প্রেমিকাকে ইম্প্রেস থেকে শাশুড়ি সামলানোর টোটকা! নববর্ষে যা উপহার দিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী
Pakistan Prime Minister Anwar Ul Haq Kakar : আনোয়ার-উল-হক কাকারকে পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত করা হয় সেই সংকটে থাকা দেশকে সামলাতে।

আপাতত পাকিস্তান সামলাচ্ছেন তিনি। ৮ ফেব্রুয়ারি সে দেশে ভোট। তার আগে অবধি দেশের প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্বভার তারই কাঁধে। সেই প্রধানমন্ত্রি দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজের সমস্যা, সন্ত্রাসবাদ এসব কিছু প্রসঙ্গে কথা না বলে, শেষমেশ উত্তর দিয়েছেন বিচিত্র কিছু প্রশ্নের। কেমন বিচিত্র? ধরা যাক, কেউ কাউকে খুব ইম্প্রেস করতে চাইছে, অথচ পকেট গড়ের মাঠ! কী করবে সে? বা ধরা যাক আপনার শাশুড়ি একেবারেই তারকাটা মহিলা, সামলাবেন কীভাবে? প্রধানমন্ত্রী না 'লাভগুরু' সন্দেহ হয় বৈকি!
পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার-উল-হক কাকার তাঁর দেশের জনগণকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেছেন। সেই ভিডিও বার্তায় দেশের অবস্থা, দেশের রাজনীতি প্রসঙ্গের বদলে তিনি এক্কেবারে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তা শুনে অবাক দেশের অনেক নাগরিকরাই!
কাকারকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, একজন ৫২ বছর বয়সী ব্যক্তির কি তার পছন্দের একজন মহিলাকে বিয়ে করা উচিত? এর উত্তরে পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী বলেন, "অবশ্যই, বয়স ৮২ হলেও, সেইটাই করা উচিত।" আরেকজন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, ঘরে পাগল শাশুড়ি থাকলে কী করা উচিত? জবাবে, প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, মহিলাকে সম্ভবত 'ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কোর্স' করতে হবে।
কেউ কাউকে খুব ইম্প্রেস করতে চাইছে অথচ টাকা পয়সা তেমন নেই। কী করা উচিত? এই প্রশ্নের জবাবে কাকার বলেছেন, তিনি নিজের জীবনে কখনও কাউকে 'ইম্প্রেস' করার চেষ্টা করেননি, সবসময়ই অন্য কেউ তাঁকে ইম্প্রেস করে গেছেন।
The Prime Minister sounds more like a love guru than a political leader; post-retirement, he should open a marriage bureau on Prince Road, Quetta.
— Kiyya Baloch (@KiyyaBaloch)
কেউ হয়তো বিদেশে চাকরি পেয়েছেন, সেই চাকরি করতে গেলে ঘরের মাটিতে তাঁর প্রেমিক বা প্রেমিকাকে ছেড়ে যেতে হবে। এমন অবস্থায় কী করণীয়? প্রধানমন্ত্রী 'লাভগুরু' কাকার বলেছেন, "আমার ধারণা ভালোবাসা 'বাই চান্স' হয়ে যায়, কিন্তু চাকরি মেলে যোগ্যতা অনুযায়ীই। যোগ্যতা অনুযায়ীই চাকরি পাওয়ার সুযোগ আসে। তাই সুযোগ মিস করবেন না।"
পাকিস্তান ধুঁকছিল নগদ-সংকটে। আনোয়ার-উল-হক কাকারকে পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত করা হয় সেই সংকটে থাকা দেশকে সামলাতে। কিন্তু হঠাৎ এমন অদ্ভুত সব প্রশ্নের উত্তর প্রধানমন্ত্রী দিলেনই বা কেন? আনোয়ার উল হক কাকার পাকিস্তানের একটি গণমাধ্যম 'দ্য কারেন্ট'-এর শেয়ার করা একটি ভিডিওতে এই প্রশ্নোত্তর পর্ব খেলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই 'লাভগুরু' সুলভ আচরণ দেখে নাগরিকদের অনেকেই মনে করছেন, অবসর গ্রহণের পর কোয়েটার প্রিন্স রোডে একটি ম্যারেজ ব্যুরো খোলা উচিত প্রধানমন্ত্রীর। অনেকেই আবার রাজনৈতিক নেতার এমন মজার দিক দেখে আহ্লাদই পেয়েছেন।
একদিকে তিনি নতুন বছরে এইসব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন, ঠিক একই সঙ্গে ইজরায়েল এবং ফিলিস্তিনি জঙ্গি গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে চলা যুদ্ধে গাজার জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করার জন্য দেশে নববর্ষ উদযাপনের উপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছিলেন তিনি।
কাকার একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণে বলেছিলেন, "ফিলিস্তিনের গুরুতর উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এবং আমাদের ফিলিস্তিনি ভাই ও বোনদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করার জন্য, সরকার কর্তৃক নববর্ষের জন্য যেকোনও ধরনের অনুষ্ঠানের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।" তিনি আরও বলেন, তাঁর দেশ ফিলিস্তিনে দু'টি সাহায্যের প্যাকেজ পাঠিয়েছে এবং তৃতীয়টিও প্রস্তুত। ফিলিস্তিনিদের সময়মতো সাহায্য পাঠানো এবং গাজার আহতদের সরিয়ে আনার জন্য পাকিস্তান জর্ডান এবং মিশরের সঙ্গে আলোচনা করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।















