অভিভাবকের মুখাগ্নি সেরে সরাসরি সরকারি কাজে, নরেন্দ্র মোদির যে দায়বদ্ধতার ছবি দেখাল দল
Narendra Modi Mother Heeraben demise : সৎকার সেরে সঙ্গে সঙ্গে ভার্চুয়ালি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন নরেন্দ্র মোদি। থমথমে পরিবেশ হলেও, নিজের কাজটি সারলেন।

২০২২-এর ৩০ ডিসেম্বর গোটা পশ্চিমবঙ্গের নজর ছিল হাওড়া স্টেশনের দিকে। সেখানে তখন সাজো সাজো রব। উপস্থিত হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণো। ভারতের সপ্তম বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের শুভ সূচনা হতে চলেছে খোদ বাংলায়। হাওড়া থেকে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন অবধি চলবে এই বিশেষ ট্রেনটি। ভার্চুয়াল মাধ্যমে সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বন্দে ভারত কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম স্বপ্নের প্রোজেক্ট। নানাভাবে প্রচারও করা হয়েছে। জনগণের মধ্যেও উন্মাদনা প্রবল। কিন্তু ভার্চুয়াল মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদির থমথমে মুখ যেন অন্য কথা বলছে। নিয়মমাফিক এলেন, দেখলেন, সবুজ পতাকা নাড়িয়ে বন্দে ভারতের যাত্রার শুভ সূচনা করলেন। কিন্তু সবটাই সেই থমথমে মুখে।
এই ঘটনার ঠিক কয়েক মুহূর্ত আগের কথা। বন্দে ভারত এক্সপ্রেস উদ্বোধন সহ বেশকিছু কাজের উদ্দেশ্যেই পশ্চিমবঙ্গের উদ্দেশ্যে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। হঠাৎই মাঝরাস্তায় কানে এল দুঃসংবাদ। মাত্র দু’দিন আগেই অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন প্রধানমন্ত্রীর মা হিরাবেন মোদি (Heeraben Modi)। ৩০ ডিসেম্বর সকালেই তাঁর প্রয়াণ হয়। তড়িঘড়ি বঙ্গ সফর বাতিল করে গুজরাতের উদ্দেশ্যে রওনা দেন নরেন্দ্র মোদি। তারপর নিয়মমাফিক দাহকাজ সারেন। কিন্তু দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ভার যেন সবসময় মাথার ওপর। তাই সৎকার কাজ সেরে সঙ্গে সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন নরেন্দ্র মোদি। থমথমে পরিবেশ হলেও, নিজের কাজটি করলেন তিনি।
তবে এটাই প্রথমবার নয়। নরেন্দ্র মোদির মায়ের মৃত্যুর পর বিভিন্ন কাহিনি সামনে এসেছে। কয়েকদিন আগেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ভাই প্রহ্লাদ মোদি। সেই খবরের পাশাপাশি উঠে আসছে মোদি পরিবারের বিভিন্ন ঘটনা। সামনে আসছে দলের প্রতি নরেন্দ্র মোদির দায়বদ্ধতার কাহিনি। সেই প্রসঙ্গেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ ত্রিবেদী তুলে ধরেছেন আরও একটি ঘটনা। নরেন্দ্র মোদির বাবার মৃত্যুর সময়ও এমন দায়বদ্ধতার নজির দেখিয়েছিলেন তিনি, জানিয়েছেন দিলীপ।
কী হয়েছিল সেই সময়? ১৯৮৯ সাল। নরেন্দ্র মোদি তখন গুজরাতের সামান্য একজন বিজেপি কর্মী। কিন্তু একটু একটু করে দলের অন্দরে তাঁর পরিচিতি বাড়ছে। রাজনীতির আঙিনায় নিজেকে তৈরি করছেন। আহমেদাবাদে বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ দলীয় বৈঠক ছিল। সেখানে নরেন্দ্র মোদির থাকার কথা। হঠাৎই খবর এল, তাঁর বাবা দামোদরদাস মূলচাঁদ মোদি মারা গিয়েছেন। দাহকাজ সারতে মোদি নিজের বাড়ি ভাদনগরে চলে গিয়েছেন। বৈঠকে উপস্থিত সবাই ধরেই নিয়েছেন, তিনি আর আসবেন না। সেটাই স্বাভাবিক, কারণ বাবা মারা গিয়েছেন। কী করেই বা আসবেন…
হঠাৎই সবাইকে অবাক করে বিকেলের দিকে দলীয় বৈঠকে উপস্থিত হলেন নরেন্দ্র মোদি। দিলীপ ত্রিবেদী বলেন, তিনি পরে তাঁর কাছে গিয়েছিলেন। বাড়ির এমন পরিস্থিতি, বাবা মারা গিয়েছেন, তবুও কেন আহমেদাবাদের দলীয় বৈঠকে এলেন? জবাবে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, দাহকাজ সেরেই তিনি চলে এসেছেন। আর বাড়ির পাশাপাশি দলের প্রতিও তাঁর দায়িত্ব আছে। তাঁর কাজের প্রতি দায়িত্ব আছে। তাই তিনি বৈঠকে এসেছেন। ঠিক একই ছবি দেখা গেল ২০২২-এর শেষ আবহে।















