খামেনির শূন্যতা পূরণ করবে কে?

Ali Larijani: আলি লারিজানি বহুকাল ধরে ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ। তিনি কেবল রাজনৈতিক নেতা নয়, দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

inscript
৪ মিনিট
খামেনির শূন্যতা পূরণ করবে কে?

ইরানের রাজনীতি এখন খুব অস্থির। দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনির মৃত্যুতে বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ আলি লারিজানি ধীরে ধীরে ক্ষমতার কেন্দ্রীয় ভূমিকায় উঠে আসছেন।

খামেনি ১৯৮০-এর দশক থেকে ইরানের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি। গত কয়েক দশক ধরে তিনিই দেশটির রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তাঁর মৃত্যু পরবর্তীতে পুরো রাজনৈতিক ভারসাম্য নড়ে গিয়েছে। দেখা যাক, সেই শূন্যতা পূরণে কোন নেতার নাম উঠে আসছে, কীভাবে ইরানের রাজনৈতিক ক্ষেত্র সাজানো হচ্ছে ।

আলি লারিজানি বহুকাল ধরে ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ। তিনি কেবল রাজনৈতিক নেতা নয়, দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (SNSC) বর্তমান সচিব হিসেবে তাঁর দায়িত্ব ছিল শুধু দেশের নিরাপত্তা বিষয়ক নীতিমালা নিয়ে কাজ করা নয়, বিভিন্ন ভেতরের-বাইরের সম্পর্ক ও বিদেশ নীতি গঠনে অংশ নেওয়া।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সিআইএ-র তথ্যেই কি চিহ্নিত হয়েছিল খামেনির অবস্থান?

Assassination of Ali Khamenei: জানা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল। বিশেষ করে খামেনির নিরাপত্তা বলয়, যাতায়াতের ধরন এবং বৈঠকের সময়সূচি নিয়ে বেশ কিছু নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়।

লারিজানি মূলত বাস্তবসম্মত নেতা হিসেবে পরিচিত, অন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কঠোরতা ও সমঝোতার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা লক্ষ্য করা যায় তাঁর। তিনি চেয়েছেন পশ্চিমা শক্তিগুলির সঙ্গে সম্পর্কের নির্দিষ্ট জায়গায় সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করতে, বিশেষত আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনায়।

২০০৫-২০০৭ সালেও তিনি ইরানের পারমাণবিক আলোচনার মুখ ছিলেন এবং পরে ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইরানের সংসদের স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা তাঁকে একটি অভিজ্ঞ, বহুস্তরীয় ক্ষমতার ব্যক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

খামেনির মৃত্যুর পর ইরান দ্রুত একটি অস্থায়ী নেতৃত্ব কাউন্সিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে এক সময়সীমায় দেশ পরিচালিত হবে। অনেকেই মনে করেন লারিজানিই আছেন সেই কেন্দ্রীয় জায়গায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ট্রাম্প না নেতানিয়াহু! ইরানে হামলায় কার লাভ বেশি?

US Israel Iran war: ইজরায়েল বহুদিন ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে উৎসাহ দিয়ে আসছিল। এবার সেই লক্ষ্য অনেকটাই পূরণ হয়েছে।

লারিজানি শুধু সংসদীয় বা নিরাপত্তা স্তরে নয়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কেও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন। তিনি ওমান ও রাশিয়ার মতো দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন, এবং পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করেছেন। এর সবই দেখায় তিনি শুধু অভ্যন্তরীণ নীতির নেতা নন, আন্তর্জাতিক স্তরেও ইরানের অবস্থান বুঝতে ও পরিচালনা করতে সক্ষম।

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে জটিলতা চলেছে। ইরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলি সন্দেহ করে এটিকে সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে কি না।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে লারিজানি এমন এক নেতা, যিনি খুব একটা নরম স্বভাবের নন। ইরানে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আয়োজিত বিপুল বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কঠোর সমালোচনা এসেছে। ওয়াশিংটন তাঁর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যদিও ইরান কর্তৃপক্ষ এটিকে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছে।

অভিযোগ, লারিজানি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়ে তাঁদের আটক করে রেখেছেন। কিছু জনকে কঠোর ভাবে চিহ্নিত করেছেন। এতে বোঝা যায়, তিনি যথেষ্ট কঠোর নেতাও। তাঁর নেতৃত্বে ইরানে শুধু পরিবর্তন নয়, কঠোর নিয়ন্ত্রণের শাসনও দেখা যেতে পারে।

ইরানের রাজনৈতিক শূন্যতা শুধু দেশীয় রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি মধ্যপ্রাচ্যের পুরো ভূ-রাজনীতির উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। আইরান-ইসলামিক রিপাবলিকের মতো শক্তিধর রাষ্ট্রের নেতৃত্ব কোন পথে যাবে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, তেল মূল্য, আর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

খামেনির অনুপস্থিতি ইরানের জন্য একটি ঐতিহাসিক মোড় — একটি নতুন সময়ের সূচনা বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় একইসঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে যার নাম সবচেয়ে সামনে উঠে এসেছে তিনি হলেন আলি লারিজানি — একজন অভিজ্ঞ, প্রাগম্যাটিক, কিন্তু কঠোর এক রাজনৈতিক নেতা। অনেক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ শক্তি এখন তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে — কোন পথে ইরান যাবে, কে দেবে নেতৃত্ব, এবং দেশের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণকারীরা কীভাবে তাদের ভবিষ্যত গঠন করবে, সেই উত্তরের অপেক্ষা এখনও চলছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।