কোন যুক্তিতে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ প্রস্তাব খারিজ হলো?
Gyanesh Kumar controversy: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর বিরুদ্ধে আনা অপসারণ প্রস্তাব কেন খারিজ করলেন উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন? অভিযোগগুলি কি সাংবিধানিক ‘মিসবিহেভিয়র’-এর মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল, নাকি রাজনৈতিক বিতর্কই এই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা নিল?
বিরোধীদের আনা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ও উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আনা সাতটি দুর্ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণ করতে যথেষ্ট নয়, বলছেন উপরাষ্ট্রপতি। ১৭ পৃষ্ঠার বিস্তারিত আদেশে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিযোগগুলি রাজনৈতিক বিতর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাংবিধানিক অপসারণের ‘মানদণ্ড’ অনুযায়ী যথাযথ নয়। উল্লেখ্য এই আদেশ সামনে আনার আগে রাজ্যসভায় এই বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
গত ১২ মার্চ ইন্ডিয়া জোটের ৬৩ জন রাজ্যসভা সাংসদ (তৃণমূলের নেতৃত্বে) এবং লোকসভায় ১৩০ জন মিলিয়ে মোট ১৯৩ জন সাংসদ স্বাক্ষরিত নোটিস জমা দিয়েছিলেন। এটি ছিল স্বাধীন ভারতে কোনও বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রথম অপসারণের প্রয়াস। ৬ এপ্রিল রাজ্যসভা ও লোকসভা উভয় কক্ষ থেকেই প্রস্তাব খারিজ হয়। প্রথমে কোনও কারণ জানানো হয়নি। পরে ১৭ পৃষ্ঠার আদেশে বিস্তারিত ব্যাখ্যা উঠে এসেছে। এই আদেশের কপি খতিয়ে দেখেছি আমরা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Amit Shah West Bengal visit: বঙ্গ বিজেপির উপর কি সত্যিই আস্থা হারাচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব? কেন বাংলার ভোটে সরাসরি ময়দানে নামছেন অমিত শাহ? টার্গেট কমানো, বাড়তি কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ—এসবই কি কৌশল, নাকি অবিশ্বাসের ইঙ্গিত?
রাধাকৃষ্ণন লিখেছেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্বভাবতই রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি করে। তাই কমিশনের স্বাধীনতা রক্ষায় অপসারণের প্রস্তাব ‘অত্যন্ত সতর্কতা ও নিরপেক্ষতার’ সঙ্গে পরীক্ষা করতে হয়। শুধু ‘রাজনৈতিক বিবেচনা’ বা ‘অস্পষ্ট আশঙ্কা’-র ভিত্তিতে এমন প্রস্তাব গ্রহণ করা যায় না। তা কমিশনের সাংবিধানিক স্বাধীনতাকেই বিপন্ন করবে।
বিরোধাীদের অভিযোগগুলির মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ছিল। ২০২৩ সালের আইনটি এখনও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। রাহুল গান্ধী নিয়োগের সুপারিশে আপত্তি জানিয়েছিলেন। জ্ঞানেশ কুমার আগে সরকারি উচ্চপদে ছিলেন বলে ‘কার্যনির্বাহী বিভাগের সঙ্গে গভীর যোগ’-এর অভিযোগ উঠেছিল। আদেশে বলা হয়েছে, এসব অভিযোগ সত্যি ধরলেও তা জ্ঞানেশ কুমারের ব্যক্তিগত ‘দুর্ব্যবহার’ নয়। সরকারি কাজের অভিজ্ঞতা থাকা বা যোগাযোগ কোনও পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ নয়। ১৯৫০ সাল থেকে অধিকাংশ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারই সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
West Bengal election 2026: বাংলার ভোটে কি এখন খাবারই সবচেয়ে বড় ইস্যু? অন্য রাজ্যের অভিজ্ঞতা কি বাংলার ভোটারদের ভাবাচ্ছে? ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ পরিচয় কি এবার ভোটের ফল নির্ধারণ করবে?
আরেকটি অভিযোগ ছিল গত আগস্টে মহাদেবপুরা (কর্ণাটক) নির্বাচনী কেলেঙ্কারির অভিযোগ নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের সাংবাদিক সম্মেলন। বিরোধী নেতাদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার ‘নির্দেশ’ দেওয়ায় তাঁকে ‘সংসদীয় বিরোধিতাকে ভয় দেখানো’র অভিযোগ করা হয়। উপরাষ্ট্রপতির আদেশে বলা হয়, মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু তা অপসারণযোগ্য ‘মিসবিহেভিয়র’ নয়।
উপরাষ্ট্রপতির বিবেচনায় বিএলও মৃত্যু, ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর), মেশিন রিডেবল ভোটার লিস্ট না দেওয়া—এসব অভিযোগও খারিজ হয়েছে। উপরাষ্ট্রপতি জানাচ্ছেন কয়েকটি বিষয় সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। কমিশন যেখানে আদালতের নির্দেশ মেনেছে, সেখানে তাকে ‘দুর্ব্যবহারের’-এর দায়ে ফেলা যায় না। আদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, অপসারণের ক্ষমতা সংসদের সাধারণ ক্ষমতা নয়। তা ‘বিরল ও অনিবার্য’ ক্ষেত্রেই ব্যবহার করতে হয়। রাজনৈতিক বিতর্ককে অপসারণের প্রক্রিয়ায় টেনে আনা চলবে না।
বিরোধীরা এখনও প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে এই আদেশ স্পষ্ট করে দিয়েছে—জ্ঞানেশ কুমার বিতর্ক এখনই থামছে না।






