আগুনের গোলা হয়ে উঠল চলন্ত বিমান! যেভাবে বাঁচলেন যাত্রীরা
Japan Plane Caught Fire : বিমানটিতে সেই মুহূর্তে উপস্থিত ৩৬৭ জন যাত্রী এবং ১২ জন ক্রু। সবাইকেই নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সবে আকাশ থেকে নেমে আসছে বিমানটি। ভিতরে থাকা যাত্রীরা ধীরে ধীরে প্রস্তুত হচ্ছেন অবতরণের জন্য। রানওয়েতে নামতেই গলগল করে আগুন ধরে গেল ওই বিমানে। চলন্ত বিমানে এমন দাউদাউ আগুন লাগার দৃশ্য দেখলে আঁতকে ওঠাই স্বাভাবিক এই ভেবে যে, ভেতরে থাকা যাত্রীদের অবস্থা ঠিক কী হতে পারে! ভূমিকম্পে জেরবার হয়ে রয়েছে জাপান, তারই মধ্যে আবার বিমান দুর্ঘটনা। জাপান এয়ারলাইন্সের বিমান মঙ্গলবার টোকিওর হানেদা বিমানবন্দরের রানওয়েতে একটি উপকূলরক্ষী বিমানের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার পরেই আগুনের গোলা হয়ে ওঠে।
ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গেছে, বিমানটি রানওয়েতে যত এগিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে বিমানের বাইরের অংশে। বিমানটিতে সেই মুহূর্তে উপস্থিত ৩৬৭ জন যাত্রী এবং ১২ জন ক্রু। সবাইকেই নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিমানে ওই মুহূর্তে আটজন শিশুও ছিল।
Japan airlines plane on fire at Haneda Airport Tokyo. pic.twitter.com/3TZfxHVZkR
— Taurus4🇺🇦ShoTimeFella🎗️ (@Atacms_4_Ukr) January 2, 2024
যে উপকূলরক্ষী বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষ লাগে সেই বিমানের ছয়জন ক্রু সদস্যের মধ্যে একজন নিরাপদে ছিলেন ঠিকই কিন্তু বাকি পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। কীভাবে ধাক্কা লাগল, কীভাবেই বা আগুন ধরে গেল তার কারণ খুব স্পষ্ট নয়। কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, সোমবার মধ্য জাপানে যে বিশাল ভূমিকম্প ঘটে সেই উদ্ধারকাজে সাহায্যের জন্যই উপকূলরক্ষী বিমানটি প্রস্তুত ছিল। বিমানটি এই ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই উত্তর জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের সাপোরো বিমানবন্দর থেকে সেখানে এসেছিল।
বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত হানেদা বিমানবন্দরের একজন উপকূলরক্ষী কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, কোনও সংঘর্ষ হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয় এখনও। তবে এটা নিশ্চিত যে কোস্টাল গার্ডের বিমান তাতে জড়িত ছিল। যাত্রীবাহী বিমানটি নামার পরেই রানওয়েতে থাকা অন্য বিমানের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিল।
JAL plane on fire at Tokyo Airport
— アトリン ✊🏾 (@phoojux) January 2, 2024
pic.twitter.com/EL9s7kVJbi
বিমানের ভিতরের একজন যাত্রীর তোলা ফুটেজে দেখা যাচ্ছে যে কেবিন ধোঁয়ায় ভরে যায় নিমেষের মধ্যে। বাইরের থেকে পাওয়া নানা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে জানালা থেকে আগুনের শিখা বেরিয়ে আসছে। পুরো বিমানটিই আগুনের কবলে চলে যাওয়ার আগে উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতা চোখে পড়ে ভিডিওতে। দমকলের ৭০টিরও বেশি ইঞ্জিন আগুন নেভাতে মোতায়েন করা হয়।
জাপানে এমন ধরনের ঘটনা ঘটেনি দীর্ঘকাল। বেশ কয়েক দশকের মধ্যে গুরুতর বিমান দুর্ঘটনার খবরই নেই জাপানে। শেষ এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল ১৯৮৫ সালে। টোকিও থেকে ওসাকা যাওয়ার একটি JAL জাম্বো জেট বিমান মধ্য গুনমা অঞ্চলে ভেঙে পড়ে। বিমানের ৫২০ জন যাত্রী এবং ক্রু তাতে নিহত হন।

Whatsapp
