ইনস্ক্রিপ্টের খবরেই সিলমোহর, উত্তরপাড়া কেন্দ্রেই প্রার্থী মীনাক্ষী
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রের বিধানসভা অংশগুলির মধ্যে উত্তরপাড়া থেকেই সিপিএম তুলনামূলকভাবে বেশি ভোট পেয়েছিল।
ইনস্ক্রিপ্টের খবরেই সিলমোহর। উত্তরপাড়া কেন্দ্র থেকেই সিপিএমের প্রার্থী করা হলো মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়-কে। নির্বাচন কমিশন তরফে ভোট ঘোষণার পরদিন বামফ্রন্টের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলেন বিমান বসু। আগামী তিন-চারদিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানান বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান। প্রথম দফায় ১৯২ আসনে প্রার্থী ঘোষনা করা হলো। সেই তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ চমক— উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে সিপিএম-এর যুবনেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়-কে। জোটের আসন সমঝোতা নিয়ে যখন আলিমুদ্দিনে একের পর এক বৈঠক চলছিল, ঠিক সেই সময়েই রাজনৈতিক মহলে চর্চায় উঠে আসে উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে মীনাক্ষী-র প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা।
উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রটি দীপ্সিতা ধর-এর লড়াই করা শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রের বিধানসভা অংশগুলির মধ্যে উত্তরপাড়া থেকেই সিপিএম তুলনামূলকভাবে বেশি ভোট পেয়েছিল। ফলে এই আসনকে সম্ভাবনাময় হিসেবেই দেখছে বাম নেতৃত্ব। সেই কারণেই পরিচিত ও সংগঠিত মুখ হিসেবে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে এখানে প্রার্থী করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে গেলেও বিচারাধীন লক্ষ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে এই প্রশ্নই এখন নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
পশ্চিম বর্ধমানের কুলটির মেয়ে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বামপন্থী আন্দোলনে সক্রিয়। ২০০৮ সালে ডিওয়াইএফআই-এর সদস্য হওয়ার পর দ্রুত সংগঠনের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। পরে রাজ্য সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সিপিএম-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর বিএড-ও সম্পন্ন করেছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি জানান, সিপিআই(এম)-এর হোলটাইমার কর্মী হিসেবে মাসিক ৫ হাজার টাকা ভাতা পান। এর বাইরে তাঁর অন্য কোনো আয়ের উৎস নেই।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সৃজন ভট্টাচার্যের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সিপিএমের নির্বাচনী দুর্বলতার পেছনে রয়েছে সংগঠনের ক্ষয়, অর্থের অসম প্রভাব এবং রাজনীতির ইস্যু বদলের মতো একাধিক কারণ।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম আসন থেকে সিপিএম-এর প্রার্থী হয়েছিলেন মীনাক্ষী। সেই নির্বাচনে তাঁর অপর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ফলাফলে মাত্র ৬,২৬৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে থাকলেও, দলের তরফে তাঁকে সামনে আনার রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট ছিল— একজন তরুণ, লড়াকু মহিলা মুখকে রাজ্য রাজনীতিতে তুলে ধরার চেষ্টা।
দলীয় অন্দরে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে বরাবরই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গ্রাম্য ভাষায় কথা বলার ভঙ্গি এবং আন্দোলনমুখী রাজনীতির জন্য সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুও প্রকাশ্যে তাঁকে ‘ক্যাপ্টেন’ বলে সম্বোধন করেছিলেন, যা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছিল।
উত্তরপাড়া আসনে গত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী কাঞ্চন মল্লিক ৯৩,৮৭৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তবে বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই এলাকায় কিছু অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। সেই রাজনৈতিক জমিকেই কাজে লাগাতে চাইছে বামেরা। গত কয়েক মাসে উত্তরপাড়ায় যাতায়াতও বেড়েছে মীনাক্ষীর। বাংলা বাঁচাও যাত্রা এবং তার পরবর্তী সময়ে রাজ্য জুড়েই জনসংযোগের কাজ চললেও, এই বিধানসভা কেন্দ্রটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে গেছে বাম শিবিরে। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের অনেক আগেই মাঠে নেমে জমি চষে ফেলেছেন সিপিএমের ক্যাপ্টেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রার্থী ঘোষণা শুধু একটি আসনের লড়াই নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। তৃণমূলের কাছে যেমন মুখ্য নেতৃত্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, তেমনই বাম রাজনীতিতেও নতুন প্রজন্মের একটি মুখ হিসেবে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে তুলে ধরার কৌশল স্পষ্ট। তবে উত্তরপাড়ায় এই পরীক্ষায় বামেদের সাফল্য কতটা মিলবে, তার উত্তর দেবে সময়ই।






