হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে ইস্তফাই নৈতিকতা? যে প্রশ্নের উত্তর নেই প্রতীক উরের কাছেও

Pratikur Rahman CPM resignation: বারবার যখন চেয়ারের কথা প্রতীক উর বলছেন, তাহলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে চিঠি কেন? রাজ্য সম্পাদককে কেন ইস্তফাপত্র দিলেন না? দলের নীতি নিয়ম অনুযায়ী কি হোয়াটসঅ্যাপে চিঠি দেওয়ার কথা?

inscript
৪ মিনিট
হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে ইস্তফাই নৈতিকতা?  যে প্রশ্নের উত্তর নেই প্রতীক উরের কাছেও

প্রতীক উর রহমানের সিপিএমে ইস্তফাপত্র দেওয়ার পর্বে বারবার প্রশ্ন উঠেছিল, রাজ্য কমিটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দেওয়া চিঠি কী ভাবে বাইরে এল? বাম সমর্থকদের একাংশের পাশপাশি প্রশ্ন তুলেছিলেন স্বয়ং প্রতীক উরও। সেই উত্তরই পাওয়া গেল ইনস্ক্রিপ্টের পডকাস্টে।

২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের বিকেলে লাল ঝান্ডাকে বিদায় জানিয়ে সবুজ শিবিরে নাম লিখিয়েছেন সিপিএমত্যাগী প্রতীক উর রহমান। রাজ্য কমিটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ইস্তফাপত্র দিয়েছিলেন ১৬ ফেব্রুয়ারি। তারপরই তা সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার পর থেকেই প্রতীক উর প্রশ্ন তোলেন, কী ভাবে রাজ্য কমিটির গ্রুপ থেকে চিঠি বাইরে বেরোলো? কুণাল ঘোষ সেই চিঠি কী ভাবে পেলেন? সিপিএমে ঘর-শত্রু বিভীষণ আছেন বলেই ইঙ্গিত করেন প্রতীক উর। তাঁর কথায়, খোচর পুষে রেখেছে সিপিএম।

ইনস্ক্রিপ্ট-এর পডকাস্টে অবশ্য একাধিক অপ্রিয় প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে প্রতীক উরকে। তিনি বারবার বলেছেন, তাঁর অভিযোগ কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়। পদের বিরুদ্ধে, রাজ্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে। ব্যক্তি মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে দেখা হলে, তিনি ক্ষমা চেয়ে নেবেন বলেও জানান। এখানেই ইনস্ক্রিপ্টের প্রশ্ন, বারবার যখন চেয়ারের কথা প্রতীক উর বলছেন, তাহলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে চিঠি কেন? রাজ্য সম্পাদককে কেন ইস্তফাপত্র দিলেন না? দলের নীতি নিয়ম অনুযায়ী কি হোয়াটসঅ্যাপে চিঠি দেওয়ার কথা?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ক্ষমতার অঙ্কে হারিয়ে যাচ্ছে আদর্শ! গণতন্ত্রের সঙ্কট বাড়াচ্ছে দলবদলের রাজনীতি

প্রতীক উর রহমানের দলবদল রাজনীতি সচেতন তরুণ প্রজন্মকেও 'রাজনৈতিক ব্যবস্থা'র প্রতি অবিশ্বাসী করে তুলতে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করবে।

এই প্রশ্নের জবাবে, প্রতীক উর সঠিক ব্যাখ্যা দিতে না পেরে বলেন— সংবিধানে কি লেখা আছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে চিঠি দেওয়া যাবে না? তাছাড়া অতীতে হোয়াটসঅ্যাপ ছিল না বলে যুক্তি তাঁর। কিন্তু গ্রুপের মধ্যে চিঠি দেওয়া মানে তো দলের অন্যান্য সদস্যদের কাছেও নিজের সিদ্ধান্ত তুলে ধরা। এক্ষেত্রে প্রতীক উরের পাল্টা প্রশ্ন, সহকর্মীদের কাছে যন্ত্রণার কথা তুলে ধরা কি অসাংবিধানিক? পদ্ধতি নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলছে না। এখনও পর্যন্ত কেউ প্রশ্ন তোলেনি, বলেন প্রতীক উর।

প্রতীক উরের কথায়, মহম্মদ সেলিমকে তিনি চিঠি দেননি এই আশঙ্কায়— যদি তিনি চিঠি পাননি বলে অস্বীকার করেন। এরপর প্রতীক উরের রাজ্য কমিটিতে চিঠি দেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু তা পার্টির জন্য সম্মানের হতো না বলে মত প্রতীক উরের। তাঁর অভিযোগ কমিউনিস্ট পার্টির গঠনতন্ত্র ভাঙার চেষ্টা হচ্ছে। মার্কসবাদী দলে শ্রেণি হয়েছে। তাই সিপিএম থেকে বেরিয়ে আসা। কিন্তু প্রতীক উর তো আইএসএফ-এর সঙ্গে বামেদের জোট চেয়েছিলেন। যিনি হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে মহম্মদ সেলিমের বৈঠক নিয়ে নীতি নৈতিকতার প্রশ্ন তোলেন, তিনি আব্বাস সিদ্দিকীর মুখের ভাষা ভুলে যান? এ নিয়ে প্রতীক উরের বক্তব্য, আব্বাস সিদ্দিকীকে দেখে আইএসএফ চলে না। এই দলের সমর্থকরা তাঁর শ্রেণির লোক। খেটে খাওয়া, মেহনতি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। তাহলে প্রতীক উর আইএসএফ-এ গেলেন না কেন? কিছুটা রহস্য রেখে এই প্রশ্নের উত্তরে সদ্য সিপিএম ত্যাগী তৃণমূল নেতা বলেন,

আগে নওশাদ কেন ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে দাঁড়াল না? উত্তর পেলে আইএসএফ-এ যেতাম। অন্য কোনো দলের নাম নিয়ে তুমি আরেকটা দলকে সুবিধা দেবে; আমি এর মধ্যে নেই।

বামেরা বলছেন প্রতীক উর রহমান ক্লোজড চ্যাপ্টার। ‘গদ্দার’ শব্দও কেউ কেউ ব্যবহার করেছেন তাঁকে আক্রমণ করতে গিয়ে। প্রতীক উর অবশ্য বলছেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কংগ্রেস ছেড়েছিলেন, বেটার অপশন খুঁজেছিলেন। তাই নেতাজির অবলম্বন করা পথ যদি ভুল না হয়, প্রতীক উরের অবলম্বন করা পথও ভুল নয়। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। ভবিষ্যতে তৃণমূল যদি বিজেপির সঙ্গে হাত মেলায়? তখনও কি তাহলে প্রতীক উর দলত্যাগী হবেন? যদিও জোড়াফুল পতাকা হাতে নেওয়া থেকেই তিনি সমানে আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছেন সিপিএমের বিরুদ্ধে। SIR ইস্যু হোক বা কেরালার নাম বদলালে পশ্চিমবঙ্গ কেন ‘বাংলা’ হচ্ছে না? সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন প্রতীক উর রহমান। তাঁর আক্রমণের তীর বামেদের দিকে, তারই সঙ্গে বিজেপির সঙ্গে সিপিএমের সেটিংয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার আগে বিজেমুল সেটিং বলতেন অবশ্য।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।