কোন যুক্তিতে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ প্রস্তাব খারিজ হলো?

Gyanesh Kumar controversy: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর বিরুদ্ধে আনা অপসারণ প্রস্তাব কেন খারিজ করলেন উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন? অভিযোগগুলি কি সাংবিধানিক ‘মিসবিহেভিয়র’-এর মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল, নাকি রাজনৈতিক বিতর্কই এই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা নিল?

inscript
৩ মিনিট
কোন যুক্তিতে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ প্রস্তাব খারিজ হলো?

বিরোধীদের আনা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ও উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আনা সাতটি দুর্ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণ করতে যথেষ্ট নয়, বলছেন উপরাষ্ট্রপতি। ১৭ পৃষ্ঠার বিস্তারিত আদেশে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিযোগগুলি রাজনৈতিক বিতর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাংবিধানিক অপসারণের ‘মানদণ্ড’ অনুযায়ী যথাযথ নয়। উল্লেখ্য এই আদেশ সামনে আনার আগে রাজ্যসভায় এই বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

গত ১২ মার্চ ইন্ডিয়া জোটের ৬৩ জন রাজ্যসভা সাংসদ (তৃণমূলের নেতৃত্বে) এবং লোকসভায় ১৩০ জন মিলিয়ে মোট ১৯৩ জন সাংসদ স্বাক্ষরিত নোটিস জমা দিয়েছিলেন। এটি ছিল স্বাধীন ভারতে কোনও বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রথম অপসারণের প্রয়াস। ৬ এপ্রিল রাজ্যসভা ও লোকসভা উভয় কক্ষ থেকেই প্রস্তাব খারিজ হয়। প্রথমে কোনও কারণ জানানো হয়নি। পরে ১৭ পৃষ্ঠার আদেশে বিস্তারিত ব্যাখ্যা উঠে এসেছে। এই আদেশের কপি খতিয়ে দেখেছি আমরা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১৫ দিন বাংলায় অমিত শাহ: রাজ্য বিজেপিতে ভরসা নেই?

Amit Shah West Bengal visit: বঙ্গ বিজেপির উপর কি সত্যিই আস্থা হারাচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব? কেন বাংলার ভোটে সরাসরি ময়দানে নামছেন অমিত শাহ? টার্গেট কমানো, বাড়তি কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ—এসবই কি কৌশল, নাকি অবিশ্বাসের ইঙ্গিত? ‌

রাধাকৃষ্ণন লিখেছেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্বভাবতই রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি করে। তাই কমিশনের স্বাধীনতা রক্ষায় অপসারণের প্রস্তাব ‘অত্যন্ত সতর্কতা ও নিরপেক্ষতার’ সঙ্গে পরীক্ষা করতে হয়। শুধু ‘রাজনৈতিক বিবেচনা’ বা ‘অস্পষ্ট আশঙ্কা’-র ভিত্তিতে এমন প্রস্তাব গ্রহণ করা যায় না। তা কমিশনের সাংবিধানিক স্বাধীনতাকেই বিপন্ন করবে।

বিরোধাীদের অভিযোগগুলির মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ছিল। ২০২৩ সালের আইনটি এখনও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। রাহুল গান্ধী নিয়োগের সুপারিশে আপত্তি জানিয়েছিলেন। জ্ঞানেশ কুমার আগে সরকারি উচ্চপদে ছিলেন বলে ‘কার্যনির্বাহী বিভাগের সঙ্গে গভীর যোগ’-এর অভিযোগ উঠেছিল। আদেশে বলা হয়েছে, এসব অভিযোগ সত্যি ধরলেও তা জ্ঞানেশ কুমারের ব্যক্তিগত ‘দুর্ব্যবহার’ নয়। সরকারি কাজের অভিজ্ঞতা থাকা বা যোগাযোগ কোনও পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ নয়। ১৯৫০ সাল থেকে অধিকাংশ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারই সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মাছেভাতে বাঙালির পাতে কোপ পড়বে? বিজেপি শাসিত রাজ্য কী সংকেত দিচ্ছে?

West Bengal election 2026: বাংলার ভোটে কি এখন খাবারই সবচেয়ে বড় ইস্যু? অন্য রাজ্যের অভিজ্ঞতা কি বাংলার ভোটারদের ভাবাচ্ছে? ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ পরিচয় কি এবার ভোটের ফল নির্ধারণ করবে?

আরেকটি অভিযোগ ছিল গত আগস্টে মহাদেবপুরা (কর্ণাটক) নির্বাচনী কেলেঙ্কারির অভিযোগ নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের সাংবাদিক সম্মেলন। বিরোধী নেতাদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার ‘নির্দেশ’ দেওয়ায় তাঁকে ‘সংসদীয় বিরোধিতাকে ভয় দেখানো’র অভিযোগ করা হয়। উপরাষ্ট্রপতির আদেশে বলা হয়, মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু তা অপসারণযোগ্য ‘মিসবিহেভিয়র’ নয়।

উপরাষ্ট্রপতির বিবেচনায় বিএলও মৃত্যু, ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর), মেশিন রিডেবল ভোটার লিস্ট না দেওয়া—এসব অভিযোগও খারিজ হয়েছে। উপরাষ্ট্রপতি জানাচ্ছেন কয়েকটি বিষয় সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। কমিশন যেখানে আদালতের নির্দেশ মেনেছে, সেখানে তাকে ‘দুর্ব্যবহারের’-এর দায়ে ফেলা যায় না। আদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, অপসারণের ক্ষমতা সংসদের সাধারণ ক্ষমতা নয়। তা ‘বিরল ও অনিবার্য’ ক্ষেত্রেই ব্যবহার করতে হয়। রাজনৈতিক বিতর্ককে অপসারণের প্রক্রিয়ায় টেনে আনা চলবে না।

বিরোধীরা এখনও প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে এই আদেশ স্পষ্ট করে দিয়েছে—জ্ঞানেশ কুমার বিতর্ক এখনই থামছে না।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।