হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে ইস্তফাই নৈতিকতা? যে প্রশ্নের উত্তর নেই প্রতীক উরের কাছেও
Pratikur Rahman CPM resignation: বারবার যখন চেয়ারের কথা প্রতীক উর বলছেন, তাহলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে চিঠি কেন? রাজ্য সম্পাদককে কেন ইস্তফাপত্র দিলেন না? দলের নীতি নিয়ম অনুযায়ী কি হোয়াটসঅ্যাপে চিঠি দেওয়ার কথা?
প্রতীক উর রহমানের সিপিএমে ইস্তফাপত্র দেওয়ার পর্বে বারবার প্রশ্ন উঠেছিল, রাজ্য কমিটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দেওয়া চিঠি কী ভাবে বাইরে এল? বাম সমর্থকদের একাংশের পাশপাশি প্রশ্ন তুলেছিলেন স্বয়ং প্রতীক উরও। সেই উত্তরই পাওয়া গেল ইনস্ক্রিপ্টের পডকাস্টে।
২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের বিকেলে লাল ঝান্ডাকে বিদায় জানিয়ে সবুজ শিবিরে নাম লিখিয়েছেন সিপিএমত্যাগী প্রতীক উর রহমান। রাজ্য কমিটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ইস্তফাপত্র দিয়েছিলেন ১৬ ফেব্রুয়ারি। তারপরই তা সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার পর থেকেই প্রতীক উর প্রশ্ন তোলেন, কী ভাবে রাজ্য কমিটির গ্রুপ থেকে চিঠি বাইরে বেরোলো? কুণাল ঘোষ সেই চিঠি কী ভাবে পেলেন? সিপিএমে ঘর-শত্রু বিভীষণ আছেন বলেই ইঙ্গিত করেন প্রতীক উর। তাঁর কথায়, খোচর পুষে রেখেছে সিপিএম।
ইনস্ক্রিপ্ট-এর পডকাস্টে অবশ্য একাধিক অপ্রিয় প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে প্রতীক উরকে। তিনি বারবার বলেছেন, তাঁর অভিযোগ কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়। পদের বিরুদ্ধে, রাজ্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে। ব্যক্তি মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে দেখা হলে, তিনি ক্ষমা চেয়ে নেবেন বলেও জানান। এখানেই ইনস্ক্রিপ্টের প্রশ্ন, বারবার যখন চেয়ারের কথা প্রতীক উর বলছেন, তাহলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে চিঠি কেন? রাজ্য সম্পাদককে কেন ইস্তফাপত্র দিলেন না? দলের নীতি নিয়ম অনুযায়ী কি হোয়াটসঅ্যাপে চিঠি দেওয়ার কথা?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রতীক উর রহমানের দলবদল রাজনীতি সচেতন তরুণ প্রজন্মকেও 'রাজনৈতিক ব্যবস্থা'র প্রতি অবিশ্বাসী করে তুলতে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করবে।
এই প্রশ্নের জবাবে, প্রতীক উর সঠিক ব্যাখ্যা দিতে না পেরে বলেন— সংবিধানে কি লেখা আছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে চিঠি দেওয়া যাবে না? তাছাড়া অতীতে হোয়াটসঅ্যাপ ছিল না বলে যুক্তি তাঁর। কিন্তু গ্রুপের মধ্যে চিঠি দেওয়া মানে তো দলের অন্যান্য সদস্যদের কাছেও নিজের সিদ্ধান্ত তুলে ধরা। এক্ষেত্রে প্রতীক উরের পাল্টা প্রশ্ন, সহকর্মীদের কাছে যন্ত্রণার কথা তুলে ধরা কি অসাংবিধানিক? পদ্ধতি নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলছে না। এখনও পর্যন্ত কেউ প্রশ্ন তোলেনি, বলেন প্রতীক উর।
প্রতীক উরের কথায়, মহম্মদ সেলিমকে তিনি চিঠি দেননি এই আশঙ্কায়— যদি তিনি চিঠি পাননি বলে অস্বীকার করেন। এরপর প্রতীক উরের রাজ্য কমিটিতে চিঠি দেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু তা পার্টির জন্য সম্মানের হতো না বলে মত প্রতীক উরের। তাঁর অভিযোগ কমিউনিস্ট পার্টির গঠনতন্ত্র ভাঙার চেষ্টা হচ্ছে। মার্কসবাদী দলে শ্রেণি হয়েছে। তাই সিপিএম থেকে বেরিয়ে আসা। কিন্তু প্রতীক উর তো আইএসএফ-এর সঙ্গে বামেদের জোট চেয়েছিলেন। যিনি হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে মহম্মদ সেলিমের বৈঠক নিয়ে নীতি নৈতিকতার প্রশ্ন তোলেন, তিনি আব্বাস সিদ্দিকীর মুখের ভাষা ভুলে যান? এ নিয়ে প্রতীক উরের বক্তব্য, আব্বাস সিদ্দিকীকে দেখে আইএসএফ চলে না। এই দলের সমর্থকরা তাঁর শ্রেণির লোক। খেটে খাওয়া, মেহনতি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। তাহলে প্রতীক উর আইএসএফ-এ গেলেন না কেন? কিছুটা রহস্য রেখে এই প্রশ্নের উত্তরে সদ্য সিপিএম ত্যাগী তৃণমূল নেতা বলেন,
আগে নওশাদ কেন ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে দাঁড়াল না? উত্তর পেলে আইএসএফ-এ যেতাম। অন্য কোনো দলের নাম নিয়ে তুমি আরেকটা দলকে সুবিধা দেবে; আমি এর মধ্যে নেই।
বামেরা বলছেন প্রতীক উর রহমান ক্লোজড চ্যাপ্টার। ‘গদ্দার’ শব্দও কেউ কেউ ব্যবহার করেছেন তাঁকে আক্রমণ করতে গিয়ে। প্রতীক উর অবশ্য বলছেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কংগ্রেস ছেড়েছিলেন, বেটার অপশন খুঁজেছিলেন। তাই নেতাজির অবলম্বন করা পথ যদি ভুল না হয়, প্রতীক উরের অবলম্বন করা পথও ভুল নয়। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। ভবিষ্যতে তৃণমূল যদি বিজেপির সঙ্গে হাত মেলায়? তখনও কি তাহলে প্রতীক উর দলত্যাগী হবেন? যদিও জোড়াফুল পতাকা হাতে নেওয়া থেকেই তিনি সমানে আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছেন সিপিএমের বিরুদ্ধে। SIR ইস্যু হোক বা কেরালার নাম বদলালে পশ্চিমবঙ্গ কেন ‘বাংলা’ হচ্ছে না? সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন প্রতীক উর রহমান। তাঁর আক্রমণের তীর বামেদের দিকে, তারই সঙ্গে বিজেপির সঙ্গে সিপিএমের সেটিংয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার আগে বিজেমুল সেটিং বলতেন অবশ্য।






