মাত্র ১২ দিনেই বসে গিয়েছে সাড়ে পাঁচ সেন্টিমিটার! জোশীমঠের পাতাল প্রবেশের আতঙ্ক কাটছেই না
Joshimath Sinking ISRO Satellite Image : অনেকের মনে পড়ছে সীতার পাতাল প্রবেশের দৃশ্য। সেভাবেই যেন চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে চলেছে ভারতের সাধের জোশীমঠ।

বাড়ির মেঝেতে, দেওয়ালে চওড়া ফাটল। একপাশে বসে রয়েছেন কয়েকজন বাসিন্দা। ভয়, ফাটলের ওই পাড়ে গেলে যদি সব শেষ হয়ে যায়। যদি হারিয়ে যায় বাড়ির কচিকাঁচারা! মন্দির ভেঙে পড়ছে বাড়ির ওপর। একটু একটু করে বেঁকে যাচ্ছে আস্ত হোটেল, রিসোর্ট। গত কয়েকদিনেই জোশীমঠের মানুষদের আয়ু যেন এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। উড়েছে রাতের ঘুম। নিজের ভিটেবাড়ি, আশ্রয় ছেড়ে, কনকনে শীতের রাতে বেরিয়ে পড়ছেন তাঁরা। কোথায় যাবেন, কী করবেন কিচ্ছু জানেন না। এমনই ভয়াবহতার সাক্ষী জোশীমঠ। অনেকের মনে পড়ছে সীতার পাতাল প্রবেশের দৃশ্য। সেভাবেই যেন চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে চলেছে ভারতের সাধের জোশীমঠ।
জোশীমঠের অবস্থা ঠিক কতটা ভয়াবহ, তা নতুন করে নিশ্চয়ই বলতে হবে না। একটা সময় বদ্রিনাথ, হেমকুণ্ড সাহিব, আউলি ইত্যাদি জায়গায় যাওয়ার জন্য পর্যটকেরা এসে ভিড় জমাতেন এই জোশীমঠেই। ভ্রমণ উপন্যাসেও বারবার উঠে এসেছে এই শহর। কিন্তু সেই অত্যাধিক মানুষের চাপই প্রভাব ফেলছে পাহাড়ে। তারই ফলশ্রুতি এই ধস। ছবিটা ঠিক কতটা ভয়াবহ, তারই একটি ছবি তুলে ধরেছে ইসরো। ভারতের এই মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার (NRSC) সম্প্রতি একটি রিপোর্ট পেশ করেছে। সেখানেই উঠে এসেছে এই ভয়ংকর, হাড়হিম করা ছবি।

জোশীমঠের পরিস্থিতি, ইসরোর স্যাটেলাইট ছবি...
কী দেখা গিয়েছে সেখানে? NRSC জানিয়েছে, ২০২২-এর এপ্রিল থেকে নভেম্বর অবধি গোটা জোশীমঠই প্রায় ৮.৯ সেন্টিমিটার বসে গিয়েছে। তবুও এই বসে যাওয়ার হার কম ছিল। কিন্তু ২৭ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি, ২০২৩-এ সেই বসে যাওয়ার হার আরও কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। মাত্র ১২ দিনে প্রায় ৫.৪ সেন্টিমিটার অঞ্চল বসে গিয়েছে! পার্বত্য এলাকা আর চাপ নিতে পারছে না। ইসরোর কার্টোস্যাট-২এস (CARTOSAT-2S) স্যাটেলাইট থেকে এই ছবি পাওয়া গিয়েছে। সেখানে আরও দেখা যাচ্ছে, কেবল একটা দুটো জায়গা নয়, গোটা জোশীমঠ শহরটাই বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যে কোনও দিন খাদের ধার থেকে তলিয়ে যেতে পারে এটি।
গবেষণা যত এগোচ্ছে, ভয়াবহতার ছবি যেন আরও বাড়ছে। একটি গবেষণার রিপোর্ট বলছে, প্রতি বছর প্রায় আড়াই ইঞ্চি করে বসে যাচ্ছে জোশীমঠ। আর এই ধসের কবলে কেবল শহর নয়, গোটা এলাকাটিই রয়েছে। ইতিমধ্যেই বাসিন্দাদের জোশীমঠ থেকে বের করে আনা হচ্ছে। গোটা শহরটিই বসবাসের অযোগ্য বলে ঘোষণা করেছে উত্তরাখণ্ড সরকার। আগামী দিনে আরও কি ভয়ংকর ছবি অপেক্ষা করছে, সেটাই দেখার। জোশীমঠ এখন কেবল অতীতের সুখস্মৃতি হিসেবেই রয়ে গেল মানুষের মনে।















