ইজরায়েল বনাম প্যালেস্তাইন : যে মিথ্যে আপনি গিলছেন
Israel Palestine War: ভিডিয়ো পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, হামাস ইজরায়েলের মাটিতে বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ফেলছে। সেই ফুটেজ আসলে ArmA 3 ভিডিয়ো গেমস-এর।

লড়ছে ইজরায়েল প্যালেস্তাইন। মরছে মানুষ। লাশের সংখ্যা গোনাও ছেড়ে দিয়েছেন এখন অনেকে। তবে শুধু গাজা স্ট্রিপের যুদ্ধ নয় সোশাল মিডিয়াতেও যেন যুদ্ধ লেগে গিয়েছে। কেউ ইজরায়েল, কেউ প্যালেস্তাইন। কেউ গাজা স্ট্রিপকে একেবারে নিকেশ করার সপক্ষে লিখছেন। কেউ গলা ফাটাচ্ছেন সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হামাসের হয়ে।
ফেসবুক, টুইটার বা এক্স, ইউটিউব, টেলিগ্রাম,ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস- ট্রোলসেনা হা রে রে রে করে নেমে পড়েছে নেটযুদ্ধে। লক্ষ লক্ষ পোস্ট, ভিডিয়ো, স্টিল- যার অধিকাংশই ফেক। ভুয়ো। প্রোপাগান্ডায় ভরা। সোমবার টুইটার বা এক্স জানায়, ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন সংঘাত শুরুর পর থেকে কমপক্ষে ৫০ মিলিয়ন অর্থাৎ ৫ কোটি পোস্ট হয়েছে মাইক্রো ব্লগিং সাইটে।
ইয়ান মাইলস সিয়ং। ডানপন্থী সোশাল ইনফ্লুয়েন্সার। ছবি পোস্ট করে বলছেন, ভাবুন এটা যদি আপনার প্রতিবেশীর সঙ্গে হতো, বা পরিবারের সঙ্গে। ভিডিয়ো পোস্ট করে দাবি করছেন, প্যালেস্তিনিয় সন্ত্রাসবাদীরা ইজরায়েলের নাগরিকদের হত্যা করছে। যা ডাহা মিথ্যে। ফেক। এ যেন হাজার হাজার ডক্টর হাজরার ভিতর থেকে আসল মিস্টার হাজরাকে খুঁজে বের করে আনা।
ফেক নিউজের পাহাড় জমেছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। নানা ভিডিয়োতে দাবি করা হচ্ছে ইজরায়েল গাজায় হোয়াইট ফসফরাস বোমা ফেলেছে। এগুলি আসলে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফুটেজ। গত মার্চ মাসের। আরেক ভিডিয়ো পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, হামাস ইজরায়েলের মাটিতে বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ফেলছে। সেই ফুটেজ আসলে ArmA 3 ভিডিয়ো গেমস-এর। টিকটক থেকে পাওয়া একটি ভিডিয়ো অসংখ্য হ্যান্ডল থেকে শেয়ার করা হয়। হামাস প্যারাট্রুপাররা ইজরায়েলের মাটিতে নামছে। সেই ফুটেজ আসলে মিশরে ক্যামেরাবন্দি। ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে এক শিশুর শব কাঁধে করে নিয়ে চলেছেন প্যালেস্তিনিয়রা। সেই ভিডিয়ো কোভিড লকডাউনের সময় জর্ডনে তোলা হয়। একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে লেখা হয়, জো বাইডেন সরকার জরুরি ভিত্তিতে ইজরায়েলকে ৮০০ কোটি ডলার আর্থিক সাহায্য পাঠাচ্ছে। সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে ফেক নথি। ইজরায়েলের হেলিকপ্টার গুলি করে করে মাটিতে নামাচ্ছে হামাস। ভাইরাল এই ফুটেজ আসলে ভিডিয়ো গেম থেকে নেওয়া।
