জন্ডিসে সেদ্ধ খাবারই কি একমাত্র ভরসা? বিশ্বাস ভাঙলেন লিভার বিশেষজ্ঞ
Jaundice Diet: ডা. ফিলিপসের কথায়, "জন্ডিস বা হেপাটাইটিসের চিকিৎসা মানেই শুধু সেদ্ধ খাবার, সবজি খেয়ে থাকা বা তেল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া নয়। বরং ভালো করে খেতে হবে। কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি—সবই প্রয়োজন। শরীর যত ভালো পুষ্টি পাবে, তত দ্রুত সুস্থ হবে।"
জন্ডিস হলেই শুধু সেদ্ধ খাবার খেতে হবে, তেল-মশলা, মাছ-মাংস, ডিম বা প্রোটিনজাতীয় খাবার একেবারে বন্ধ—এমন ধারণাই এখনও বেশিরভাগ ভারতীয় পরিবারে প্রচলিত। কিন্তু এই বিশ্বাসকে সম্পূর্ণ ভুল বলে জানিয়েছেন লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. সিরিয়াক অ্যাবি ফিলিপস, যিনি 'লিভারডক' নামেও পরিচিত।
এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) করা একটি পোস্টে তিনি বলেন,
জন্ডিস কোনো রোগ নয়, এটি একটি রোগের লক্ষণ। এটি লিভারের সমস্যার কারণে হতে পারে, আবার লিভারের বাইরের কারণেও হতে পারে।
তাঁর মতে, ভারতে জন্ডিসের অন্যতম সাধারণ কারণ হল অ্যাকিউট ভাইরাল হেপাটাইটিস, যা দূষিত খাবার ও পানীয়ের মাধ্যমে ছড়ায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সংক্রমণ নিজে থেকেই কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায় এবং বিশেষ কোনো ওষুধের প্রয়োজন হয় না। তবে সুস্থ হতে শরীরের পর্যাপ্ত পুষ্টির প্রয়োজন হয়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Rheumatoid Arthritis Treatment: রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব না হলেও চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। DMARDs, বায়োলজিক ওষুধ, JAK inhibitor, স্টেরয়েড এবং ব্যথানাশক ওষুধের সাহায্যে অধিকাংশ রোগীর প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ডা. ফিলিপসের কথায়,
জন্ডিস বা হেপাটাইটিসের চিকিৎসা মানেই শুধু সেদ্ধ খাবার, সবজি খেয়ে থাকা বা তেল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া নয়। বরং ভালো করে খেতে হবে। কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি—সবই প্রয়োজন। শরীর যত ভালো পুষ্টি পাবে, তত দ্রুত সুস্থ হবে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় জন্ডিস নিয়ে বহু পুরনো কুসংস্কার এখনও প্রচলিত। এই বিশ্বাস মানুষের মধ্যে খাবার নিয়ে অযথা ভয় তৈরি করে এবং অনেক সময় রোগ থেকে সেরে উঠতে আরও বেশি সময় লাগে। তাঁর অভিজ্ঞতায়, রোগীদের চিকিৎসার সময় তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী ভাজা খাবার, ঘন ফলের স্মুদি, চর্বিহীন মাংস, মুরগি এমনকী পরিমিত মিষ্টিও খেতে দেন, কারণ এগুলি সবসময় ক্ষতিকর নয়।
অন্যদিকে, মুম্বইয়ের ওয়কহার্ট হাসপাতালের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট ও হেপাটোবিলিয়ারি সার্জন ডা. স্বপ্নিল শর্মাও একই মত পোষণ করেছেন। তাঁর কথায়,
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Gut Health: এখন আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগীদের উপর 'TL1A-ব্লকিং অ্যান্টিবডি'-র ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে। গবেষকরা আশা করছেন, এই গবেষণার সূত্র ধরে আগামী দিনে ওষুধের কার্যকারিতা আরও নিখুঁত করা যাবে।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জন্ডিস হলে প্রোটিন বন্ধ করার কোনো চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভিত্তি নেই। বরং লিভারের ক্ষত সারাতে পর্যাপ্ত পুষ্টি দরকার।
তিনি জানান, ডাল, ছোলা, মুগ, দুধ, দই, পনির, ডিম, মাছ ও চর্বিহীন মাংসের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার শরীরের পেশি রক্ষা করতে এবং দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। চিকিৎসক বিশেষভাবে নিষেধ না করলে এসব খাবার খাওয়া নিরাপদ।
ডা. শর্মা আরও বলেন, জন্ডিস হলেও লিভার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কাজ—যেমন বিপাকক্রিয়া ও বিষাক্ত পদার্থ দূর করার কাজ চালিয়ে যায়। তাই পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে সুস্থ হতে বেশি সময় লাগে, পেশি ক্ষয় হতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। খিদে কম থাকলে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত জল পান করার পরামর্শ দেন তিনি।
কোন খাবার সত্যিই এড়িয়ে চলা উচিত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অকারণে অনেক খাবার বাদ দেওয়ার দরকার নেই। তবে কিছু বিষয় অবশ্যই মানতে হবে—
অ্যালকোহল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, যতদিন না লিভার পুরোপুরি সুস্থ হচ্ছে।
অতিরিক্ত তেলেভাজা, ফাস্ট ফুড ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়াই ভালো। এগুলি জন্ডিস বাড়ায় না, তবে পুষ্টিগুণ কম এবং হজমে সমস্যা করতে পারে।
ভাইরাল হেপাটাইটিস থাকলে দূষিত খাবার ও অপরিষ্কার জল এড়িয়ে চলা জরুরি, যাতে নতুন সংক্রমণ না হয়।
অনেকেই মনে করেন, কম খেলে বা না খেলে লিভার 'বিশ্রাম' পায়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং পর্যাপ্ত ক্যালোরি, প্রোটিন ও সুষম খাবারই লিভারকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। তাই জন্ডিস হলে নিজে থেকে খাদ্যতালিকায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা না এনে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।






