নোংরা রক্তই আয়ু কমাচ্ছে দ্রুত! পরিচিত যেসব খাবারই আসলে রক্ত পরিষ্কারের টোটকা...
Blood Purifier: নির্দিষ্ট কিছু খাবার, দূষণ, চাপ এবং অন্যান্য কারণে প্রতিদিন আমাদের শরীরে টক্সিন বা দূষক পদার্থ জমা হয়।

রক্তের দূষণ রোধে ছোটবেলা থেকেই নানা টোটকা বাড়িতে বাড়িতে প্রচলিত। রক্ত পরিষ্কার না হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে স্বাস্থ্যে। পড়াটাই স্বাভাবিক। শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রক্ত, তাই সামগ্রিক সুস্থতার জন্য রক্তকে সুস্থ এবং পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। রক্তের লোহিত কণিকাই (RBCs) মূলত শরীরের সমস্ত অংশে অক্সিজেন পরিবহনে সাহায্য করে। রক্তে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছলে শরীর স্বাভাবিক ছন্দে কাজ করতেও পারে না। তাই রক্তকে সুস্থ রাখার জন্য, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে, রক্তে প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগ করতে এবং স্বাস্থ্যকর রক্ত প্রবাহ বজায় রাখতে কিছু বিষয় মাথায় রাখা দরকার।
হরমোন, চিনি, চর্বি এবং কোশগুলিকে দেহের ইমিউন সিস্টেমে পরিবহন করা থেকে শুরু করে শরীর পরিষ্কার এবং গতিশীল রাখার কাজ সামলায় রক্ত। নির্দিষ্ট কিছু খাবার, দূষণ, চাপ এবং অন্যান্য কারণে প্রতিদিন আমাদের শরীরে টক্সিন বা দূষক পদার্থ জমা হয়। ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ত্বকের হাল ফেরায়। ফুসফুস, কিডনি এবং লিভার রক্তকে স্বাভাবিকভাবে পরিশুদ্ধ করার কাজ করেই। তবে পাশাপাশি কিছু খাবার রয়েছে যা এই কাজটিকে আরও কিছুটা সহজ করে তুলতে পারে।
কেন রক্তকে পরিষ্কার করা গুরুত্বপূর্ণ?
ত্বকের সমস্যা যেমন ব্রণ, দাগ এবং শুষ্ক চামড়ার সমস্যা কমবে, কারণ এই সমস্যার সবগুলিই রক্তে উপস্থিত দূষকের কারণে ঘটে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অনুমান করা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে স্ট্রোকের কারণে মৃত্যুর ৮০ শতাংশই হবে মধ্য ও নিম্ন আয়ের দেশগুলিতে। আগামী দিনে ভারতীয়দের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি আরও বাড়বে।
রক্ত পরিষ্কার থাকলে অ্যালার্জি, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, ইত্যাদির সমস্যাও কমে।
স্বাস্থ্যকর রক্ত সরবরাহ দেহের প্রধান অঙ্গ এবং তাদের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। কিডনি, হার্ট, লিভার, ফুসফুস এবং লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম সবই সুস্থ রক্তের উপর নির্ভরশীল। ফুসফুস এবং শরীরের বাকি অংশ থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং অক্সিজেনের মতো গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন পরিবহনের জন্য রক্ত পরিষ্কার থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
রক্ত পরিশোধন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। শরীরের pH মান, জলের ভারসাম্য এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। স্বাস্থ্যকর রক্তে শ্বেত রক্তকণিকা থাকে যা আঘাত লাগলে রক্তের ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Marburg Virus disease: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে এই রোগীদের চেহারা 'ভূতের মতো' দেখায়, চোখ কোটরে ঢুকে যায়, মুখ অভিব্যক্তিহীন হয়ে পড়ে, চরম আলস্য জাঁকিয়ে বসে।
লাল রক্তকণিকা কীভাবে বাড়ানো যায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেলে রক্তে লোহিত রক্তকণিকার উৎপাদন বাড়ে। আয়রন, ভিটামিন সি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার লোহিত রক্তকণিকার উৎপাদন বাড়াতে এবং সারা শরীরে অক্সিজেন প্রবাহ উন্নত করতে সাহায্য করে।
আয়রন সমৃদ্ধ গমের ঘাসের রস, ব্ল্যাকস্ট্র্যাপ, গুড়, কিডনি বিনস এবং তোফু রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।
পালং শাক এবং ব্রকোলির মতো শাক সবজি প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণে ভরপুর যা রক্তের স্বাস্থ্য উন্নত করে।
কমলালেবুর রস, খেজুর, মধু, কিসমিশ, প্রুন জ্যুস সবই আয়রন এবং প্রোটিনের দুর্দান্ত উত্স, ফলে এগুলি রক্তের স্বাস্থ্য ফেরাতে পারে।
আমলকী, মঞ্জিষ্ঠা এবং গুলঞ্চর মতো ভেষজ রক্ত পরিশোধন করে স্বাস্থ্যকর রক্ত প্রবাহ বজায় রাখে।
আয়রন-সমৃদ্ধ খাবার এবং ভেষজ রক্তের স্বাস্থ্য ফেরায় তো বটেই, শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও বাড়েতে সাহায্য করে।
খাবার ছাড়াও, রক্ত সুস্থ রাখার আরেকটি উপায় হল ব্যায়াম করা। জগিং, সাঁতার কাটা, দ্রুত হাঁটা এবং সাইকেল চালানোর মতো হালকা ব্যায়াম হৃদস্পন্দন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। যার ফলে শুধু কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে তাই না হৃৎপিণ্ডের যেকোনও দূষক পদার্থও দূর হয়ে যায় এবং হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের অঙ্গে পরিষ্কার রক্ত প্রবেশ করে।






