১০ দফা দাবিতে অনড় আরজি করের জুনিয়র চিকিৎসকরা
RG Kar Doctor Rape and Murder Case: আরজি করের জুনিয়র চিকিৎসকরা বার্তা দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবেই

আরজি কর কাণ্ডে উত্তাল দেশ। এই ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়ায় পক্ষপাত রয়েছে বলে বিক্ষোভকারী ডাক্তাররা অভিযোগ করে ছিলেন। প্রথম থেকেই জরুরি বিভাগ বাদে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিলেন তাঁরা। অন্যদিকে আরজি কর ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনও তুঙ্গে। এর আগে হাইকোর্ট তাঁদের কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাত জোর করে চিকিৎসকদের কাজে ফিরতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তাতেও কোনো সুরাহা হয়নি। আরজি করের মহিলা চিকিৎসকের হত্যা ও ধর্ষনের ঘটনার অভিঘাত এমনই যে, শুধু চিকিৎসক মহলেই এই প্রতিবাদ আটকে নেই, দেশ জুড়ে সাধারণ জনগণও এই নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে নেমেছে। বলে রাখা প্রয়োজন, প্রথমে মহিলা চিকিৎসকের বাড়িতে জানানো হয়েছিল মেয়ে অসুস্থ। পরে জানানো হয় মেয়ে আত্মঘাতী। প্রাথমিক তদন্ত কমিটিতে মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের রেখে মনস্তাত্ত্বিক বিষয় বলে দাগানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আরজি করের বাকি ট্রেনি ডাক্তাররা যদি সামনে না আসতেন তাহলে হয়তো আসল ঘটনা জানাই হতো না। তদন্ত প্রক্রিয়ার ঢিলেমির জন্য তাঁদের প্রতিবাদ আরও সক্রিয় হচ্ছে। ১৬ অগস্ট সাংবাদিক বৈঠক করে জুনিয়র চিকিৎসকরা তাঁদের দাবিদাওয়া সামনে এনেছেন। সেখানে তাঁরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবেই।
সাংবাদিক বৈঠকে করে জুনিয়র ডাক্তাররা বলেন নিজেদের দাবিদাওয়ার কথা। নিচে সেগুলি লেখা হল -
১. দোষীদের অবিলম্বে শনাক্তকরণ এবং জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।
২. পদত্যাগ করতে হবে এবং লিখিত ভাবে ক্ষমাও চাইতে হবে। প্রশাসনিক পদে আর থাকবেন না তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. হামলার দায় কলকাতা পুলিশকে নিতে হবে। আন্দোলনে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। আশ্বাস পেয়েছি কিন্তু পরিকল্পনা জানাতে হবে।
৪. সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে একাধিক প্রশ্ন ঘুরছে। সে সব পুলিশকে যাচাই করতে হবে।
৫. নিরাপত্তার প্রশ্নে অধক্ষ্য এখনও কোনো উত্তর দেননি। সেই উত্তর দিতে হবে। এখনও কেন জবাব দিতে পারছেন না অধক্ষ্য?
৬. ঘটনাস্থল লাগওয়া ঘরে সংস্কার শুরু হয়ে গিয়েছে কিন্তু চিকিৎসকদের নিরাপত্তা কই? ক্রাইম সিন থেকে তথ্য লোপাটের পরিকল্পনা ছিল কি না অফিসারদের তা যাচাই করে বলতে হবে।
৭. কর্মবিরতি চলবে। তবে যেটুকু জরুরি পরিষেবা চালু ছিল তা এখনও চলছে।
৮. আমরাও কাজে যোগ দিতে চাই। কিন্তু দোষীদের শাস্তি না হলে, ঘটনার উদ্দেশ্য না জানলে, হামলার কারণ না জানালে কাজে ফেরা সম্ভব নয়। সবাইকে আমাদের পাশে থাকতে অনুরোধ করব।
৯. সন্দীপ ঘোষের জিজ্ঞাসাবাদ আমাদেরও দাবি ছিল। তাঁকে সন্দেহভাজন মনে হলে গ্রেফতার করতে হবে।
১০. দাবি পূরণ হলেই আমরা আবার কাজে ফিরব।
উল্লেখ্য, ১৬ অগস্ট পথে নেমেছিলেন রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বরাও। তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অপরাধীর ফাঁসির দাবি করেছেন। এ দিন তিনি বলেই ফেলেন, কলকাতা পুলিসের তদন্ত প্রায় ৯০% হয়েই গিয়েছিল, কিন্তু আরজি করের ডাক্তারি পড়ুয়ারা কলকাতা পুলিসের ওপর ভরসা রাখতে পারেননি। বলতেই হয়, প্রথম থেকেই এই ঘটনায় কলকাতা পুলিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বার বার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে কলকাতা পুলিস। এমনকি এই ঘটনায় নানাভাবে জলঘোলা করতে চেয়েছে তারা এমন অভিযোগও উঠেছিল।
















