শরীরে একবার ঢুকলেই খেয়ে ফেলবে মস্তিস্ক! ভয়ংকর এই রোগ চিন্তা বাড়াচ্ছে পৃথিবীর
Brain Eating Amoeba : কোনও জোম্বি অ্যাপোকেলিপস বা ভূতের সিনেমার চিত্রনাট্য বলে মনে হতেই পারে। কিন্তু বাস্তবে এমনটাই ঘটেছে।

‘বকবক করে মাথাটা একেবারে খেয়ে নিল।’ বাড়িতে, বন্ধুদের মধ্যে কিংবা রাস্তাঘাটে চলতে চলতে এরকম কথা প্রায়ই শুনতে পায় বাঙালি। প্রচলিত প্রবাদও হয়ে গিয়েছে এটি। কিন্তু সত্যি সত্যি যদি ‘কেউ এসে’ মাথা খেয়ে নেয়? নিজের অজান্তেই কখন মাথায় চড়ে বসবে সে। তারপর একটু একটু করে মাথা খাওয়া শুরু করবে। আপনিও ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগোতে শুরু করবেন। কোনও জোম্বি অ্যাপোকেলিপস বা ভূতের সিনেমার চিত্রনাট্য বলে মনে হতেই পারে। কিন্তু বাস্তবে এমনটাই ঘটেছে এই পৃথিবীতে। ‘ঘিলুখেকো’ এই প্রাণীই এখন মানুষের চিন্তার কারণ।
সম্প্রতি খবরের শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে এই ‘মাথাখেকোর’ ঘটনা। ঘটনাটি দক্ষিণ কোরিয়ার। ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি আচমকাই মারা যান। ইতিমধ্যেই চিনে করোনা ভাইরাসের নতুন স্ট্রেইনের প্রকোপ বেড়েছে। তাহলে কি এই ব্যক্তির মৃত্যুও করোনায়? পরীক্ষা করে আরও অদ্ভুত তথ্য পান চিকিৎসকরা। করোনা নয়, তবে হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোকে দক্ষিণ কোরিয়ার এই ব্যক্তির মৃত্যু হয়নি। কোরিয়া ডিজিজ কন্ট্রোল ও প্রিভেনশন এজেন্সি জানিয়েছে, তাঁর শরীরে বিশেষ প্রজাতির একটি অ্যামিবা পাওয়া গিয়েছে। আর এই অ্যামিবাই তাঁর মৃত্যুর কারণ। থাইল্যান্ড থেকে সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরেছিলেন। হয়তো সেখানেই এই অ্যামিবা তাঁর শরীরে ঢোকে। তাৎপর্যপূর্ণ হল, এই বিশেষ অ্যামিবাই ‘ঘিলুখেকো’ হিসেবে কুখ্যাত।
এই রোগের পরিচয় কী?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Covid and Depression: কোভিড ১৯-এর প্রভাবে শিশু ও তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার ওপর যে প্রভাব পড়েছে তা অনেকদিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে।
পরিচয় জানার আগে, অ্যামিবাটির সম্পর্কে একটু জেনে নেওয়া যাক। জীবনবিজ্ঞান বইয়ের অত্যন্ত পরিচিত এই প্রাণীটির অনেক প্রকারভেদ আছে। সেরকমই একটি প্রকার হল নায়গ্লেরিয়া ফাউলেরি (Naegleria Fowleri)। এদের শরীর বলে আছে কেবলমাত্র একটি কোষ। আণুবীক্ষণিক এই জীবটিই দায়ী এই রোগের জন্য। নায়গ্লেরিয়া অ্যামিবার দ্বারা ছড়ানো এই রোগটির পোশাকি নাম ‘প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনজিয়ো এনসেফেলাইটিস’।
কী করে ছড়ায় এই রোগ?
মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে, কিংবা কোনও প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে এই রোগ ছড়ায় না। নায়গ্লেরিয়া অ্যামিবার বসবাস হচ্ছে জলা জায়গা। মোটামুটি উষ্ণ জলে (২৩ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস), পুকুরে, নদীতে কিংবা অন্য কোনও জলাশয়ে এই বিশেষ অ্যামিবার বাসা। মূলত নাক দিয়ে মানুষের দেহে প্রবেশ করে এটি। ওইরকম কোনও জলাশয়ে যদি কেউ নামেন, তাহলে তাঁর নাকদিয়ে এই অ্যামিবা শরীরে ঢুকে যায়। তারপর সেখান থেকে চলে যায় মস্তিস্কে। সেখানে গিয়ে মস্তিস্কের কোষ, স্নায়ুর কোষের ক্ষতি করতে শুরু করে। অ্যামিবার আক্রমণে সেই কোষ ধ্বংস হয়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আশঙ্কা থাকছে অনেক মানুষের গৃহহীন হওয়ার। সেই সংখ্যার মধ্যে অনেকেই জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিনত হবেন, বাধ্য হবেন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করতে।
উপসর্গ কী?
মেনিনজিয়ো এনসেফেলাইটিস – এই নামটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে উপসর্গ। নায়গ্লেরিয়া অ্যামিবার আক্রমণের পর উপসর্গ অনেকটা এনসেফেলাইটিস আর মেনিনজাইটিসের মতো। মোটামুটি ১২ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। তারপর একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করে রোগী। প্রথমে সাধারণ জ্বর, বমি, মাথা ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা যায়। ফলে অন্য রোগের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন আক্রান্ত। ধীরে ধীরে মস্তিস্কের কোষ যত ধ্বংস হতে থাকে, ততই অকেজো হতে থাকে সব। একসময় নেমে আসে কোমা। তারপর, মৃত্যু।
এর প্রতিকার কী? এই রোগের ইতিহাস আছে?
দক্ষিণ কোরিয়ার ওই ব্যক্তিই একমাত্র আক্রান্ত নন। চলতি বছর অক্টোবর মাসের শেষের দিকে আমেরিকায় লাস ভেগাসের এক ব্যক্তি এই কারণেই মারা যান। তিনিও কোনও জলাশয়ে স্নান করতে নেমেছিলেন বলে জানা গিয়েছিল। পরিসংখ্যান বলে, ১৯৬২ সাল থেকে ২০২১ অবধি আমেরিকায় ১৫৪ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। বেঁচে ফিরেছেন মাত্র চারজন!
তবে চিকিৎসকরা বলছেন, ঘাবড়ানোর কোনও কারণ নেই। এই অ্যামিবা মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। তাই ছোঁয়াচে হওয়ার আশঙ্কা একেবারেই নেই। একেবারে পরিবেশ থেকেই সরাসরি প্রাণীর দেহে ঢোকে নায়গ্লেরিয়া অ্যামিবা। প্রাথমিকভাবে মোটামুটি উষ্ণ জলাশয়গুলি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি স্নান করতেই হয়, তবে নাক বাঁচিয়ে করতে হবে।







