তীব্র গরমে রেকর্ড বিক্রি এসির, তাড়াহুড়োয় কিনতে গিয়ে যে ভুল করেছেন অজান্তেই
Air Conditioners: আর কিছুতেই পারছেন না গরমের সঙ্গে যুঝতে? এক্ষুনি এসি কেনার কথা ভাবছেন? যা জেনে রাখা জরুরি

তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই, এ যেন পৌরাণিক কোনও চরিত্রের ক্রোধের আগুন অথবা কোনও সত্যিকারের আগ্নেয়গিরি! তফাৎ করা কার্যতই মুশকিল। তবে জীবন যুদ্ধ তো থেমে নেই, থেমে থাকা সম্ভবও নয়। মানুষ ছুটছে নিজের গতিতে। প্রতিনিয়ত মুখোমুখি সংগ্রাম জারি থাকছে সূর্যের সঙ্গে। নিজের প্রয়োজনে মানুষ এককালে যেভাবে ধ্বংস করেছে প্রকৃতিকে, তার সবটুকু আজ সুধে আসলে ফিরিয়ে দিচ্ছে প্রকৃতিও। আর তার জের সামলাতে আরও আরও ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে গোটা প্রজন্ম।
শেষ কয়েকদিনের হিসেব বলছে, ভিড় সামলানো দায় কলকাতার সমস্ত ছোট বড়ো ইলেকট্রনিক্সের দোকানে। শহরতলীর ছবিটাও একই রকম। এসির কাউন্টারে যেন মাছি গলবার জায়গাটুকুও নেই। সিনেমা হলে যেমন হাউসফুল ট্যাগ লাগানো থাকে, এসুর দোকানেও তেমনই শাটার ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বিক্রেতারা। না খেয়ে হলেও এসি কিনছে মানুষ। তার ওপর এসেছে হালফিলের কিছু ই এম আই সুবিধা, ফলে ঘরে ঘরে এসি কেনার ধুম। কিন্তু জানেন কি এই এতগুলো টাকা শ্রাদ্ধ করে তড়িঘড়ি যে এসি কিনে ফেলেছেন তাতে কোনও ফাঁক থেকে যাচ্ছে না তো?
আসুন জেনে নেওয়া যাক, এসি কেনার আগে ঠিক কোন কোন বিষয়গুলি মাথায় রাখা জরুরি।
ঘরের আকার - নতুন এসি কেনার আগে অবশ্যই ঘরের আকার বিবেচনা করা জরুরি। ঘরের মোট পরিমাণ যদি কম বেশি ১০০ থেকে ১২০ বর্গ ফুট এর মধ্যে হয় তবে ১ টন এসি কিনলেই হবে। কিন্তু যদি আপনার ঘর হয় তার থেকে বড় তাহলে সেই রেশিও মাথায় রেখে প্রয়োজনে দেড় থেকে ২ টন পরিমাণের এসি কিনতে হবে অন্যথায় এসির উপর অহেতুক চাপ পড়বে যার জেরে খুব তাড়াতাড়ি বিকল হয়ে যেতে পারে এতো টাকা দামী যন্ত্র।
উইন্ডো নাকি স্প্লিট এসি : উইন্ডো এসির তুলনায় স্প্লিট এসি-তে অনেক বেশি বৈশিষ্ট্য থাকে। তবে স্প্লিট এসির দামও বেশি। স্প্লিট এসি যে কোনও ঘরে সহজেই লাগানো যায়। অন্যদিকে ঘরে উইন্ডো এসি বসাতে হলে জানালা থাকা দরকার। স্প্লিট এসি-তে, অনবোর্ড স্লিপিং, টার্বো কুলিং-সহ অনেক বৈশিষ্ট্য থাকে। ফলে আপনার ঘর এবং পকেটের সঙ্গে সঠিক সমঝোতা করতে কোন এসি প্রয়োজন তা কেনার আগেই সিদ্ধান্ত নিন।
কোম্পানির রিভিউ : এসি কোম্পানির রিভিউ ও সুনামের দিকে অবশ্যই খেয়াল করবেন। পুরনো কিছু নামী কোম্পানির ক্ষেত্রে বিশ্বাসের ভিত মজবুত হয়। শুধু তাই নয় এ বিষয়ে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন। ভালো করে জেনে নিন ঠিক কোন কোম্পানির এসির ক্ষেত্রে সার্ভিস ভালো এবং কোনও কিছু খারাপ হলে সহজেই মোকাবিলা সম্ভব। সেই মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিন। মাথায় রাখবেন একবার কেনা হয়ে গেলে কিন্তু ফেরার পথ থাকবে না।
এয়ার ফিল্টারসহ এসি : এসি কেনার সময়ে দেখে নিন এতে এয়ার ফিল্টার আছে কি না। এই জাতীয় ফিল্টার থাকলে তা বেশি ভালো হয় অবশ্যই। অনেক এসি-তে গন্ধের ফিল্টার এবং অ্যান্টি ব্যাকটিরিয়াল ফিল্টারও থাকে। দাম বেশি হলেও এই সব ফিল্টারসহ এসি কিনলে বাড়তি সুবিধা পাবেন। এবং বেশিদিন টেকসই হবে।
কোন কয়েল : বর্তমানে এসি কিনতে গেলে দোকানের কর্মচারীরাও আপনাকে বলে দেবে কপার কয়েল অর্থার তামার কয়েল লাগানো এসি কেনার কথা। আসলে তোমার ক্ষেত্রে তড়িৎ প্রবাহ বেশি বলে অন্য ধাতুর কয়েলের এসির থেকে তামার কয়েলের এসি কিনলে তা ভবিষ্যতের জন্য ভালো। আর স্টার এর হিসেবটা দেখে নিতে ভুলবেন না। খেয়াল রাখবেন যত বেশি স্টার তত কম বিদ্যুতের খরচ।
তবে এই এতকিছুর পরও সবথেকে বেশি জরুরি হল প্রকৃতির খেয়াল রাখা। অবাধে গাছ কাটা, পুকুর বোজানোর বিরুদ্ধে সরব না হলে আপনার ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অন্ধকার ডেকে আনার দায় বর্তাবে আপনার মাথার ওপরেও।















