রাজার খাস লোক পরিচয়ে চার মাসে ২৩ লক্ষ টাকা বিল হোটেলে, তারপর যা করলেন এই ব্যক্তি
Delhi hotel theft : এক, দুই লাখ নয়, বাকি টাকার পরিমাণ প্রায় ২৩ লাখ টাকা! কার্যত মাথায় হাত হোটেল কর্তৃপক্ষের।

পাঁচ তারা হোটেলের ঝাঁ চকচকে ঘর, এলাহি খাবার দাবার, সুইমিং পুল। একবার ডাক দিলেই হাতের সামনে হাজির হয়ে যাচ্ছে সব। আর হবে নাই বা কেন! খোদ ইউএই বা সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর রাজ পরিবারের সঙ্গে যুক্ত এক ‘অতিথি’ এসেছেন! বিশেষ কাজে ভারতে কয়েক মাস ধরে রয়েছেন। হঠাৎই একদিন বিলাসবহুল সেই হোটেলে শোরগোল। সেই ‘বিশেষ অতিথি’কে খুজেই পাওয়া যাচ্ছে না! গোটা হোটেল তন্নতন্ন করে খুঁজেও তাঁর টিকিটিও পেলেন না হোটেল কর্মচারী ও কর্তারা। ব্যাগপত্র নিয়ে একেবারে হাওয়া! এমনকী, হোটেলে থাকার বিল বাকি পড়ে আছে! এক, দুই লাখ নয়, বাকি টাকার পরিমাণ প্রায় ২৩ লাখ টাকা! কার্যত মাথায় হাত হোটেল কর্তৃপক্ষের।
দিল্লির বিলাসবহুল লীলা প্যালেস ফাইভ স্টার হোটেলের এমন ঘটনা রীতিমতো হকচকিয়ে দিয়েছে পুলিসকে। কেউ কেউ মুচকি হাসিও হাসছেন। এভাবে বোকা বানিয়ে কেউ চলে যাবে, ভাবেনি হোটেল কর্তৃপক্ষ। তাও সেটা দেশের অন্যতম ঝাঁ চকচকে, বিলাসবহুল, রাজকীয় হোটেল। সেখানেই এমন ঘটনা! কিন্তু হয়েছিল কী?
২০২২ সালের ১ আগস্ট লীলা প্যালেস হোটেলে এক ব্যক্তি চেকইন করেন। রেকর্ড বুক বলছে, তাঁর নাম মহম্মদ শরিফ। হোটেলের কর্মচারী, রিসেপশনিস্ট সবার সঙ্গে ভাব করে নেন। কথায় কথায় বলেন, তিনি আসলে আরব আমিরশাহীতে থাকেন। সেখানকার রাজ পরিবারের সদস্য শেখ ফালাহ বিন জায়েদ আল নাহয়ানের অধীনে কাজ করেন। এও বলেন, তিনি রাজ পরিবারের অত্যন্ত কাছের, বিশ্বস্ত এক ব্যক্তি। তাঁদের সঙ্গে নিত্যদিনের ওঠাবসা। প্রমাণ হিসেবে নিজের ‘বিজনেস কার্ড’ ও অন্যান্য ছবি, নথি দেখান। আরব আমিরশাহীর বাসিন্দা হওয়ার ‘প্রমাণ’ও দেখান। যদিও পুলিশের ধারণা, এই সমস্ত নথি নকল। আপাতত সমস্ত ডকুমেন্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যাই হোক, সেই নথি দেখিয়েই বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেন শরিফ। হোটেলের ৪২৭ নম্বর ঘরে চেকইন করেন। ২০২২ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০ নভেম্বর – টানা চার মাস সেই হোটেলে থাকেন তিনি। লীলা প্যালেস হোটেলের মতো রাজকীয় জায়গায় চার মাস থাকা মানে বিলও হবে পাহাড় প্রমাণ! হঠাৎই ২০ নভেম্বর দেখা যায়, মহম্মদ শরিফ হোটেল থেকে হাওয়া! কাউকে কিছু না বলেই হোটেল থেকে উধাও হয়ে গিয়েছেন তিনি। ব্যাগপত্র কিচ্ছু নেই। শুধু তাই নয়, হোটেলের বেশকিছু জিনিসও উধাও! দেখা যায়, তাঁর বিল হয়েছিল ৩৫ লাখ টাকা। তার মধ্যে সাড়ে ১১ লাখ টাকা আগেই দিয়ে দিয়েছিলেন শরিফ। বাকি প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ টাকা না দিয়েই ভ্যানিশ হয়ে গিয়েছেন তিনি!
ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ ওই ব্যক্তিকে খুঁজছে। আদৌ তাঁর নাম শরিফ কিনা, সেটা নিয়েও সন্দিহান সবাই। এর আগেও কি এমন কাজ করেছেন ওই ব্যক্তি? জোর সন্দেহ দিল্লি পুলিশের।















