গাড়ি জ্বলছে, রক্তে ভেসে যাচ্ছেন ঋষভ পন্থ, এখনও শিউরে উঠছেন এই বাস ড্রাইভার
Rishabh Pant Accident : এই মুহূর্তে তাঁদের কুর্নিশ জানাচ্ছে ভারত। এই দুজনের জন্যই বরাত জোরে বেঁচে গিয়েছেন ভারতের তারকা ক্রিকেটার ঋষভ পন্থ

৩০ ডিসেম্বরের আগে তাঁদের পরিচয় কেউ জানত না। এলাকার কয়েকজনের কাছেই সামান্য পরিচিতি ছিল। কিন্তু ২০২২-এর বছরশেষের দিনটি সবকিছু বদলে দিল। সুশীল কুমার আর পরমজিৎ এখন গোটা দেশের কাছেই নায়ক, বাস্তব জগতের হিরো। এই সুশীল কুমার অবশ্য কুস্তিগীর নন, সামান্য একজন বাস ড্রাইভার। সেই বাসেরই কনডাক্টর হিসেবে কাজ করেন পরমজিৎ। এই মুহূর্তে তাঁদের কুর্নিশ জানাচ্ছে ভারত। কারণ? এই দুজনের জন্যই বরাত জোরে বেঁচে গিয়েছেন ভারতের তারকা ক্রিকেটার ঋষভ পন্থ।
৩০ ডিসেম্বরের আতঙ্ক এখনও কাটেনি ভারতীয় ক্রিকেট মহলে। ক্রিসমাসের ছুটি কাটাতে দুবাই গিয়েছিলেন ভারতের তারকা ব্যাটসম্যান ও উইকেটরক্ষক ঋষভ পন্থ। সেখান থেকেই বিমানে দিল্লি ফিরে আসেন তিনি। ঠিক ছিল, দিল্লি থেকে গাড়ি নিয়ে রুরকি যাবেন। মায়ের সঙ্গে বছর শেষের মুহূর্ত কাটাবেন। কিন্তু তাঁর কপালে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা লেখা আছে, কে জানত!
দিল্লি-দেরাদুন হাইওয়ে ধরে বেশ জোরেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন তিনি। যাওয়ার সময়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তিনি। হাইওয়ের ডিভাইডারে প্রবল গতিতে ধাক্কা মারে গাড়িটি। তারপর সমস্ত কিছু তছনছ করে এগিয়ে যায় সেটি। বেশ কয়েকবার ভল্টও মারে। তারপর রাস্তার মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়ে। গাড়ি থেকে কোনওরকমে বেরিয়ে ডিভাইডারের ধারে চলে আসেন ঋষভ পন্থ। গোটা শরীর, মাথা ভেসে যাচ্ছে রক্তে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিলাসবহুল সেই গাড়িতে আগুন ধরে যায়।
ঠিক সেই সময়ই গুরুকুল নারসান নামের ওই জায়গায় ছিলেন সুশীল কুমার আর পরমজিৎ। দুর্ঘটনা ও গাড়িতে আগুন লেগে যাওয়ার পর দ্রুত গতিতে তাঁরা ছুটে যান ওই জায়গায়। পরে একটি সাক্ষাৎকারে সুশীল বলেন, যেভাবে গাড়িটি ওখানে পড়েছিল, তাতে কারও বেঁচে থাকার কথাই ছিল না। ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর তাঁরা দেখতে পান পন্থকে। লুটিয়ে আছেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে একটা কাপড় জোগাড় করে তারকা ওই ক্রিকেটারকে ওই জায়গা থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। কিন্তু তিনি যে ঋষভ পন্থ, সেটা তখনও বুঝতে পারেননি সুশীল আর পরমজিৎ। পরে তাঁর পরিচয় জানতে পারেন। তাঁরাই অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেন।
ঘটনার পর কেটে গিয়েছে বেশ কিছুক্ষণ। পন্থের শারীরিক অবস্থাও স্থিতিশীল। চিকিৎসকরা বলছেন, বরাত জোরে বেঁচে গিয়েছেন ঋষভ। তাঁর চিকিৎসা চলছে। তবে এসবের বাইরে গিয়ে নেট দুনিয়া অভিনন্দন জানিয়েছে সুশীল কুমার এবং পরমজিৎকে। এই দুজন না থাকলে হয়তো বড় বিপদ হতেই পারত! ভিভিএস লক্ষ্মণ নিজে টুইট করে সুশীলদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এখনও মানুষের বিপদে এগিয়ে আসে মানুষ, তাঁর প্রাণ বাঁচানোর জন্য সর্বস্ব চেষ্টা করেন। অসময়ের বন্ধু হয়ে এগিয়ে আসেন এখনও অনেকে। এই ঘটনা যেন সেটাই প্রমাণ করে দিল।
ইতিমধ্যেই পানিপথ ডিপো থেকে এই দুজনকে সম্মানিত করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরাখণ্ড প্রশাসনও এই মানবিকতার পুরস্কার দেবে বলে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু সুশীল কুমার আর পরমজিৎ এখনও যেন সেই জায়গাতেই রয়েগিয়েছেন। একজন মানুষকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছেন, মানুষ হিসেবে এটাই তো কর্তব্য। সেই কর্তব্যই পালন করেছেন বলে জানিয়েছেন সুশীল।
















