কলকাতার আকাশে ও কীসের আলো? ভর সন্ধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে তুলকালাম
Mysterious light in Kolkata : ভিনগ্রহের প্রাণীদের আগমন? চট করে মনে পড়ে যাচ্ছে 'বঙ্কুবাবুর বন্ধু'র কথা। 'অ্যাং'রা কি তাহলে চলে এল পৃথিবীতে?

১৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবারের সন্ধ্যা। একটু একটু করে ঠাণ্ডা পড়তে শুরু করেছে। অফিস সেরে কয়েকজন বাড়িও ফিরতে শুরু করেছেন। মাঠেও ফুটবলে শেষ শটটা নেওয়া হয়ে গিয়েছে। হঠাৎই সবার চোখ চলে গেল আকাশে। একটা তীব্র আলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সেখানে। আর আলোর রেখার সামনে আছে গোলাকার একটা পিণ্ড। কী বস্তু ওটা? ভিনগ্রহের প্রাণীদের আগমন? চট করে মনে পড়ে যাচ্ছে 'বঙ্কুবাবুর বন্ধু'র কথা। 'অ্যাং'রা কি তাহলে চলে এল পৃথিবীতে? রহস্যের ঘনঘটায় কেটে গেল দক্ষিণবঙ্গের সন্ধ্যা।
ঠিক কী হয়েছে? সন্ধ্যা ছ'টা নাগাদ কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা থেকে আকাশে এই অদ্ভুত আলো দেখা যায়। প্রথম দেখা যায় বাঁকুড়া জেলায়। তারপর ধীরে ধীরে অন্যান্য জায়গা থেকেও দেখা যায়। ঘাটাল, বিষ্ণুপুর, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় দেখা গিয়েছে একই ছবি। এই নিয়েই শুরু হয় তর্ক বিতর্ক। মাত্র কয়েক মিনিট ছিল এই রহস্যময় আলো। তার মধ্যেই অনেকে ছবি তুলে নিয়েছেন। সেই ছবি চলে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়ও। যুক্তি, পাল্টা যুক্তি, বিজ্ঞান, ফেক নিউজ - সবকিছুর কেন্দ্রস্থলে এখন এই আলো। প্রশাসনও সঠিকভাবে বলতে পারছে না এর উৎস।
যদিও এই আলো ঠিক কী, সেটা এখনও সঠিকভাবে জানা যায়নি। সেজন্যই উঠে আসছে বিভিন্ন সম্ভাবনার কথা। কীরকম সম্ভাবনা, জেনে নেওয়া যাক-
১) জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটা উল্কাপাতের ঘটনা হলেও হতে পারে। সাধারণত এই সময়টায় উল্কাবৃষ্টি হয়। এখন জেমিনিড শাওয়ারের সময়ও। কিন্তু প্রধানত সেটির সময় গভীর রাতে। আর এখানে সন্ধ্যায় মাত্র একটি আলোবিন্দুই দেখা গিয়েছে। হয়তো ধূমকেতু বা উল্কাপাতের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে আলোকবিন্দুর পেছনে বিচ্ছুরিত রশ্মির জন্যই এই ভাবনা আরও দৃঢ় হচ্ছে বিজ্ঞানীদের। সাধারণত ধূমকেতু বা উল্কার পেছনেই এটি দেখা যায়।
২) রকেট নিয়েও নতুন তথ্য উঠে আসছে। রকেটের কোনও ভগ্নাংশ মাটিতে পড়ার সময় সেটি বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণের কারণে জ্বলতে থাকে। অনেকটা উল্কার মতোই তাকে দেখায়। এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিশেষ পোস্ট ভাইরালও হয়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে, এই আলো আসলে অগ্নি ফাইভের। এটি কী? অগ্নি ফাইভ আসলে আইসিবিএম বা ইন্টারকস্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল, যেটি পারমাণবিক অস্ত্র নিতে সক্ষম। সেটিরই পরীক্ষামূলক উড়ান হয়েছিল। ওড়িশায় এই কাজটি হওয়ার ফলে ক্ষেপণাস্ত্র পশ্চিমবঙ্গের আকাশেও দেখা গিয়েছে। অবশ্য আদৌ এই খবরটি সত্যি কিনা তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। কেউ কেউ ফেক নিউজের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। ক্ষেপণাস্ত্র হলে এই আলো আরও বেশিক্ষণ ধরে থাকত। অবশ্য আজই অগ্নি ফাইভের পরীক্ষা হয়েছে, সেটা সত্য। তাকে উৎক্ষেপণও করা হয়েছে। কিন্তু এই আলো তারই কিনা, সেটা এখনও জানা যায়নি।
৩) এই মুহূর্তে ভারত আর চিনের মধ্যে রয়েছে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকও ঘটনার দিকে নজর রাখছে। তার মধ্যে এই রহস্যময় আলো ঘিরে আরও একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশের মতে, এটি চিনের কোনও 'ড্রোন'। ভারতীয় সেনার নজরদারি এড়িয়ে ঢুকে পড়েছে ভেতরে। তবে বিশেষজ্ঞরা এই দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছেন। চিন থেকে এতদূর একটি ড্রোন চলে এল, অথচ কেউ দেখতে পেল না, ভারতীয় সেনাবাহিনীর নজরে এল না, এটা হতে পারে না।
উল্কা, ধূমকেতু, ক্ষেপণাস্ত্র না রকেট? প্রশ্ন চতুর্দিকে। উত্তর এখনও অজানা। তবে শীঘ্রই রহস্যের মেঘ কাটবে, এই আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।















