরায়েলে বন্দি। তিনি প্যালেস্টাইনের রাজনৈতিক দল ফাতাহর নেতা। দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সময় ইজরায়েল তাঁকে গ্রেফতার করে। এরপর তাঁকে কয়েকটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু প্যালেস্টাইনের অনেকেই তাঁকে জাতীয় প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে দেখে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Gaza Crisis: নিহতদের মধ্যে ১,০২৯ জনের বয়স এক বছরের নিচে, ৫,০৩১ জনের বয়স পাঁচ বছরের কম, আর ৪২০ জন শিশু যুদ্ধের মাঝেই জন্ম নিয়ে মারা গিয়েছে। ১,১০২ জন শিশু যুদ্ধের কারণে হাত বা পা হারিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বারঘুতি প্যালেস্টাইনিদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতাদের একজন। তাঁর নাম প্যালেস্টাইনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেও আলোচিত। তাই তাঁকে কারাগারে রেখে দেওয়া এবং মুক্তির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার মাধ্যমে ইজরায়েল রাজনৈতিকভাবে চাপ তৈরি করছে।
বারঘুতির ছেলে আরব বলেছেন, “ইজরায়েল চায় না বাবার মতো কোনো শক্তিশালী নেতা প্যালেস্টাইনে ফিরে আসুক। তাই তাঁকে বারবার নির্যাতন করা হচ্ছে।” মানবাধিকার সংস্থাগুলি এই ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে। তারা বলছে, ইজরায়েলি কারাগারে প্যালেস্টাইনি বন্দিদের উপর নির্যাতন নতুন কিছু নয়, তবে বারঘুতির মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার উপর হামলা এই ইস্যুকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।
মারওয়ান বারঘুতির উপর এই হামলার ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, ইজরায়েলি কারাগারগুলিতে প্যালেস্টাইনের বন্দিদের অবস্থা কতটা শোচনীয়। রাজনৈতিক মতভেদ বা প্রতিরোধের প্রতীক হওয়াই অনেক সময় তাঁদের জন্য হয়ে উঠছে শাস্তির কারণ। বারঘুতি শুধু একজন বন্দি নন, তিনি প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রতীক, যাঁর কণ্ঠস্বরকে দমন করতে চাইছে ইজরায়েলি শাসন। বারঘুতির প্রতি এই আচরণ হয়ত সাময়িকভাবে তাঁকে নীরব করে রাখতে পারবে, কিন্তু তাঁর লড়াই ও প্রতিরোধের বার্তা প্যালেস্টাইনের প্রতিটি ঘরে প্রতিধ্বনিত হয়ে চলবে, বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।







