আজব চুরি! চোখের সামনে দিনেদুপুরে উধাও আস্ত বাসস্টপ
Bus shelter goes missing: বাসস্টপটি উধাও হয়ে গিয়েছে বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশ কমিশনারের অফিসের নাকের উপর থেকে। ওই অফিসের ঠিক পিছনেই ছিল এই বাসস্টপ।

জনসমক্ষে ট্রেন ভ্যানিস করে দেখিয়েছিলেন জাদুকর পিসি সরকার। কিন্তু সে তো ছিল ম্যাজিক। তাই বলে জনসমক্ষে আস্ত বাসস্ট্যান্ড চুরি! এমন আশ্চর্য ঘটনাও দুনিয়ায় ঘটে, কোনও রকম ম্যাজিক ছাড়াই।
ছিঁচকে চুরি-বাটপারির ঘটনা তো রাস্তাঘাটে আখছার দেখা যায়। বড় ধরনের ডাকাতির কথা শোনা যায় হামেশাই। তবে এমন আশ্চর্য চুরির কথা বোধহয় সচরাচর শোনা যায় না।
তবে এমনই ঘটেছে এবার বেঙ্গালুরুতে। আস্ত একটা বাসস্ট্যান্ড নাকি চুরি করে পালিয়েছে জনৈক চোর। প্রায় ১০ লক্ষ টাকার বাসস্ট্যান্ড চুরি হয়েছে ব্যস্ত রাস্তা থেকে। বেঙ্গালুরুর কানিংহাম রোডের ওই বাসস্ট্যান্ডটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে বেঙ্গালুরু মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (BMTC)।
গোটা বাসস্টপটাই কিন্তু স্টিলের তৈরি, যা তৈরি করতে খরচ হয়েছিল প্রায় ১০ লক্ষ টাকা মতো। গত অগস্ট মাসেই তৈরি করা হয়েছিল ওই বাস-শেল্টারটি। এক মাস যেতে না যেতেই উধাও হয়ে গেল আস্ত বাসস্টপ।

তবে এমন ঘটনা নাকি নতুন নয় বেঙ্গালুরুতে। গত মার্চ মাসেই এইচআরবিআর লেআউটে তিন দশকের পুরনো একটি বাসস্ট্যান্ড রাতারাতি গায়েব হয়ে যায়। ১৯৯০ সালে উধাও হয়ে যায় কল্যাণ নগরের একটি বাসস্ট্যান্ড, ২০১৫ সালে একই রকম ঘটনা ঘটে হরাইজন স্কুলের কাছে দোপানহল্লি এলাকায়। ২০১৪ সালে উধাও হয় রাজরাজেশ্বরীনগরের বিইএমএল লেআউটের কাছের একটি বাসস্টপে।

সত্যিই কি এ কাজ কোনও ছিঁচকে চোরের, নাকি এর পিছনে রয়েছে বড় ষড়যন্ত্র। স্বাভাবিক ভাবেই উঠেছে প্রশ্ন। মজার কথা, সম্প্রতি যে বাসস্টপটি উধাও হয়ে গিয়েছে, সেটির অবস্থান বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশ কমিশনারের অফিসের পিছনেই। অর্থাৎ পুলিশ কমিশনারের নাকের ডগা থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে আস্ত বাসস্টপ। গত ২৮ সেপ্টেম্বর তারিখে দেখা যায়, বাসস্টপ তো নেই। তবে তার পরেও এক মাস যাবৎ চুপচাপ বসে ছিল সংশ্লীষ্ট কর্তৃপক্ষ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখে ওই বাসস্টপটির নির্মাণসংস্থার অ্যাসোসিয়েট ভাইস প্রেসিডেন্ট বিষয়টি নিয়ে পুলিশে অভিযোগ জানান। এফআইআর দায়ের হয় হাই গ্রাউন্ডস থানায়।

ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় চুরির মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। জোগার করা হয়েছে নিকটবর্তী জায়গার সিসিটিভি ফুটেজও। তবে এখনও পর্যন্ত সন্তোষজনক কিছু মেলেনি। একাধিক জরুরি জায়গার বাস ছাড়ে এই বাসস্টপটি থেকেই। ফলে বাসস্টপ চুরি যাওয়ায় সমস্যা বেড়েছে। যদিও এই পরিস্থিতিতে নয়া বাসস্টপ বানিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কর্ণাটকের পরিবহণমন্ত্রী রামালিঙ্গ রেড্ডি।
যদিও বেঙ্গালুরু মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নতুন করে কোনও বাসস্টপ নির্মাণ করতে পারবে না তারা। তবে ব্রুহত বেঙ্গালুরু মহানগর পালিকে (BBMP)ওই বাসস্টপ বানানোর দায়িত্ব নিয়েছে। কিন্তু তার আগে প্রয়োজন চোরের ধরা পড়া। কীভাবে আস্ত স্টিলের বাসস্টপ হাপিস হয়ে গেল মানুষের চোখের উপর দিয়ে, সেটাই বড় দুশ্চিন্তা প্রশাসনের। এই বাজারে স্টিলের বাসস্টপ চুরি যে যে কোনও চোরের পক্ষেই বেশ লাভজনক হতে পারে, সে কথাও মেনেছেন এক বাক্যে সকলে। তবে কে সেই চোর, শুধু কি সে কারণেই চুরি, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
















