গাছের ছালেই কমবে বাতের ব্যথা!
Rheumatoid Arthritis Treatment: রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব না হলেও চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। DMARDs, বায়োলজিক ওষুধ, JAK inhibitor, স্টেরয়েড এবং ব্যথানাশক ওষুধের সাহায্যে অধিকাংশ রোগীর প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে (RA) ভুগছেন এমন কোটি কোটি মানুষের জন্য নতুন আশার খবর দিলেন বিজ্ঞানীরা। গাছ থেকে পাওয়া একটি প্রাকৃতিক যৌগ ওবাকুল্যাকটোন (Obaculactone বা OL) ভবিষ্যতে এই রোগের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Engineering জার্নালে। গবেষকদের দাবি, এই যৌগ শরীরের অতিরিক্ত প্রদাহ কমিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অস্থিসন্ধি ও কার্টিলেজকে সুরক্ষা দিতে পারে।
কীভাবে কাজ করে এই যৌগ?
ওবাকুল্যাকটোন পাওয়া যায় Phellodendri cortex নামের একটি ঔষধি গাছের ছাল থেকে। গবেষকদের মতে, এটি শরীরের ACOT1 নামের একটি প্রোটিনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ফ্যাটি অ্যাসিডের বিপাক স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং হাড়ের জোড়ের প্রদাহ কমে।
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ইঁদুরের উপর ২১ দিন ধরে এই যৌগ প্রয়োগ করা হয়। তারপর দেখা যায়,
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Gut Health: এখন আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগীদের উপর 'TL1A-ব্লকিং অ্যান্টিবডি'-র ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে। গবেষকরা আশা করছেন, এই গবেষণার সূত্র ধরে আগামী দিনে ওষুধের কার্যকারিতা আরও নিখুঁত করা যাবে।
হাড়ের জোড় বা অস্থিসন্ধির ফোলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
কার্টিলেজ ও অস্থিসন্ধির ভিতরের টিস্যুর ক্ষতি কমেছে।
রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যক্রম আরও সুষম হয়েছে।
প্রদাহ সৃষ্টি করা রোগপ্রতিরোধী কোষগুলির সক্রিয়তা কমেছে।
IL-1β, IL-6, IL-17 এবং TNF-α-এর মতো প্রদাহ বাড়ানো রাসায়নিকের মাত্রাও হ্রাস পেয়েছে।
এছাড়াও গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ওবাকুল্যাকটোন ক্ষতিকর M1 ম্যাক্রোফেজ কমিয়ে প্রদাহ কমাতে সহায়ক M2 ম্যাক্রোফেজ বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করেছে।
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে কী কী সমস্যা হয়?
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস একটি অটোইমিউন রোগ। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে নিজের অস্থিসন্ধিকেই আক্রমণ করে। এর ফলে অস্থিসন্ধিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হয়।
এই রোগে সাধারণত দেখা যায়—
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
India fertility rate: ভারতের মোট প্রজনন হার প্রথমবারের মতো রিপ্লেসমেন্ট লেভেল ২.১-এর নিচে নেমে এসেছে। একসময় জনসংখ্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশ এখন কেন জন্মহার কমে যাওয়ায় চিন্তিত?
হাত, পা ও আঙুলের অস্থিসন্ধিতে ব্যথা
ফোলা ও উষ্ণ অনুভূতি
সকালে দীর্ঘক্ষণ অস্থিসন্ধি শক্ত হয়ে থাকা
চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজে অসুবিধা
দীর্ঘদিন চিকিৎসা না হলে অস্থিসন্ধির স্থায়ী ক্ষতি বা বিকৃতি
ক্লান্তি ও অবসাদ
এখন চিকিৎসা কতটা উন্নত?
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব না হলেও চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। DMARDs, বায়োলজিক ওষুধ, JAK inhibitor, স্টেরয়েড এবং ব্যথানাশক ওষুধের সাহায্যে অধিকাংশ রোগীর প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ফলে অনেকেই দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে একই ওষুধ সমান কার্যকর হয় না। তাই আরও কার্যকর ও নিরাপদ চিকিৎসা খুঁজতে গবেষণা চলছে।
মানুষের চিকিৎসায় কি ব্যবহার করা যাবে?
গবেষকদের মতে, ওবাকুল্যাকটোন ভবিষ্যতে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের নতুন ওষুধ তৈরির পথ খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে ACOT1 প্রোটিনকে লক্ষ্য করে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে এখনই মানুষের চিকিৎসায় এই যৌগ ব্যবহার করা যাবে না। কারণ গবেষণাটি এখনও প্রাণী ও কোষের উপর সীমাবদ্ধ। মানুষের শরীরে এটি কতটা নিরাপদ ও কার্যকর, তা নিশ্চিত করতে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালসহ আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ শতাংশ মানুষ, অর্থাৎ ৮ কোটিরও বেশি মানুষ, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত। তাই প্রাকৃতিক এই যৌগ ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিসন্ধির প্রদাহ কমানোর নতুন চিকিৎসার ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।
সূত্র: ScienceDaily (Higher Education Press), Engineering Journal, ২০২৬।






