পণে বিএমডব্লিউ দাবি প্রেমিকের! শিক্ষিত, স্বনির্ভর হয়েও কেন আত্মহত্যা কেরলের চিকিৎসকের?
Kerala Doctor Suicide for Dowry Demand : ডাঃ রুওয়াইসের পরিবার যৌতুক হিসেবে ১৫০ ভরি সোনার গয়না, ১৫ একর জমি এবং একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি দাবি করে।

মেয়ে ডাক্তার, মেয়ে ইঞ্জিনিয়ার, মেয়ে অভিনেত্রী, মেয়ে শিল্পী, মেয়ে অ্যাস্ট্রোনট, মেয়ে অ্যাথলিট! কিছুই কিছু নয় যদি বিবাহের পরীক্ষায় 'কৃতকার্য' না হলে। অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতাই কি একজন মহিলার আত্মমর্যাদা গড়ে দেয়? বাঁচার পথ বেছে দেয়? দেয় না, দেয় না বলেই চিকিৎসক হয়েও আত্মহত্যা করেন ২৬ বছর বয়সি তরুণী। কেন? পণ দেওয়ার সামর্থ্য নেই! একজন চিকিৎসক, একজন 'শিক্ষিতা' মহিলাকেও আত্মহত্যা করতে হয় পণ না দিতে পারার ঘটনায়! এই ২০২৩ সালে দাঁড়িয়েও বাস্তব এমনটাই। কেরলের তিরুবনন্তপুরমে চিকিৎসকের আত্মহত্যা আবারও মহিলাদের অবস্থা স্পষ্ট করল সমাজে।
অভিযোগ, ওই চিকিৎসকের প্রেমিক তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। কারণ মেয়েটির পরিবার যৌতুকের দাবি পূরণ করতে পারেনি। গোটা ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ এই মৃত্যুর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেমিকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও পণবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তাকে আটকও করা হয়েছে।
২৬ বছরের ডাক্তার সাহানা তিরুবনন্তপুরমের সরকারি মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগে স্নাতকোত্তর বিভাগে পড়াশোনা করছিলেন। সাহানা তাঁর মা এবং দুই ভাইবোনের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর বাবা কাজ করতেন বাইরে। দুই বছর আগে মারা যান তিনি। আরেক ডাঃ ইএ রুওয়াইসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন সাহানা। দু'জনে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।

সাহানার পরিবারের অভিযোগ, ডাঃ রুওয়াইসের পরিবার যৌতুক হিসেবে ১৫০ ভরি সোনার গয়না, ১৫ একর জমি এবং একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি দাবি করে। সাহানার পরিবার যখন জানায় এই পণ দেওয়া তাঁদের পক্ষে অসম্ভব, তখন প্রেমিকের পরিবার বিয়ে বাতিল করে। এত দিন প্রেম করার পরে, একে অন্যের সঙ্গে সময় কাটানোর পরে পণের দাবি, তা দিতে না পারায় সম্পর্ক ও বিয়ে ভেঙে দেওয়ার ঘটনা মেনে নিতে পারেননি সাহানা। এই বিশ্বাসভঙ্গ, এই সামাজিক চাপ বিধ্বস্ত করে দেয় তাঁকে। আত্মহত্যাকেই বাঁচার পথ মনে করেন সাহানা। সুইসাইড নোটে লিখে যান, "সবাই শুধু টাকা চায়"।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই যৌতুকের দাবির অভিযোগের বিষয়ে রাজ্যের মহিলা ও শিশু উন্নয়ন বিভাগকেও প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন। রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন পি সাথীদেবী ডাঃ সাহানার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখাও করেছেন। সবই তো হলো। কিন্তু একজন চিকিৎসক যুবতী স্রেফ পণ দিতে না পারার, প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কষ্টে নিজেকে শেষ করে দেবেন? বিয়ের বাইরে যে দীর্ঘ জীবন? কর্মজীবন? পরিবার? এই সমস্ত কিছুর ঊর্ধ্বে কেবলই পণ না দিতে পারার গ্লানি? প্রেমিককে ভুল চেনার গ্লানি?
অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা সত্ত্বেও কেন এই পদক্ষেপ? কেন স্বাবলম্বী একজন কন্যাকেও বিএমডব্লিউ পণ দিয়ে নিজেকে বিয়ে 'করাতে' হয়? 'দেনাপাওনা' গল্পে নিরুপমার মৃত্যুর জন্য কে দায়ী প্রশ্নে যারা লিখেছেন পরিবার দায়ী, সমাজ দায়ী এবং যারা লিখেছেন খোদ নিরুপমাই দায়ী- সকলের কাছেই এই এক প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে। কে দায়ী? কারা একজন শিক্ষিত, চিকিৎসকের সমস্ত গর্ব, সম্মান, মর্যাদাকে পণের দাবিতে পর্যবসিত করে? সাহানার মৃত্যুর জন্য সাহানা নিজে দায়ী? সুইসাইড নোটের "সবাই শুধু টাকা চায়"- এর নেপথ্যে যে কীট, যে দীনতাগুলি রয়ে গেছে সেসবের নিকেশ হবে কবে?















