বাড়িতে বাচ্চাদের সামনে কী কী করবেন না?

Amit Pratihar
৩ মিনিট
বাড়িতে বাচ্চাদের সামনে কী কী করবেন না?

আপনার বাড়িতে কি ছোট বাচ্চা আছে? আপনি কি সেই বাচ্চার মা বা বাবা বা সেই পরিবারেরই অংশ? তবে জেনে নিন বাচ্চাদের সামনে কী কী করা একেবারেই অনুচিত। প্রত্যেক মা-বাবাই চায় তাদের সন্তান যেন মানুষের মতো মানুষ হয়। কোনো খারাপ গুণ যেন তার মধ্যে না থাকে। আর এটা তখনই সম্ভব যখন বাবা-মা-পরিবার-আত্মীয় সেই শিশুটিকে সঠিক পথ দেখাবে। যদি শিশুটি তার কাছের মানুষগুলোকেই খারাপ শব্দ ব্যবহার করতে শোনে বা অন্যের সঙ্গে ভালো ব্যবহার না করতে দেখে, তবে এর খারাপ প্রভাব সেই বাচ্চার উপরও পড়তে পারে। আপনি যা করবেন আপনার বাড়ির শিশুটিও তাই শিখবে। তাই বাড়িতে বাচ্চা থাকলে তার প্রত্যেক নিকট আত্মীয় মা-বাবা-কাকা-জ্যেঠু-দাদু-ঠাকুমা সব্বার উচিত নিজেদের আচার আচরণ নম্র করার, পরিমার্জিত করার। বাচ্চার সামনে কী করা উচিত এবং কী করা অনুচিত তা বুঝতে শেখার। আসুন জেনে নেওয়া যাক বাচ্চাদের সামনে কী কী করা অনুচিত।

১. নিজেদের মধ্যে ঝগড়া অশান্তি করবেন না। এতে বাচ্চাদের ওপর খুব খারাপ প্রভাব পড়ে। বাচ্চারা ভিতরে ভিতরে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বিষাদে ডুবে যায় তাদের ছেলেবেলা।

২. ভয় দেখাবেন না বাচ্চাদের। অনেক মা বাবাই বাচ্চাদের খাওয়াতে, ঘুম পাড়াতে বা অন্য যে কোনও জিনিস করাতে ভয় দেখান। হয়তো ভুতের, হয়তো জুজুর, বা হয়তো কাল্পনিক কোনও চরিত্রের। এতে বাচ্চারা ভয় পেয়ে খেয়ে নেয় বা ঘুমিয়ে পড়ে ঠিকই, কিন্তু এর খুব খারাপ প্রভাব পড়ে তাদের অন্তরে। ভীতু প্রকৃতির হয়ে ওঠে তারা জীবনের শুরু থেকেই, যা ভবিষ্যতে জীবনের পথ চলায় তাদের অনেক বিপদে ফেলে।

৩. নেশা করবেন না। বাচ্চাদের সামনে ধূমপান, মদ্যপান বা অন্য কোনও নেশা করা একেবারেই কাম্য নয়। বাচ্চারা যা দেখে তাই শেখে। হয়তো আপনার অনুপস্থিতিতে সেও কোনওদিন না বুঝেই নেশার সামগ্রীর দ্বারা আসক্ত হয়ে পড়বে।

৪. মারধোর করবেন না ছোট বাচ্চাদের। ভালোবেসে বোঝান। না বুঝলে আবার চেষ্টা করুন, অন্য কোনও পন্থা নিন, কিন্তু গায়ে হাত তুলবেন না। এতে বাচ্চারা আপনাদের থেকে মানসিক ভাবে দূরে চলে যায়। ভয় পেতে শুরু করে আপনাকে। লোকাতে শুরু করে বিভিন্ন জিনিস। যা আপনার এবং তার জন্যেও ক্ষতিকর।

৫. কখনও বাচ্চাদের সামনে কারোর সাথে খারাপ ব্যবহার করবেন না। অভদ্র আচরণ, খারাপ শব্দের প্রয়োগ ইত্যাদি বাচ্চাদের সামনে করলে তারাও শিখে যায়। আপনি যদি প্রতিবেশী, বন্ধু বা পরিবারের কোনো সদস্যকে অপমান করেন, তাহলে তা আপনার বাচ্চার ওপর খারাপ প্রভাব ফেলবে। আপনার সঙ্গে কারোর মতপার্থক্য থাকতেই পারে বা আপনি কাউকে অপছন্দও করতে পারেন, কিন্তু বাচ্চার সামনে তাদের প্রতি আপনার ক্ষোভ ব্যক্ত করবেন না। আপনি এরকম করলে আপনার সন্তানও সেই ব্যক্তিকে কোনও সময় অপমান করতে পারে।

৬. ফোন, টিভি, ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস এর অত্যাধিক ব্যবহার করবেন না। এতে বাচ্চারা সে'সমস্ত জিনিসের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। যা তার মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক।

৭. কাউকে আর্থিক ক্ষমতা নিয়ে খোঁটা দেবেন না বাচ্চাদের সামনে। এতে বাচ্চারা টাকাকে সর্বেসর্বা ভাবতে শিখবে। কার টাকা বেশি, কার টাকা কম এই বুঝে মানুষের সাথে মিশতে শিখবে।

৮. বাচ্চাদের বাড়িতে বন্ধ করে রাখবেন না। বাইরে যেতে দিন, মাঠে খেলতে দিন, বন্ধু বানাতে দিন, মিশতে দিন, আড্ডা দিতে দিন। এতে তার সামাজিক অবস্থানের বিকাশ ঘটে। ভবিষ্যতের কঠিন রাস্তায় তার চলার পথ মসৃণ হতে থাকে।

৯. কারোর গায়ের রং, শরীরের আকার নিয়ে খারাপ মন্তব্য করবেন না। কালো, মোটা, রোগা শব্দগুলোর খারাপ ব্যবহার ওদের না শেখানোই ভালো। পারলে আপনিও ভুলে যান।

১০. খাবার নষ্ট করবেন না। সবসময় বাচ্চাদের শেখাবেন খাবারকে সম্মান জানাতে। জীবনে খাদ্যের কী গুরুত্ব তা শিশুদের একদম ছোট্ট থেকে বোঝান।

১১. সমাজের নিচু শ্রেণীর মানুষদেরকে সম্মান দিন। রিকশাওয়ালা কে তুইতকারী, বাড়ির কাজের লোককে অসম্মান করা ইত্যাদি বাচ্চাদের সামনে করবেন না কোনও অবস্থাতেই। সব্বাইকে সমান সম্মান দিন, এতে বাচ্চারাও ভবিষ্যতে একজন আদর্শ মানুষ হয়ে উঠবে।

১২. নিন্দে করবেন না কারোর পিছনে। এতে বাচ্চারাও একই জিনিস শিখবে।

মোদ্দা কথা বাচ্চাদের সামনে সেই সমস্ত কাজ করা থেকে বিরত থাকুন যা তাদের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। বাচ্চাদের বোধশক্তি থাকে না। তারা যা দেখে, তাই শেখে। তাই সর্বদা চেষ্টা করবেন তাদেরকে ভালো ভালো জিনিস দেখাতে, শেখাতে। এতে তারা ভবিষ্যতে একজন দারুণ সুন্দর মনের মানুষ হয়ে উঠবে এবং আপনাকেই গর্বিত করে তুলবে।

লিখেছেন
Amit Pratihar
Amit Pratihar
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।