গাজার মুক্তি চেয়ে ইতালির রাস্তায় ছাত্ররা, অবাধে পুলিশি দমন-পীড়ন
Italian student protests: বিক্ষোভকারীরা জনগণকে ইসরায়েলি পণ্য বয়কট করতে বলেছেন। বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপক পুলিশি দমন-পীড়ন চালিয়েছে রাষ্ট্র। পরিস্থিতি ভয়াবহ। অথচ ইসরায়েলি সরকার এ ব্যাপারে নির্লিপ্ত।

ইউরোপে শীত আসন্ন। মানুষ বহু প্রতীক্ষিত ক্রিসমাসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রোম, ফ্লোরেন্স, ট্রেন্টোর মতো বিভিন্ন শহরে ক্রিসমাসের বাজার সাজানো হয়েছে। উৎসবের আনন্দে যখন মেতে উঠছে পৃথিবীর একাংশ, ঠিক সেই সময়, বিশ্বের আরেক প্রান্তে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখোমুখি ফিলিস্তিনিরা। হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় বোমায় ধ্বসে গিয়েছে। অগণিত শিশু অনাথ। মায়েরা সন্তানহারা। পুরুষদের রাস্তায় নগ্ন করে দাঁড় করিয়ে রাখছে সেনারা। একটি বিমানবন্দরের চেয়েও ছোট এলাকায় আটকে রাখা হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের।
যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো বেশ কয়েকটি শক্তিশালী দেশ এই নৃশংসতাকে সমর্থন করছে, তবে আশার কথা, বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার মানুষ ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে সমাবেশ করছেন। বিভিন্ন দেশগুলির মতো ইতালিতেও মার্কিন ইসরায়েলি নৃশংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে। ফ্লোরেন্স, প্যাডোভা, রোম, মিলানের স্থানে স্থানে এই অত্যচারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। উত্তেজনার আশঙ্কায় বিপুল পরিমাণে পুলিশ রাস্তায় নামিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীর হাতে দেখা গিয়েছে ফিলিস্তিনি পতাকা। পাশাপাশি রোমের কমিউনিস্ট পার্টির পতাকা এবং ফ্যাসি-বিরোধী আন্দোলনের পতাকাও দেখা গিয়েছে।
বিক্ষোভে সামিল ইতালীয়, ফিলিস্তিনি এবং আরব সহ বিভিন্ন জাতির মানুষ। "ফিরিয়ে দাও জেরুজালেম ও গাজার স্বাধীনতা" স্লোগান উঠছে সমাবেশে। ইতালির অতীতে নাৎসি সহযোগিতা এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের অধ্যায়টি ন্যক্কারজনক। সেই ত্রুটি সংশোধন করতেই ১৯৪৯ নাগাদ ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় তারা। বজায় রাখে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও। ইতালির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাতের দ্রুত নিষ্পত্তির আর্জি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই যুদ্ধ দীর্ঘদিন চললে অকল্পনীয় ক্ষতি হবে। তবে ইজরায়েলের তীব্র সমালোচনা করেননি মেলোনি।
রোমে বিক্ষোভকারীরা জনগণকে ইসরায়েলি পণ্য বয়কট করতে বলেছেন। বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপক পুলিশি দমন-পীড়ন চালিয়েছে রাষ্ট্র। পরিস্থিতি ভয়াবহ। অথচ ইসরায়েলি সরকার এ ব্যাপারে নির্লিপ্ত। আর সম্মিলিত জাতিপুঞ্জে ক্রমাগত যুদ্ধবিরতির বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে চলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফলে জাতিপুঞ্জে যুদ্ধবিরোধী কোনও প্রস্তাবই পাশ হচ্ছেনা।
চারিদিকে ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনার মধ্যে একটি বিষয় চোখ টানছে মানুষের। ইতালির ফিলিস্তিনিরা একটি রোমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে, যার উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনি সংস্কৃতির সমৃদ্ধি সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা। তাঁরা শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের সহানুভূতি চাইছেন, চাইছেন নিজেদের উপস্থিতি, পরিচয় আরও স্বাভাবিক ভাবে উপস্থাপিত করতে। একটি সাংস্কৃতিক সেতু নির্মাণ যাতে সম্ভব হয়। মানুষ মানুষের সংকটের কথা ভাবে। প্রতিদিন বেড়ে চলেছে মৃতের সংখ্যা। গাজার নির্দোষ শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করে তোলা প্রয়োজন। বাঁচার অধিকার তাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে।
আশার কথা এগিয়ে এসেছে ছাত্রসমাজ। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা সরকারের কাছে মানবতাবাদী সিদ্ধান্তের দাবি জানাচ্ছেন। ইতালিসহ পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়েছে। বড়দিন উদযাপন পাশাপাশি নিরাপরাধ মানুষের উপর নিরন্তর ঘটে চলা অত্যাচারের বিরুদ্ধে যেভাবে রুখে দাঁড়িয়েছেন মানুষ, তা ইতিহাসে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।















