ছোট্ট হাতে উপহার বিস্কুট-চিপস, ধুলোমুখে একগাল হাসি, অকাল বড়দিনে 'সান্টাকাকু'র সাক্ষী ভারত
Kerala Bus Driver gives Snacks Video viral : কিছুক্ষণ আগেও যে বাচ্চাগুলো মুখ ব্যাজার করে বসেছিল, তাদের মুখে হাসি ফুটল। যেন অকাল ক্রিসমাস!

“তবু ঘুম যে আমার চলে আসে ডিসেম্বর মাসে
স্বপ্ন দেখি, ঘুড়ি ওড়াই কালো আকাশে
কান্না আমার যাচ্ছে কমে, বাড়ছে যে সাহস,
নাম যে আমার আলিবাবা, বয়স এখনও দশ”
সেই কবে গানের সুরে এমন কিছু কথা বলে গিয়েছিলেন অঞ্জন দত্ত। বলেছিলেন, রাস্তার ধারে, ঘুপচি অন্ধকারে বসে থাকা আলিবাবার কথা। বড়দিনের শহরে সবার বাড়ি সান্টা ক্লজ আসে, তার বাড়িতেও কি আসবে? কিনে দেবে রঙিন ঘুড়ি, বুড়ির চুল, ছোট্ট ফুটবল? স্বপ্ন দেখার পালা শেষ হয়, শীত যায় শীত আসে, কিন্তু সান্টা ক্লজ আর আসেন না। ঝুলির ভেতর ছড়িয়ে থাকে অন্ধকার…
ভারতের রাস্তাঘাটে এমন কত আলিবাবারা ঘুরে বেড়ায়। আমরা কখনও দেখি, কখনও আবার না দেখার ভান করে চলে যাই দূরে। কিংবা তাদের দিকে ছুটে আসে বাতিল চটি, পাথর। ধুলো মেখে সভ্যতার দিকে তাকিয়ে থাকে ওই গরিব, ধুলোমাখা পথশিশুরা। যদি সান্টা ক্লজই হঠাৎ একরাশ উপহার নিয়ে সামনে চলে আসে? জানুয়ারির মাঝে এমনই অকাল বড়দিনের সাক্ষী থাকল গোটা ভারত। ‘সান্টাকাকু’র এমন উপহার পেয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরল দুজন পথশিশু। আর সেই ভাইরাল ভিডিও চোখে জল আনল অজস্র নেটিজেনদের।
ঘটনাস্থল কেরালা। রাস্তায় দাঁড়িয়েছিল দু’জন ছোট্ট বালক। চোখ থেকে সারল্য এখনও মোছেনি তাদের। জানুয়ারির শীতেও কোনও মোটা জামা নেই তাদের গায়ে। একজনের পরনে হাফহাতা জামা, আরেকজনের সেটাও নেই। গোটা শরীরে ধুলোর ঝড় বইছে যেন।
তাদের সামনেই দাঁড়িয়ে পড়ল একটি বাস। কী ব্যাপার? ড্রাইভারের দরজাটা খুলে গেল হঠাৎ। এগিয়ে এল ওই দুই বালক। কৌতূহলী চোখ। বাস ড্রাইভার একঝলক দেখলেন তাদের দিকে। তারপর খুললেন ‘সান্টাকাকুর উপহারের ডালি’। একে একে ওই বাচ্চাগুলোর হাতে তুলে দিলেন বিস্কুট, চিপস, চকোলেট। ছোট্ট ছোট্ট হাতগুলো কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভর্তি হয়ে গেল। কিছুক্ষণ আগেও যে বাচ্চাগুলো মুখ ব্যাজার করে বসেছিল, তাদের মুখে হাসি ফুটল। ঠিক যেন অকাল ক্রিসমাস নেমে এসেছে ওই এলাকায়! যখন বেরিয়ে যাচ্ছেন বাস ড্রাইভার, তখন ওই বাচ্চাদুটো হাত নাড়িয়ে বিদায়ও জানাল। হয়তো মনে মনে বলল, ‘টা টা, সান্টাকাকু!’
View this post on Instagram
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও আপলোড হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভাইরাল হয়ে যায়। এখনও বহু মানুষ চোখ খুলে দেখছেন সেই ভিডিও। কিন্তু কেবল ভিডিওর মধ্যেই থেকে যাবে এমন মুহূর্ত? ভারতের রাস্তাঘাটে এমন কত শিশু ঘুরে বেড়ায়। তাদের কাছে ডোমিনোস, বিরিয়ানি, আমিনিয়া, দাদা বৌদি – এসব দূর আকাশের তারা। দোকানের বাইরে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে শৈশব। পেট ডাকে তাদের; কিন্তু টাকা? স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসবের মধ্যেও স্রেফ অনাহারে এই দেশে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা লজ্জায় ফেলে দেবে। হাঙ্গার ইনডেক্সে গোটা বিশ্বের মধ্যে ভারতের স্থান ১০৭। 'ক্ষুধার রাজ্যে' এই পৃথিবী গদ্যময় নয়; বরং অনেক নৃশংস, অনেক ক্রুর। অথচ ধনী আরও ধনী হচ্ছে, নেতাদের পকেট আরও ভারী হচ্ছে।
এই পথশিশুরা প্রতিদিন অপেক্ষা করে থাকে সান্টাদাদুর। কিংবা কোনও পরী, যার জাদুকাঠির স্পর্শে বদলে যাবে জীবনের রঙ। কিন্তু সকাল যায়, সন্ধ্যা যায়… অন্ধকার আরও গাঢ় হয়। হগওয়ার্টস বা হ্যারি পটার এই পৃথিবীতে নিছকই বিলাসিতা; এখানে পদে পদে ছুটে আসে পাথর, ধুলো আর গালাগাল। তার মধ্যেই কেরালার এমন ভিডিও আশা জাগায়। এখনও মানুষ আছেন তাহলে!
















