মাত্র একটিরই অস্তিত্ব রয়েছে পৃথিবীতে, দুর্লভতম এই রত্নের দাম কত, জানেন?
World's Rarest Gemstone Mineral : এর বাইরেও এমন বেশকিছু রত্ন আছে, যেগুলি খুবই কম পাওয়া যায়। কিছু কিছু মিনারেলের তো দেখা মেলাই ভার!

“যেদিকে দেখিবে ছাই/ উড়াইয়া দেখো তাই/ পাইলেও পাইতে পারো/ অমূল্য রতন”
শখের গয়না থেকে জ্যোতিষচর্চা, নানা রঙের রত্ন আমাদের চারপাশে এমনিই ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার জন্য ছাই ওড়ানোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু এসব তো অত্যন্ত সাধারণ। পৃথিবীর অসংখ্য জায়গায়, খনির ভেতরেই হোক বা সমুদ্র গহ্বর – একটু খুঁজলেই রত্নভাণ্ডার পাওয়া যায়। তাদের নানা রঙ, নানা আকার আর বাহার। ভুবিজ্ঞানীদের বিভিন্ন গবেষণার কাজেও চলে আসে এই রত্ন। আসলে এগুলি ক্রিস্টালাইজড মিনারেল। বিভিন্ন মৌলের মিশ্রণে, বিক্রিয়ায় তৈরি হওয়া জিনিসগুলি নিয়ে আমাদের বিস্ময়ের শেষ নেই। কমবেশি অনেকেই জানি কোয়ার্টজের কথা। বিভিন্ন রকমের কোয়ার্টজ পাওয়া যায় পৃথিবীতে। মিনারেলের তালিকায় সবচেয়ে বেশিবার যেটি পাওয়া যায়।

কোয়ার্টজ
কিন্তু এর বাইরেও এমন বেশকিছু রত্ন আছে, যেগুলি খুবই কম পাওয়া যায়। কিছু কিছু মিনারেলের তো দেখা মেলাই ভার! মুদ্রার একপিঠে রয়েছে কোয়ার্টজ, অন্য পিঠে কোনটি? পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্লভ রত্নের নাম কী? এই প্রশ্নটি অনায়াসেই কুইজ প্রতিযোগিতায় করা যেতে পারে। কারণ, দুর্লভতম এই রত্নটি আসলে একাই রয়েছে পৃথিবীতে। নাম – ‘কায়োথুইট’ (Kyawthuite)। অবাক করা বিষয় হল, এই মুহূর্তে পৃথিবীতে মাত্র একটিই কায়োথুইট রত্ন আছে। বলা ভালো, বিশেষ মিনারেলের এই একটি পিসই খুঁজে বের করা গিয়েছে। আর পাওয়া যায়নি। আর তাই কায়োথুইট এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্লভ রত্ন।
পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় যে রত্নগুলি পাওয়া যায়, সেগুলি সবই ‘Self Made’। মানে, নিজে নিজেই বিভিন্ন বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে। কোনও গবেষণাগারে তৈরি করা হয়নি। তাই তো যাবতীয় রত্নের সন্ধান পেতে গেলে প্রকৃতির ওপরই ভরসা করতে হয়। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে, নদীর তলদেশে, বা অন্ধকার গুহার এক কোণে পেতে পারেন এমন ‘অমূল্য রতন’। তবে কায়োথুইটকে পাওয়া এত সহজ কাজ নয়। সেজন্যই এখনও পর্যন্ত এই বিশেষ রত্নটির সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায়নি।
কী করে পাওয়া গেল কায়োথুইট? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে আসতে হবে এশিয়া মহাদেশে। ভারতেরই প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারের মোগাক অঞ্চল এরকম চকমকে ক্রিস্টালাইজড মিনারেল বা রত্নের জন্য বিখ্যাত। ওখাঙ্কার খনিতে এরকম অনেক রত্ন পাওয়া যায়। সেখানেই হঠাৎ আবিষ্কৃত হয় এই অজানা রত্ন। গাঢ় কমলা রঙ ঠিকরে বেরোচ্ছে সেখান থেকে। মাত্র ১.৬১ ক্যারটের এই রত্নটিকে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু হল। ২০১৫ সাল। নতুন এই রত্নটির নাম দেওয়া হল ‘কায়োথুইট’।
ব্যস, এই একটিই। তারপর থেকে হাজার চেষ্টার পরও দ্বিতীয় কায়োথুইট খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই মুহূর্তে খুব যত্নের সঙ্গে এই রত্নটিকে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। কারণ, এটি হারিয়ে গেলে হয়তো আর পাওয়া যাবে না! তবে কেবল কায়োথুইট নয়, মায়ানমারের এই মোগাক অঞ্চল থেকে আরও একটি বিরল রত্নের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। সেদিকেও খানিক আলোকপাত করা যাক।
১৯৫২ সাল। ব্রিটিশ রত্ন সংগ্রাহক আর্থার পেইন মায়ানমারে নিজের কাজে গিয়েছিলেন। সেখানেই খনি থেকে তিনি দু’টি ক্রিস্টাল পান। গাঢ় লাল রঙের রত্ন দু’টিকে দেখে প্রথমে ভেবেছিলেন – এটি বোধহয় চুনি বা রুবি (Ruby)। দেখতেও সেরকম, তার ওপর যেখান থেকে ক্রিস্টাল দু’টি সংগ্রহ করেছিলেন, সেখান থেকে আগে চুনিপাথরই পাওয়া গিয়েছে। সেই পাথর ব্রিটিশ মিউজিয়ামকে দান করে দেন তিনি।

পাইনাইট
তারপরই সামনে আসে আসল রহস্য। বিস্তর পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানা যায়, এই পাথর আদতে চুনি নয়। বরং তার থেকেও মূল্যবান, বিরল। অজান্তেই নতুন আবিষ্কার করে গিয়েছেন আর্থার পেইন। তাই তাঁর নাম অনুসারেই এই বিশেষ রত্নটির নামকরণ করা হয় ‘পাইনাইট’। কায়োথুইটের মতো এটিও পৃথিবীর অন্যতম দুর্লভ রত্ন। এই মুহূর্তে পৃথিবীতে মোট তিনটি পাইনাইটের অস্তিত্ব আছে। এতটাই দুর্লভ, যে মাত্র এক ক্যারটের দাম প্রায় ৬০ হাজার ডলার!
আর কায়োথুইট? তার দাম নির্ধারণ করা কারও পক্ষেই বোধহয় সম্ভব নয়। আপাতত সংরক্ষণের আওতায় আছে সেই রত্ন। সব মিলিয়ে, পৃথিবীর রত্নভাণ্ডারে আরও কত আশ্চর্য লুকিয়ে আছে, তা এখনও মানুষের অজানা।