একের পর এক লাগামছাড়া ফের নিউজের পাহাড়। কে ঠিক, কে ভুল। তা ঠিক করবে কে? ইলন মাস্কের একদা টুইটার হালের এক্স তো নিজেই ফ্যাক্ট চেকিং ডেস্ক ছেঁটে ফেলেছে। বাধ্য হয়ে ইওরোপিয় কমিশনার থিয়েরি ব্রেটন চিঠি লিখেছেন এক্স কর্তা ইলন মাস্ককে। তবে সবচেয়ে বেশি তোলপাড় পড়ে গিয়েছে ৪০ শিশুর মাথা কেটে নেওয়ার খবরে। শিউরে ওঠার মতো এই ঘটনার সত্যতা কোথায়? ফ্যাক্ট চেক করে দেখেছে বাংলা যা ভাবছে।
আই টুয়েন্টি ফোর নিউজ চ্যানেলে এক সাংবাদিক ওয়াক অ্যান্ড টকের সময় প্রথম এই ঘটনার উল্লেখ করেন। পরে এক টুইটে ওই ইজরায়েলি সাংবাদিক নিকোল জেডেক লেখেন, ইজরায়েলের সেনা তাঁকে শিশু নিধনের খবর দেয়। তিনি নিজে প্রত্যক্ষদর্শী নন। এরপর ইজরায়েলের সেনাবাহিনীও জানায় শিশুদের মাথা কেটে নেওয়ার ঘটনা তাঁরা নিশ্চিত করে বলছেন না। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার তা হয়ে যায়। পশ্চিমি দুনিয়ার তাবড় সংবাদ মাধ্যম এই ঘটনা ফলাও করে ছাপে। সোশাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় বয়ে যায়।
এরপর এই ঘটনা ফের নতুন করে মোড় নেয় ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দফতরের বিবৃতিতে। সিএনএন সেই সংবাদ ফলাও করে সম্প্রচার করে। সেনাবাহিনী যেখানে ঘটনার সত্যতার কথা স্বীকার করছে না, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর দফতর কীভাবে নিশ্চিত করছে? প্রশ্ন ওঠে। শুধু তাই নয়, খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, শিশুদের সঙ্গে মারাত্মক অপরাধ সংগঠিত করেছে হামাস। আর কেউ না স্বয়ং জো বাইডেন! তিনি যখন সংবাদমাধ্যমে কোনও বিবৃতি দিচ্ছেন তখন নিশ্চিতভাবে তার কোনও না কোনও ভিত্তি থাকবেই।
কিন্তু না, বাইডেনের বক্তব্য নিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঢোঁক গেলে হোয়াইট হাউজ। ওয়াশিংটন পোস্টে জানায়, প্রেসিডেন্ট নিজে এ ধরনের কোনও ফুটেজ বা স্টিল কিছু দেখেননি। ইজরায়েলের সংবাদ মাধ্যমের উপর ভিত্তি করে বলেছেন। ইজরায়েলের সেনা বলছে নিশ্চিত না। প্রধানমন্ত্রীর দফতর বলছে ঘটনা সত্যি। সিসিএনএন-এর মতো সংবাদমাধ্যম ব্রেকিং নিউজ ধরাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিবৃতি দিচ্ছেন। হোয়াইট হাউজ সেই বিবৃতি থেকে ইউ-টার্ন করছে। কোনটা তবে ঠিক? কেন এই বিভ্রান্তিকর এক তরফা প্রচার? শুধুই কি প্রতিপক্ষ কতটা নৃশংস, কতটা পৈশাচিক তা প্রমাণ করার জন্য? নাকি ইজরায়েল যে প্রচার প্রথম থেকেই করে আসছে যে, হামাস আর আইসিস সমার্থক তাকে জোরালভাবে প্রমাণ করতেই এত প্রোপাগান্ডার আয়োজন?
এটা ঠিক গাজার নিকটবর্তী শহর কেফার আজাতে হামলা চালায় হামাস। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাকা মৃতদেহ উদ্ধার করে। শিশুদের মাথা কেটে নেওয়ার ভুয়ো খবরের উৎস এই জাকা। জাকার অপারেশনস হেড সংবাদ মাধ্যম সিবিএসকে প্রথমে জানায় এই খবর। পরে তিনিই আবার অস্বীকার করেন। এমনকী উদ্ধারকাজের পর ইজরায়েলের সেনাবাহিনীও শিশুদের মাথা কেটে নেওয়ার কথা বলেনি।
দেখুন বাংলা যা ভাবছে। আজ সন্ধ্যায়। সাংবাদিক, বিশ্লেষকরা কী বলছেন? আজকের পর্ব, ইজরায়েল বনাম প্যালেস্তাইন : যে মিথ্যে আপনি গিলছেন। প্রতি সোম, বুধ, শুক্র সন্ধে ৭ টা থেকে - কলকাতা ২৪x৭ এর ইউটিউব চ্যানেল এবং inscript.me এর ফেসবুক পেজে চোখ রাখুন।















