পৃথিবী দেখার নেশা! বাড়ি-গাড়ি সব ছেড়ে শূন্য থেকে শুরু করতে চান ব্যক্তি
Travel The World: কষ্ট করে গড়ে তোলা ঘর সংসার, শখের জিনিসপত্র ছেড়ে চলে যাওয়া মুখের কথা নয়। আর সেই কাজটাই করতে চলেছেন স্টিভেন।

পায়ের তলায় সর্ষে। সেই সর্ষের নেশা যে মানুষকে কতদূর ছোটাতে পারে, তা ভ্রমণপ্রেমী মাত্রেই হাড়ে হাড়ে জানেন। পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গলের উন্মাদনা মানুষের ঘুম কাড়ে। তাকে ঘর থেকে বের করে এনে ফেলে পথের মধ্যে। মূল্যবান তুচ্ছ হয়ে যায়, তুচ্ছ হয়ে ওঠে দামী।
সিনেমা, গল্পে, উপন্যাসে এমন চরিত্র আমরা অনেক দেখেছি, অনেক পড়েছি। রবীন্দ্রনাথের অতিথি গল্পের তারাপদ থেকে শরৎ চাটুজ্জের শ্রীকান্ত, পথ যাদের ঘরছাড়া করেছে এমন চরিত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সাহিত্য থেকে সিনেমায়। আমাদের আশপাশেও এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা ধরাবাঁধা গতের বাইরেই জীবনকে দেখে অভ্যস্ত।
আরও শুনুন: ছয় বছরে ৩০টি দেশে ভ্রমণ, অথচ চড়েননি একটিও ফ্লাইট! কীভাবে সম্ভব করলেন এই দম্পতি?
নব্বই দশকে মুখ ঢেকেছিল বিজ্ঞাপনে। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে শুধু মুখ নয়, মানুষের সমস্তটাই ঢেকে গিয়েছে তার ছায়ায়। এমনকী সোশ্যাল মিডিয়ায় চলে ব্যবসা বাণিজ্য। ফেসবুক খুললেই মার্কেটপ্লেস জুড়ে নানা ধরনের জিনিসের বিজ্ঞাপন। বাড়ি থেকে শুরু করে শাড়ি, কী না বিক্রি হয় সেখানে। তবে জীবন? তা-ও কি বিক্রি হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়! নিউজিল্যান্ডের গোল্ড কোস্টের বাসিন্দা স্টিভেন টল। ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে নিজের গোটা জীবনটাই তুলে দিয়েছেন তিনি। নিজের বাড়ি, গাড়ি, সমস্ত সম্পত্তি থেকে চাকরি, সব কিছুই বিক্রির জন্য তুলে দিয়েছেন তিনি। গোটাটাই একটা প্যাকেজ। যিনি কিনবেন, গোটাটাই পাবেন একসঙ্গে। সমস্ত কিছু ছেড়ে নতুন জীবন শুরু করতে চান স্টিভেন।
এককালে মানুষ সংসার ছেড়ে বিবাগি হত। স্টিভেনের ব্যাপারটাও যেন অনেকটা তেমনই। বিবাগীই হতে চান স্টিভেন। গোটা পৃথিবী ঘুরে দেখতে চান। বিপুল টাকার সম্পত্তি রয়েছে স্টিভেনের। সাজানো গোছানো চারটি বেডরুমের লাউঞ্জ স্যুট যার দাম ৮৬৩০ নিউজিল্যান্ড ডলার মূল্যের কাছাকাছি। বিনোদনের সমস্ত ব্যবস্থা, আউটডোর বার কী নেই তাঁর। ওই প্যাকেজের আওতায় পড়ছে গোটাটাই। তার সঙ্গে নিজের গোটা ব্যবসাটাই বিক্রিতে তুলেছেন স্টিভেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি জানিয়েছেন, তাঁর ট্রাকের ব্যবসা সামলানোর পক্ষে যথেষ্ট সহজ। মাত্র একবেলাতেই কাজ শিখে ফেলতে পারবেন যে কেউ। ফলে গাড়ি, বাড়ির সঙ্গে মিলছে আস্ত একটা ব্যবসাও।

সর্বস্ব ছেড়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে ছাড়ছেন না সঙ্গী প্রিয়তমাকে। মজা করেই স্টিভেন জানিয়েছেন, এই পুরো প্যাকেজের মধ্যে শুধু তার বাড়ি, গাড়ি, ব্যবসাই পড়ে। তাঁর প্রেমিকা নন। স্টিভেন চান, কোনও পরিবার বা তরুণ-তরুণী তাঁর এই বাড়িগাড়ির দায়িত্ব বুঝে নিন। পাশাপাশি যত্ন করে যা যা তিনি তৈরি করেছেন, সে সমস্ত কিছুই উপভোগ করুন তাঁরা। না, একটি গাড়ি নয়। একটি আস্ত ক্যারাভ্যান, তিনটি গাড়ি, ওয়ার্ক আউটের প্রচুর জিনিসপত্র, এমনকী প্রচুর বাদ্যযন্ত্রও বিক্রি করে দিচ্ছেন স্টিভেন। এ সমস্ত কিছুই কষ্টের উপার্জন দিয়ে কষ্ট করে তৈরি করেছিলেন তিনি।
আরও শুনুন: মেট্রো চড়ে গিনেস বুকে নাম! করেছেন কী দিল্লির এই ব্যক্তি?
কষ্ট করে গড়ে তোলা ঘর সংসার, শখের জিনিসপত্র ছেড়ে চলে যাওয়া মুখের কথা নয়। আর সেই কাজটাই করতে চলেছেন স্টিভেন। আর এ সমস্তটাই তিনি করছেন, নতুন দেশ দেখার নেশায়। নতুন করে আবার নিজের পৃথিবীটা গড়ে নিতে চান তিনি। সাজিয়ে নিতে চান নিজের পরিশ্রমে। সকলের এই সাহস থাকে না। তবু পৃথিবী দেখার নেশা, পায়ের তলায় লেগে থাকা সর্ষে, এমন অনেক কিছুই করিয়ে নেয়, যা হোরাশিওদের নোটবুকে লেখা থাকে না।
















