মাত্র দু'মাসেই এক লাখেরও বেশি ছাঁটাই! খাদের ধারে দাঁড়িয়ে রয়েছেন কোন প্রযুক্তি কর্মীরা, জানেন?

IT Massive Layoff 2023 : কী করে কাজ করবেন তাঁরা? সবসময় ভয় ঘিরে রেখেছে তাঁদের, এই যদি চাকরি যায়!

inscript
২ মিনিট
মাত্র দু'মাসেই এক লাখেরও বেশি ছাঁটাই! খাদের ধারে দাঁড়িয়ে রয়েছেন কোন প্রযুক্তি কর্মীরা, জানেন?

কখনও ১২,০০০, কখনও আবার ৮,০০০। বিগত কয়েক মাস ধরে এমনই নম্বরগুলি আতঙ্কে ফেলেছে গোটা বিশ্বের কর্মীদের। প্রায় প্রতিদিনই চলছে কর্মী ছাঁটাই। তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টর ও কর্পোরেট জগতের একের পর এক প্রতিষ্ঠান নিজেদের খরচ কমানোর পথে হাঁটছে। তার জেরেই এমন কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা। গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজনের মতো বড় সংস্থা থেকে শুরু করে সেভাবে নাম না জানা ছোট প্রতিষ্ঠান – কর্মীদের কপালে হাত পড়েছে। কী করে কাজ করবেন তাঁরা? সবসময় ভয় ঘিরে রেখেছে তাঁদের, এই যদি চাকরি যায়!

এই মুহূর্তে আমেরিকা তো বটেই, গোটা বিশ্বের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। আমেরিকার অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব পড়েছে কর্পোরেট সেক্টরেও। নিজেদের খরচ বাঁচাতে তাই উঠেপড়ে লেগেছে প্রতিটি সংস্থা। মোটামুটি ২০২২-র শেষ লগ্ন থেকেই শুরু হয় এই কর্মী ছাঁটাই। ২০২৩-র জানুয়ারি পেরিয়ে ফেব্রুয়ারি চলছে। এই দু’মাসেই পরিস্থিতি কতটা ভয়ানক, সেটাই উঠে এসেছে সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায়।

Layoffs.fyi নামের একটি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি একটি সমীক্ষা প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা দেখিয়েছে, বিশ্বজুড়ে ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই কতটা ভয়ংকর জায়গায় গিয়েছে। ২০২৩-র এই দু’মাসেই ৩৩৫ টি টেক কোম্পানি কর্মী ছাঁটাই করেছে। আর এই দুই মাসেই এক লাখেরও বেশি মানুষ কাজ হারিয়েছেন! সমীক্ষা বলছে, মোট এক লক্ষ ৭৪৬ জন টেক কর্মী নিজেদের কাজ হারিয়েছেন। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনকে ছাঁটাই করেছে গুগল। ১২,০০০ জনকে ছাঁটাই করেছে তারা। পাশাপাশি অ্যামাজন, আইবিএম, মাইক্রোসফট, ফেসবুক, টুইটার, জুম, ইয়াহু-র মতো বড় সংস্থাগুলিও কর্মী ছাঁটাই করেছে। এই কর্মী ছাঁটাইয়ের ঢেউ এখনই থামার নয়। এরপরও অনেক কোম্পানি খরচ বাঁচানোর জন্য কর্মীদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করবে।

এমন পরিস্থিতিতে মাথায় হাত পড়েছে চাকরির বাজারে। কেবল আমেরিকা নয়, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি জগতও ঘোর চিন্তায়। কী হবে ভবিষ্যৎ? আর কতদিন টিকে থাকবে চাকরিটা? সংসার চলবে কেমন করে? এসবের ফলে শরীর, মনও খাদের ধারে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে সমীক্ষা ইতিমধ্যেই বেশকিছু দিকে নির্দেশ দিয়েছে। ঠিক কাদের চাকরি জাচ্ছীই বাজারে? কারা খাদের ধারে দাঁড়িয়ে আছেন? তারও একটা আভাস দিয়েছে এই সমীক্ষা।

বলা হচ্ছে, ১৯,০০০-এরও বেশি কর্মী ছাঁটাই হয়েছে স্টার্টআপ সংস্থাগুলিতে। যে স্টার্টআপগুলির সুনাম রয়েছে, অনেকের মুখে মুখে ঘোরে সেই প্রতিষ্ঠানের নাম, তারাও কর্মীদের একাংশকে ছাঁটাই করেছে। যেমন, ওয়ো, জোম্যাটো, বাইজু-র মতো সংস্থা। কেবল প্রযুক্তিবিদ, ইঞ্জিনিয়াররাই নন; সেলস, কনটেন্ট টিম, অ্যাডমিন, এইচআরদের চাকরিও এখন খাদের ধারে এসে দাঁড়িয়েছে। সেইসঙ্গে ফিনটেক, এডুটেক, অ্যাগ্রিটেক, লজিটেক ইত্যাদি সেক্টরগুলি বেশি সমস্যায় পড়েছে। ভবিষ্যতে এখান থেকেই বেশি কর্মী ছাঁটাইয়ের সম্ভাবনা। সেইসঙ্গে রয়েছে কর্মী নিয়োগের ব্যাপারও। টিসিএস, ইনফোসিস, উইপ্রো-র মতো ভারতীয় টেক জায়ান্টরা যদিও কর্মী নিয়োগের ব্যাপারটি বন্ধ রাখেননি। কিন্তু অভিজ্ঞ, উচ্চপদস্থ কর্মীদের মাইনেও তো অনেক। কীভাবে সামলাবে সেই পরিস্থিতি?

তবে কিছু চাকরি এখনও এই কর্মী ছাঁটাইয়ের ঝড় থেকে দূরে রয়েছে। যেমন ধরা যাক ফাইনান্স। টেক কোম্পানি হোক বা অন্যত্র, যারা এই সেক্টরে কাজ করেন, তাঁদের এখনও অবধি সেভাবে কোনও প্রভাব পড়েনি। তবে এই মুহূর্তে যা অবস্থা, প্রায় প্রত্যেকেই দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন। কখন কার চাকরি চলে যাবে, কেউ জানেন না।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।